সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

কোথায় ছোঁবে চাঁদের মাটি, ঠিক জায়গাটি বেছে নিল ‘বিক্রম’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অরবিটার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চাঁদের মাটিতে কোথায় নামবে ল্যান্ডার বিক্রম সেই নিয়েই চলছিল জল্পনা। অবশেষে নামার উপযুক্ত সমতল জায়গা খুঁজে পেয়েছে ল্যান্ডার, এমনটাই জানিয়েছেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন।

ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর অরবিটার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে ক্যামেরায় চাঁদের ছবি তুলে যাচ্ছিল বিক্রম। তার একমাত্র কারণ ছিল, চাঁদে নামার জন্য উপযুক্ত জায়গা খোঁজা। এই মুহূর্তে চাঁদ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বিক্রম। ল্যান্ডার থেকে পাঠানো সেইসব ছবি দেখে অবশেষে একটা উপযুক্ত জায়গা খঁজে পেয়েছে ইসরো।

জানা গিয়েছে, দুটি ক্রেটার বা গহ্বরের মাঝে অর্থাৎ ম্যানজিমাস সি ও সিমপেলিয়াস এন-এর মধ্যে অবতরণ করবে ল্যান্ডার বিক্রম। শক্রবার গভীর রাত দেড়টা নাগাদ শুরু হবে এই ল্যান্ডিং-এর প্রক্রিয়া। ল্যান্ডারের চারটি ইঞ্জিন এই সময় বন্ধ হয়ে যাবে। শুধুমাত্র সেন্ট্রাল ইঞ্জিন কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে। এই সময় ল্যান্ডারের গতিবেগ একদম কমে গিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ১.৬ কিলোমিটার হবে বলে জানিয়েছে ইসরো। ১৫ মিনিটের আতঙ্ক কাটিয়ে তবেই অবশেষে চাঁদে পা দেবে ল্যান্ডার বিক্রম।

ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, লুনার গ্লোব অনুযায়ী এই অবতরণের জায়গা ৭০.৯ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষরেখা ও ২২.৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যে অবস্থিত। ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন আরও জানিয়েছেন, যেই মাত্র বিক্রম চাঁদের মাটি ছোঁবে, তখনই তাতে লাগানো সেন্সরের মাধ্যমে মাটি থেকে ল্যান্ডারের উচ্চতা বোঝা যাবে। চাঁদের দক্ষিণ মেরু থেকে এই জায়গার দূরত্ব প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এটাই কোনও দেশের পাঠানো চন্দ্রযানের দক্ষিণ মেরুর সবথেকে কাছে অবতরণ হতে চলেছে বলেই জানানো হয়েছে। বাকি তিন দেশ অর্থাৎ আমেরিকা, রাশিয়া ও চিন তাঁদের চন্দ্রযানকে চাঁদের অপেক্ষাকৃত সহজ জায়গা ইকুইটোরিয়াল বেল্ট-এর কাছে অবতরণ করিয়েছিল।

জানা গিয়েছে, ল্যান্ডার অবতরণ করার পর প্রায় দু’ঘণ্টা তার মধ্যেই থাকবে রোভার প্রজ্ঞান। এই সময়ের মধ্যে চাঁদের আকাশে ধুলো ওড়া বন্ধ হলে ল্যান্ডারের পেট থেকে বেরিয়ে আসবে রোভার। তারপর শুরু হবে রোভারের আসল কাজ। দক্ষিণ মেরুর উদ্দেশে যাত্রা করবে সে। ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ল্যান্ডার ও রোভার একে অন্যের ছবি তুলে পাঠাবে ইসরোকে।

Comments are closed.