লেকের জলে ভাসল শিকারা, পর্যটকদের ফের হাতছানি দিচ্ছে ভূস্বর্গ, নিষেধাজ্ঞার সরিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে কাশ্মীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা দু’মাস। অবগুন্ঠন খুলছে ভূস্বর্গ। অন্তরাল থেকে বেরিয়ে এসে ফের আলো ঝলমলে দিন দেখার অপেক্ষায় কাশ্মীরবাসী। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই একেবারে অন্য দৃশ্য কাশ্মীরের রাস্তায় রাস্তায়। খুলেছে দোকানপাট। খুলেছে স্কুল-কলেজ-অফিস। বাজারে পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা। লেকের জলে ফের ভেসেছে শিকারা। এ বার পর্যটকদের অপেক্ষায় দিন গুনছে উপত্যকা।

    ৩৭০ ধারা রদের বেশ কিছু দিন আগেই দেশ-বিদেশের তীর্থযাত্রী এবং পর্যটকদের জম্মু-কাশ্মীর ছাড়তে বলেছিল কেন্দ্র। অমরনাথ যাত্রা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ‘জঙ্গি হামলার আশঙ্কা’-য় জারি হয়েছিল চূড়ান্ত সতর্কতা।  ৭ অক্টোবর রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের তরফে জানানো হয়, পর্যটকদের চলাচলের উপরে আর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।  তবে পর্যটন ব্যবসায়ীদের অনেকেরই ধারণা, নিষেধাজ্ঞা উঠলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনও অনেক সময় লাগবে। এত কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে, সেনাবাহিনীর সতর্ক প্রহরায় উপত্যকায় আদৌ কোনও তীর্থযাত্রী বা পর্যটক পা রাখবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

    স্কুল-কলেজ খুললেও সেখানে পড়ুয়ার সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই কম। বুধবারও কলেজ-ইউনিভার্সিটির ক্লাসরুমগুলো একেবারেই ফাঁকা ছিল। এ দিন সকাল থেকে শ্রীনগরের শ্রীপ্রতাপ কলেজের বাইরে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। কড়া পাহারার মধ্যেই স্টাডি মেটিরিয়াল নিতে এসেছেন ছাত্রছাত্রীরা। এক পড়ুয়ার কথায়, “কলেজ খুলেছে। তবে এখনই ক্লাস করতে আসছি না আমরা। শিক্ষকরা বলেছেন এখন স্টাডি মেটিরিয়াল নিয়ে সিলেবাস শেষ করতে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে ফের ক্লাস শুরু হবে।”

    প্রশাসন সূত্রে খবর, জম্মু-কাশ্মীর গত দু’মাস মোটামুটি শান্তিপূর্ণই ছিল। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ বাড়িয়ে দেওয়ার পর থেকে মোট পাঁচ জঙ্গিকে খতম করেছে সেনাবাহিনী। গত সোমবারই সেনা এনকাউন্টারে নিকেষ হয়েছে এক লস্কর জঙ্গি। তবে এনআইএ-র রিপোর্ট অনুযায়ী সীমান্তের ওপারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জঙ্গিদের শিবির। অন্তত ৫০০ জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাকিস্তানের তরফে অন্তত ২০টি জঙ্গিশিবির এবং ২০টি লঞ্চপ্যাড সক্রিয় করে তোলা হয়েছে। নাশকতার আশঙ্কায় ভূস্বর্গে এখনই পা রাখতে বয় পাচ্ছেন অনেক দেশি-বিদেশি পর্যটকই।

    গত দু’মাসে কার্যত কোনও বিরোধী নেতাকে উপত্যকায় স্বাধীন ভাবে ঘোরাফেরা করতে দেওয়া হয়নি। ন্যাশনাল কনফারেন্সের ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা, পিপলস্ ডেমোক্রেটিক পার্টির মেহবুবা মুফতি-সহ স্থানীয় নেতারা গৃহবন্দি। এত দিন পরে গত রবিবার ন্যাশনাল কনফারেন্সের জনা পনেরো কর্মীকে তাঁদের শীর্ষ দুই নেতার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে ধাপে ধাপে অন্য অংশের নেতাদেরও গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে প্রশাসনের শীর্ষ সূত্রের তরফে বলা হয়েছে।

    বন্ধ করে দেওয়া ল্যান্ডলাইন পরিষেবা ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে কাশ্মীরে। বেশ কিছু জায়গায় চালু হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। দু’দিন আগেই অমিত শাহ বলেছিলেন, “ওখানে কোনও বিধিনিষেধ নেই। সব বিধিনিষেধ বিরোধীদের মনে।” গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসছে। এ দিন শ্রীনগরের রাস্তায় যথেষ্ট সংখ্যক যানবাহন চলাচল করতেও দেখা যাচ্ছে। তবে পর্যটকদের জন্য ভূস্বর্গ আবার কবে সেরা আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠবে, সেই প্রশ্নের উত্তর আপাতত কোথাও নেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More