নাগরিকত্ব আইন: সিপিএম মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি মমতাকে, ‘সময় এসেছে এক হওয়ার’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিয়ে অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রী ও নেতাদের চিঠি লিখেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই তালিকায় ছিলেন বাম শাসিত কেরলের মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়নও। এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার আগেই মমতাকে জবাব দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, পাশে রয়েছেন তিনি। শুক্রবার তিরুঅনন্তপুরম থেকে চিঠি এল কলকাতায়। মমতাকে চিঠি লিখলেন বিজয়ন।

    এদিন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে বলেছেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি।” একই সঙ্গে তিনি ওই চিঠিতে লিখেছেন, কেরল বিধানসভায় যে ভাবে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী প্রস্তাব পাশ হয়েছে, তেমনটা যদি সবাই ভাবতে পারে তাহলে এই আইনকে রুখে দেওয়া যাবে।

    শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন। কমলনাথ, ভূপেশ বাঘেল, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো ১১ জন অবিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন বিজয়ন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যেমন বলেছেন এখানে এনআরসি, এনপিআর করতে দেবেন না, একই কথা শোনা গিয়েছে বিজয়নের গলাতেও। স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, কেরলের মাটিতে এসবের কোনওটাই বাস্তবায়িত করবে না তাঁর সরকার।

    কেরল বিধানসভায় প্রস্তাবে সরকারের তরফে বলা হয়, “কেরলের মাটিতে বহুদিন ধরে খ্রিস্টান, হিন্দু ও মুসলিমরা একসঙ্গে বসবাস করেন। নতুন আইন সেই সম্প্রীতির ঐতিহ্যের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই মাটিতে বহু যুগ ধরে গ্রিক, রোমান ও আরবের মানুষজন এসেছেন। এখানকার ধর্মনিরপেক্ষতার একটা দীর্ঘ ইতিহাস আছে। আমরা কিছুতেই তা ধুলোয় মিশতে দিতে পারি না।” দক্ষিণের এই রাজ্যে বামেদের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। এই প্রেক্ষাপটে বামেদের সঙ্গে কোমর বেঁধেছে তারাও। কংগ্রেসের সমর্থনেই ওই প্রস্তাব পাশ হয় কেরল বিধানসভায়। যদিও তা কতটা সাংবিধানিক তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

    কিন্তু কেরলের মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে চিঠি লেখায় অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে বঙ্গ সিপিএম। পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল আর বিজেপিকে বাংলার সিপিএম যতই কয়েনের এপিঠ-ওপিঠ বলে ব্যাখ্যা করুক, সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে মমতা এখন বিজেপি বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ। তাঁদের মতে, পিনারাইয়ের এই চিঠি তাতেই সিলমোহর দিল। যদিও বিধানসভার বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “আমরাই তো বলেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে কেরলের মতো বাংলার বিধানসভাতেও সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাশ করুক সরকার।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More