করোনাকে হারিয়ে উঠেই কাজে যোগ দেওয়ার আর্জি কেরলের নার্সের

কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা ফোন করে রেশমার খবর নিয়েছেন। তাঁর এই দায়িত্ববোধের জন্য তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে জানিয়েছেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য কেরল সরকার গর্বিত। ইতিমধ্যেই ২০ জন নার্স করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাই তাঁদের শরীরে জন্য চিন্তিত সরকার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আক্রান্ত রোগীদের দেখভাল করতে গিয়ে নিজেও কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন কেরলের নার্স ৩২ বছরের রেশমা মোহনদাস। কিছুদিন আইসোলেশনে কাটিয়ে বর্তমানে সুস্থ তিনি। রয়েছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। করোনাকে হারিয়ে উঠেই কাজে যোগ দেওয়ার আর্জি জানালেন এই নার্স। তাঁর দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন খোদ কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    কয়েক দিন আগে করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেন কেরলের সবথেকে বয়স্ক দম্পতি ৯৩ বছরের থমাস আব্রাহাম ও ৮৮ বছরের মারিয়াম্মা। গত মাসে তাঁদের ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতি ইতালি থেকে ফেরার পরেই করোনা আক্রান্ত হন এই দম্পতি। করোনাভাইরাস পাওয়া যায় তাঁদের ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতির শরীরেও। তাঁরা অবশ্য আগেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

    ১২ মার্চ থেকে হাসপাতালে ভর্তি থাকা থমাস ও মারিয়াম্মার দেখভালের দায়িত্ব ছিল রেশমার উপর। আইসোলেশনে থাকলেও মাস্ক পরে থাকতে পারতেন না ওই বৃদ্ধ দম্পতি। তাই মাস্ক ছাড়াই থাকতেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে অনেক গল্প করতেন রেশমা। এভাবেই তাঁর শরীরেও ছড়িয়ে যায় কোভিড ১৯ ভাইরাস।

    ২৩ মার্চ সকালে গলায় হালকা ব্যথা অনুভব করেন রেশমা। তিনি সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে সেটা জানান। তাঁকে আইসোলেশনে রাখা হয়। পরীক্ষা করলে তাঁর শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। তারপর থেকে এক সপ্তাহ আইসোলেশনেই ছিলেন রেশমা। সম্প্রতি তাঁর টেস্টে কোভিড ১৯ নেগেটিভ আসে। তারপরেই হাসপাতাল থেকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয় তাঁকে।

    যেদিন করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে যান রেশমা, সেদিন নার্সদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি মেসেজে তিনি লেখেন, “এক সপ্তাহের মধ্যে তোমাকে হারিয়ে এই ঘর থেকে বেরোব।” আদতে সেটাই করে দেখালেন তিনি। পরে রেশমা বলেন, তিনি এই কথা লিখেছিলেন কারণ কেরলের স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর তাঁর বিশ্বাস ছিল। ওই আইসোলেশন ওয়ার্ডেই এতদিন কাজ করেছেন তিনি। তাই সেখানে থাকতে বিন্দুমাত্র ভয় হয়নি তাঁর। শুধুমাত্র গলায় ও গায়ে ব্যথা ছিল তাঁর।

    সুস্থ হয়ে ওঠার পরেই রেশমা জানিয়েছেন, হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হলেই ফের কাজে যোগ দিতে চান তিনি। এই কথা শুনে কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা ফোন করে রেশমার খবর নিয়েছেন। তাঁর এই দায়িত্ববোধের জন্য তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে জানিয়েছেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য কেরল সরকার গর্বিত। ইতিমধ্যেই ২০ জন নার্স করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাই তাঁদের শরীরের জন্য চিন্তিত সরকার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More