শুক্রবার, আগস্ট ২৩

দোকানের সব জামাকাপড় দিলেন বন্যা দুর্গতদের, ইদ পালনে নজির কেরলের দোকানদারের

  • 6.4K
  •  
  •  
    6.4K
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কেরল। বন্যা বিধ্বস্ত দক্ষিণের রাজ্যে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। কোথাও বন্যায় ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি। কোথাও বা একমুঠো খাবারের জন্য হাহাকার করছে মানুষ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ৭২ জন মারা গিয়েছে কেরলে। সব হারিয়ে ত্রাণ শিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন অন্তত আড়াই লক্ষ মানুষ। এই বন্যা বিধ্বস্ত কেরলে সকলের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সেখানকারই বাসিন্দা নৌশাদ।

কাপড়ের ব্যবসা করেন এই নৌশাদ। খুব বড় কিছু নয়। ফুটপাথের উপরেই অল্প জায়গায় সাজিয়ে বসেন নিজের পসরা। ইদের জন্যও প্রচুর মাল তুলেছিলেন নৌশাদ। ভেবেছিলেন বিক্রিবাটা ভালো হলে পরিবারের সকলের সঙ্গে জমিয়ে পালন করবেন ইদ। কিন্তু সব ভাবনার মাঝেই বাদ সেধেছে কেরলের বন্যা। আশেপাশের মানুষগুলো ভয়াবহ বন্যায় সব হারিয়েছেন। তাই ইদের জন্য যে জামাকাপড় নৌশাদ তুলেছিলেন, বিনামূল্যে তা বিলিয়ে দিয়েছেন মালাবার অঞ্চলের বন্যা দুর্গতদের মধ্যে। নিজের ক্ষতির কথা না ভেবে, বন্যায় সব হারানো মানুষগুলোর জন্যই ভেবেছেন নৌশাদ। বেশিরভাগ জামাকাপড় রয়েছে মহিলা এবং শিশুদের জন্য।

কিছুদিন আগেই নৌশাদের কাছে সাহায্য চাইতে গিয়েছিল এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সেই দলের সঙ্গে এসেছিলেন অভিনেতা রাজেশ শর্মাও। কিন্তু ততদিনে নিজের পুঁজির সবটাই প্রায় ব্যবসায় লাগিয়ে দিয়েছেন নৌশাদ। তাই টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পারেননি। কিন্তু তাতে কী! ইচ্ছেটাই তো আসল। আশেপাশের অসহায় মানুষগুলোর জন্য যে কিছু একটা করতে হবে সেটা তখনই ঠিক করে নিয়েছিলেন নৌশাদ। তারপরেই ঠিক করেন ব্যবসার জন্য কেনা জামাকাপড় দান করবেন বন্যা দুর্গতদের মধ্যে।

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, গুদামে বসে প্যাকেটে জামাকাপড় ভরছেন নৌশাদ। সাহায্য করছেন আর একজন। পাশ থেকে একজন আবার সাবধানবাণীও দিলেন। এত দানধ্যান করলে ব্যবসায় ক্ষতি হতে পারে। সব শুনেও বিন্দুমাত্র বিরক্ত নন নৌশাদ। বরং হাসিমুখে সকলের জন্য জামাকাপড় প্যাকিং করতেই ব্যস্ত তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নৌশাদ এখন স্টার। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেরল প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরাও। তবে সে সব দিকে নজর নেই নৌশাদের। বরং হাল্কা হেসে বলছেন, “মৃত্যুর পর কিছু তো সঙ্গে নিয়ে যাবো না। বরং এ বার সব হারানো মানুষগুলোকে ইদের আগের নতুন জামাকাপড় দিলাম। লাভ-ক্ষতি ভাবি না। ওদের জন্য কিছু করতে পেরে ভালো লাগছে। এ বার না হয় এ ভাবেই ইদ পালন করলাম।”

Comments are closed.