সাপের ছোবলে মরবে না একটিও শিশু, স্কুলে স্কুলে চিকিৎসা-বিধি শেখাচ্ছে কেরলের এই জেলা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো:  ক্লাসের মধ্যেই সাপে কেটেছিল ক্লাস ফাইভের ফুটফুটে শেহেলাকে। আমলই দিতে চাননি শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ভেবেছিলেন নখের আঁচড়। ছটফট করতে করতে ক্লাসেই জ্ঞান হারিয়েছিল  মেয়েটা। তারপর মৃত্যু। কেরলের ওয়ানাড় জেলার এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হয়। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সাপের ছোবলে যাতে একটিও শিশুর মৃত্যু না হয় তার জন্য ‘স্নেকবাইট প্রোটোকল’ বানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। এরনাকুলাম জেলাশাসক এস সুহাসের তত্ত্বাবধানে স্কুলে স্কুলে সেই নির্দেশিকা পাঠানোর ব্যবস্থাও হয়েছে।

    জেলাশাসকের নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন, স্কুল শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাপ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল তৈরি করা হয়েছে। এরনাকুলামের প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করবে এই দল। সাপে কাটলে কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু করতে হয় সেটা শেখানো হবে এলাকাবাসীকে। চিকিৎসা-বিধির পাঠ দেওয়া হবে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের। জেলাশাসক বলেছেন, সাপে কামড়ানোর ওষুধ ‘অ্যান্টি স্নেক ভেনাম সেরাম’ (এভিএস) প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্তর থেকে মজুত রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেটা বহু ক্ষেত্রেই হয় না। হাজার-হাজার টাকার এই জীবনদায়ী ওষুধ রোগী বাইরে থেকে কিনতে না-পারলে মৃত্যু অবধারিত। তাই প্রাথমিকভাবে জেলার সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র, এমনকি স্কুলে এভিএস রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কীভাবে সেটা প্রয়োগ করতে হয় শেখানো হবে শিক্ষকদের।

    সর্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কালাচের ছোবল বোঝা যায় না। আবার চন্দ্রবোড়ার ছোবলে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাসের মধ্যে যখন শেহেলাকে সাপে কেটেছিল বুঝতেই পারেননি শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সাপে কাটার দাগ দেখে ভেবেছিলেন নখের আঁচড়। বিষের প্রকোপে মেয়েটা যতক্ষণে নেতিয়ে পড়ে, অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি শেহেলাকে। এই ঘটনায় সাসপেন্ড করা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষককে।

    জেলাশাসক জানিয়েছেন, জেলার প্রতিটি স্কুলে এই নির্দেশিকা পাঠানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে।

    আজ শনিবার, রাজ্যের শিক্ষা দফতরের তরফ থেকে জানানো হয়, শুধু নির্দিষ্ট জেলা নয় গোটা রাজ্যেই এই নির্দেশিকা চালুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী সি রবীন্দ্রনাথ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সমস্ত সরকারি স্কুলে পাঠানো হবে এই ‘স্নেকবাইট প্রোটোকল’। পাশাপাশি, সমস্ত স্কুলে গিয়ে তদারকি করবেন সরকারি আধিকারিকরা। খোলা গর্ত থাকলে সেগুলি সিমেন্ট দিয়ে ভরাট করার ব্যবস্থা হবে। বর্ষাকালে কেরলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে সাপের উপদ্রব ভয়ানকভাবে বেড়ে যায়। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে। গত বছরও অনেক শিশুরও মৃত্যু হয়েছিল সাপের ছোবলে। বিষধর সাপে কামড়ানোর ১০০ মিনিটের মধ্যে পরিমাণ মতো ওষুধ প্রয়োগ করলে রোগী বেঁচে যেতে পারেন। কিন্তু অনেক সময়ে দেখা যায়, সাপে কামড়ানো রোগীকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন বিষ তাঁর সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়েছে। সাপে কাটার পরে অনেক ক্ষেত্রে কুসংস্কারবশত ওঝা, গুণিনের কাছে নিয়ে সময় নষ্ট করেন রোগী বা তাঁর পরিবারের লোকেরা। সেই বিষযেও সচেতনতার পাঠ দেওয়া হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More