মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

কেবিসি-র মঞ্চে কোটিপতি ‘খিচুড়ি আন্টি’, স্কুলে মিড-ডে মিল রেঁধে মাসে রোজগার ১৫০০ টাকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খিচুড়ির হাঁড়িতে ফোড়ন দিয়ে ববিতা রোজ ভাবতেন একটা মোবাইল ফোন হলে বেশ হত। কাজের ফাঁকে একটু বাড়ির লোকের গলা শোনা যেত। স্বপ্নটা খুব সামান্যই। আকাশছোঁয়ার বাসনা তাঁর ছিল না। কিন্তু ভাগ্য মনে হয় কিছু অন্য রকম পরিকল্পনাই করে রেখেছিল। গ্রামের স্কুলের মিড ডে মিল রাঁধতে রাঁধতেই ববিতা পৌঁছে গেলেন দেশের সব চেয়ে বড় গেম শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র আসরে! জিতে আনলেন ১ কোটি টাকা!

মহারাষ্ট্রের অমরাবতীর বাসিন্দা ববিতা তাড়ে। সেখানকারই একটি স্কুলে মিড ডে মিল রাঁধার দায়িত্ব তাঁর। গ্রামের স্কুলের আয়োজন খুব সামান্য। প্রায় দিনই খিচুড়ি আর একটা ভাজা। মাসে হয়তো খিচুড়ি বা ভাতের পাতে তরকারির মুখ দেখে কচিকাঁচারা। খিচুড়ি বেশ ভালোই রাঁধেন ববিতা। বাচ্চাদের বড় পছন্দ তাঁর হাতের রান্না। মাস গেলে ১৫০০ টাকা মাইনে। তাতে সংসার চলে না ঠিকই, তবে কচি মুখগুলোতে তৃপ্তির হাসি দেখলে মন ভরে ওঠে ববিতার।

খাইয়েই আনন্দ পান তিনি। নিজের চাহিদা বড় সামান্য। ওই একটা মোবাইল। সেটা হলেই বেশ হয়। ছাপোষা ঘরের গৃহবধূ ববিতা কী ভাবে কেবিসি-র মঞ্চে পৌঁছলেন সেটা তাঁর কাছেও রহস্য। তবে অমিতাভ বচ্চনকে সামনে দেখে তাঁর বিস্ময় যে বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল, এ কথা স্বীকার করেছেন তিনি নিজেই।

অমিতাভ বচ্চনের সঞ্চালনায় কেবিসি গেম শো, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও দামি গেম শো-গুলির মধ্যে একটা। শুরুতে সর্বোচ্চ পুরস্কার ১ কোটি টাকা হলেও, ১১ সিজ়নে এসে সেই টাকার অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ কোটিতে। প্রতি রাউন্ডে প্রশ্নের ধাঁধা পার হতে হতে এগিয়ে যেতে হয় প্রতিযোগীদের। এক হাজার, দু’হাজার করে বাড়তে বাড়তে সেটা পৌঁছয় লাখে, তার পর কোটিতে। মাঝে কোনও রাউন্ডে ভুল উত্তর দিয়ে ফেললেই মুশকিল! আর এগোনো সম্ভব নয়, যত টাকা লাভ হয়েছে, সেটা হাতে নিয়েই ফিরতে হবে।

গত সপ্তাহে বিহারের ইউপিএসসি চাকরি প্রার্থী সনোজ রাজ কেবিসি-র মঞ্চ থেকে জিতে নিয়েছিলেন এক কোটি টাকা। ১৬টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছিলেন তিনি। তবে অন্তিম রাউন্ডের আগেই ফিরতে হয় তাঁকে। চলতি সপ্তাহে বাকিদের হারিয়ে হট সিটে বসার সুযোগ পান ববিতা। একের পর এক রাউন্ড পেরিয়ে যান অবলীলায়। অমিতাভের সঙ্গে আড্ডায় উঠে আসে তাঁর জীবনের গল্প।

স্কুলের বাচ্চাদের কাছে ববিতার আর এক নাম ‘খিচুড়ি স্পেশালিস্ট।’ তাঁর হাতের গরম খিচুড়ি অনেক অভুক্তের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। ঘরে ঠিকমতো খাবার না জুটলেও, স্কুলে এসে ববিতা ‘আন্টি’র খিচুড়ি খেয়ে পেট ও মন দুইই ভরে শিশুদের। তাদের দেখে আনন্দ পান ববিতাও। সামান্য মাইনের কথা তখন আর মনে থাকে না। অমিতাভ ববিতাকে জিজ্ঞেস করেন হট সিটে অনেক টাকা জিতলে তিনি কী করতে চান? ববিতার সাফ উত্তর ‘‘একটা মোবাইল কিনতে চাই।’’

‘‘আগে একশো জনের জন্য রাঁধতাম। এখন ৪৫০ বাচ্চাকে নিজের হাতে রেঁধে খাওয়াই। কোনও কাজই ছোট নয়,’’ ববিতার স্বপ্ন তার স্কুলের সঙ্গেই বাঁধা। কোটিপতি হয়েও স্কুলের চাকরি ছাড়ার কোনও বাসনা নেই তাঁর। এ বার একটা মোবাইল কিনে ফেলবেন চটজলদি। বাড়ির লোকের গলা শুনলে মনটাও ভালো থাকে। রান্নাটাও ঠিক মতো করতে হবে তো! কচি কচি মুখগুলো থালা পেতে তাঁরই অপেক্ষায় থাকে যে!

আরও পড়ুন:

‘মৃত শিশুকন্যা’ বলে আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল, কেবিসি-র মঞ্চে জিতে গেল সেই নূপুরই

Comments are closed.