পরিযায়ী শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হোক, কেন্দ্রের কাছে দাবি মমতার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিযায়ী শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এককালীন ১০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সাত সকালে টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পিএম কেয়ারস ফান্ড থেকে পরিযায়ী এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের আর্থিক সুরাহা দিতে এই টাকা দিক কেন্দ্রীয় সরকার।

    কোভিডের সংক্রমণ অর্থনীতিকে ধাক্কা দেওয়ার পর থেকেই অর্থনীতিবিদদের একটা বড় অংশ বলছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গরিবের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো ভাল দাওয়াইয়ের কাজ করতে পারে। তাতে গরিবের যেমন সংকটমোচন হবে, তেমনই বাজারে চাহিদাও তৈরি হবে। লোকসভা ভোটের আগের রাহুল গান্ধী যে ন্যায় প্রকল্পের প্রস্তাব রেখেছিলেন, তারও মূল শর্ত ছিল তাই।

    এখন প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী নতুন করে সেই দাবি কেন জানালেন? এর কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টুইটে নেই। তবে বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের ব্যর্থতা ঢাকতে এই দাবি করছেন মুখ্যমন্ত্রী। শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনকে করোনা এক্সপ্রেস বলে মন্তব্য করায় বিপুল সংখ্যক মানুষের মনে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তাকেই ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজেপি-র এও বক্তব্য, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে একটা বড় অংশ হলেন সংখ্যালঘু। করোনা এক্সপ্রেসের কথা বলে তাঁদের চটিয়ে ফেলার পর এ বার হয়তো পরিত্রাণের পথ খোঁজার চেষ্টা করছেন উনি।

    পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফেরানোর প্রশ্নে রাজ্য সরকারের অবস্থান নিয়ে শুরু থেকেই একটা ধন্ধ তৈরি হয়েছিল। তা ছাড়া রাজ্যের তামাম বিরোধী দলের অভিযোগ ছিল, বাংলার লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর ব্যাপারে নবান্ন কোনও গা করছে না।

    রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল একাধিকবার টুইট করে বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের তরফে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের জন্য রেল ভবনে কোনও রিকুইজিশন দেওয়া হচ্ছে না। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলার শ্রমিকরা আটকে রয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করে মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, ভিন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের ফেরানো না হলে তাঁদের প্রতি চূড়ান্ত অবিচার করা হবে। শুধু তাই নয়, লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরীও এ নিয়ে রেলমন্ত্রক এবং রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত দৌড়ঝাঁপ করেন। বহরমপুরের সাংসদের অভিযোগ ছিল, শ্রমিকদের ফেরানোর ব্যাপারে রাজ্য সরকার নিযুক্ত নোডাল অফিসারকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না।

    এসব চাপানউতোরের পর পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে ট্রেন ঢোকা শুরু হয়েছে বাংলায়। কিন্তু তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী গত সপ্তাহে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রকে দুষে বলেন, শ্রমিক এক্সপ্রেসের বদলে ‘করোনা এক্সপ্রেস’ ঢোকানো হচ্ছে বাংলায়। তার পাল্টা সোমবার সংবাদ মাধ্যমে অমিত শাহ বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে মাফ করবেন না বাংলার শ্রমিকরা।

    রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এই লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে সংখ্যালঘু ভাইদের সংখ্যাও প্রচুর। তাঁদের বাড়ি ফেরার ট্রেনকে করোনা এক্সপ্রেস বলার পরে ব্যুমেরাঙ হয়েছে বুঝতে পেরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দাবি তুলেছেন। ভুলে গেলে চলবে না, পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক পদক্ষেপ করেছে। ১০০ দিনের কাজের বরাদ্দ ৬০ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লক্ষ এক হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। যাতে রাজ্যগুলি এক্ষুণি পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিকল্প বন্দোবস্ত করতে পারে। তাছাড়া দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে পরিকাঠামো গড়া এবং এমএসএমই সেক্টরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাতে স্থানীয় ভাবে এই লক্ষ লক্ষ শ্রমিকদের রুটিরুজির ব্যবস্থা হয়। সেকারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লোকালের জন্য ভোকাল হওয়ার কথা বলেছেন।” সায়ন্তন আরও বলেন, “মৌলিক প্রশ্ন হল তাহলে রাজ্য সরকার কী করবে? রাজ্যে কাজের সুযোগ নেই বলেই তো এত লক্ষ শ্রমিক বাইরের রাজ্যে কাজে গিয়েছেন। দশ বছর ক্ষমতায় থেকে মুখ্যমন্ত্রী সেই ব্যবস্থা বাংলায় করতে পারেননি। সেই ব্যর্থতা স্বীকার করে নিন তাহলে।”

    যদিও এ ব্যাপারে তৃণমূলের বক্তব্য, মমতা যে দাবি তুলেছেন সেটা শুধু বাংলার শ্রমিকদের জন্য নয়। সারা দেশের শ্রমিকদের জন্য। তা ছাড়া শাসকদলের আরও বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পনা না করেই শ্রমিকদের ফেরত পাঠাচ্ছে। এর ফলে সব রাজ্যে প্রভাব পড়ছে। সংক্রমণ বাড়ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More