বিজেপির মণিপুর সংকট কাটল, ইস্তফা দেওয়া মন্ত্রীদের দফতরে ফেরালেন মুখ্যমন্ত্রী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: হঠাৎ করেই গত মাসে আন্দোলিত হয়ে গিয়েছিল উত্তর-পূর্বের রাজনীতি। বিজেপি শাসিত মণিপুরে হঠাৎই সরকার পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় হইচই পড়ে গিয়েছিল জাতীয় রাজনীতিতেও। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের তৎপরতা, এনপিপি নেতা করনাড সাংমার দিল্লি পর্যন্ত ছোটাছুটি, অমিত শাহ-জেপি নাড্ডাদের সঙ্গে বৈঠক, অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ময়দানে নামা—এসবের পর অবশেষে সংকট কাটল মণিপুরে। বেরিয়ে যাওয়া মন্ত্রীদেরও রাগ গলে জল। তাঁদের নিজেদের দফতরে পুনর্বহাল করলেন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং।

    উপমুখ্যমন্ত্রী ওয়াই জয়কুমার সিংও ইস্তফা দিয়েছিলেন। তাঁকে ফের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে ফেরানো হয়েছে। আগে তিনি অর্থ দফতরেরও দায়িত্বে ছিলেন। তাঁকে সেই অর্থ দফতরের পাশাপাশি বিজ্ঞান-প্রযুক্তি দফতরের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং নিজের হাতে বেশ কিছু দফতর রেখেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পর্যটন, অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রক রয়েছে। তা ছাড়াও লেটপাও হাওকিপ, এন কায়িসিদেরও দফতরে পুনর্বহাল করা হয়েছে।

    ৬০ আসনের মণিপুর বিধানসভায় বিজেপি ও এনপিপি মিলিয়ে মোট সংখ্যা ২৯। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও বিজেপির বীরেন সিংয়ের নেতৃত্বেই সরকার চলছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল গায়ের জোরে, টাকার জোরে বিজেপি ক্ষমতা দখল করে রেখেছে।

    ১৭ জুন থেকে ইস্তফা পর্ব শুরু হয়। বিধায়কদের পর তিন মন্ত্রীও ইস্তফা দিয়ে দেন। বিজেপির তিন বিধায়ক যোগ দেন কংগ্রেসের। এরপর কংগ্রেসের তরফে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম ইবোবি সিং রাজ্যপালের কাছে গিয়ে সরকার গড়ার দাবি জানান। কাকতালীয় ভাবে তারপরই, দুর্নীতি মামলায় তাঁকে জেরা করতে সিবিআই টিম পৌঁছে যায় মণিপুরে। কংগ্রেস অভিযোগ করে, সরকার বাঁচাতে তদন্ত এজেন্সিকে লেলিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।

    এহেন টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা উত্তর-পূর্বের অন্যতম ক্ষমতাশালী বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা মন্তব্য করেন ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।’ মণিপুর পৌঁছলে কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা গৌরব গগৈ ও অজয় মাকেনকে কোয়ারেন্টাইন করে দেয় স্বাস্থ্য দফতর। কংগ্রেস অভিযোগ করে, জবরদস্তি বন্দি রাখা হয়েছে তাঁদের নেতাদের। যাতে তাঁরা বিধায়কদের সঙ্গে কথা না বলতে পারেন।

    ইস্তফা পর্বের পর যখন বিজেপি-এনপিপি জোটের বিধায়ক সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ১৮টিতে তখনই দেখা যায় রাজ্যসভার ভোটে বিজেপি প্রার্থী ২৭টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তখনই অনেকে আন্দাজ করেছিলেন, বিজেপি নির্ঘাত খেলা ঘোরাতে শুরু করেছে। তারপরই দেখা যায় দিল্লি দরবারে বিদ্রোহীদের নিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন সাংমা। অবশেষে সংকট কাটল মণিপুরে। মন্ত্রিসভায় ফিরলেন বিক্ষুব্ধরা। স্বস্তি গেরুয়া শিবিরে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More