ইসরো নিয়ে এত যে কটাক্ষ, মহাকাশে কী করেছে পাকিস্তান!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো:  ল্যান্ডার বিক্রম চাঁদের বুকে পা দেওয়ার আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে কটাক্ষ করছে পাকিস্তান। এই কটাক্ষ শুরু করেছেন পাকিস্তানের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী চৌধুরী ফাওয়াদ হুসেইন। কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, একটা অভিযানের জন্য ৯০০ কোটি টাকা খরচ না করে সেই টাকা ভারতের মানুষের গরিবি দূর করার জন্য খরচ করতে পারত সরকার। পাক মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণার দিকে আঙুল তুলছেন ভারতের মানুষ।

    ঠিক কী অবস্থায় আছে পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা? এখনও অবধি কী তার সাফল্যের খতিয়ান? দেখে নেওয়া যাক।

    পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার নাম স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন ( সুপারকো )। ইসরো তৈরি হওয়ার প্রায় ১০ বছর আগে ১৯৬১ সালে তৈরি হয় এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। এমনকী চিনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার থেকেও পুরনো এই সংস্থা। কিন্তু তৈরি হওয়ায় সার, পরের ৫০ বছরে এই সংস্থা কিছুই করে উঠতে পারেনি। ২০১১ সালে প্রথম স্যাটেলাইট পাঠায় পাকিস্তান। তাও আবার নিজের প্রযুক্তিতে নয়। চিনের লঞ্চপ্যাড থেকে এই স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাতে হয়েছিল পাকিস্তানকে।

    অথচ সুপারকোর প্রায় ১০ বছর পরে তৈরি হলেও ইতিমধ্যেই মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে একটা উল্লেখযোগ্য নাম ইসরো। ইতিমধ্যেই ভারতের লঞ্চপ্যাড থেকে মহাকাশের স্যাটেলাইট পাঠানোতে রেকর্ড গড়েছে ইসরো। ২০১৭ সালে একটি মাত্র রকেট বাহুবলীর সাহায্যে একবারে ১০৪টি স্যাটেলাইট লঞ্চ করেছিল ইসরো। বর্তমানে বিশ্বের একাধিক দেশ নিজেদের তৈরি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানর ক্ষেত্রে ইসরোর লঞ্চপ্যাড ব্যবহার করে।

    কিন্তু পাকিস্তানের এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থার কেন এত দূরবস্থা?

    গত ৫৮ বছর ধরে এই সংস্থা মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনও সাফল্যই পায়নি সুপারকো। তার অন্যতম কারণ ‘ফান্ডিং’। গত কয়েক দশকে একদিকে যখন ইসরোকে গবেষণা চালানোর জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে, অন্যদিকে সুপারকোর উন্নতির জন্য টাকা দেয়নি পাক সরকার। এমনকী ৮০-৯০ এর দশকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়া উল হক সুপারকোর জন্য বরাদ্দ সব টাকা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

    পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আর একটি প্রতিবন্ধকতার কারণ হলো সংখ্যালঘুদের সযোগ না দেওয়া। অনেক দক্ষ বিজ্ঞানী শুধুমাত্র সংখ্যালঘু হওয়ার জন্য সুযোগ পাননি সেখানে। পরবর্তীকালে তাঁরা অন্য দেশে মহাকাশ গবেষণায় কাজ করেছেন। এ ছাড়াও সবকিছু দেখভালের জন্য বিজ্ঞানীদের মাথার উপর সেনা প্রধানদের বসিয়ে দিয়েছে পাক সরকার। এর ফলে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা পেয়েছে সুপারকো।

    পাকিস্তানে অল্পবয়স থেকে ছেলেমেয়েদের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে উৎসাহ দেওয়ার অভাব রয়েছে। গোটা দেশের হাতে গোণা কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে মহাকাশ গবেষণার বিষয়ে পড়ানো হয়। ফলে ছোটবেলা থেকে তাদের মধ্যে সেই আগ্রহ তৈরি হয় না।

    আর তার মধ্যে বর্তমান পাক বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী তাঁদের দেশের গবেষণা সংস্থাকে হাসির পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন। তিনি জানেনই না এখনও অবধি তাঁরা কী সাফল্য পেয়েছেন। তিনি তো এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারের সময় এও বলে দিয়েছিলেন, মহাকাশে পাঠানো এখনও পর্যন্ত বৃহত্তম টেলিস্কোপ ‘হাবল টেলিস্কোপ’ নাকি সুপারকো পাঠিয়েছে। কিন্তু আদতে সেটি পাঠিয়েছে নাসা। তিনি আরও দাবি করেছেন, ২০২২ সালের মধ্যে মহাকাশে মানুষ পাঠাবে পাকিস্তান।

    তবে সুপারকোর এই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, মহাকাশ গবেষণা এমন একটা বিষয়, সেখানে কোনও অভিযানের আগে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়। অভিযান সফল হলে অবশ্যই তার লাভ হয়। কিন্তু এটা বরাবরই ঝুঁকির ব্যাপার। আমেরিকা, চিন, রাশিয়া, ব্রিটেন ও বর্তমানে ভারতও এই মহাকাশ গবেষণায় যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে তার সিকিভাগও করে না পাকিস্তান। আর তাই পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণার এই অবস্থা। পাকিস্তানের উচিত ভারতকে কটাক্ষ না করে নিজেদের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে উন্নতির চেষ্টা করা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More