‘মুখ খুললে জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেব, আবারও উন্নাও কাণ্ড হবে,’ কিশোরীর উপর নির্যাতন ফের উত্তরপ্রদেশেই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তা থেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালানোর চেষ্টা করছিল জনা পাঁচজন। কিশোরী চিৎকার করে উঠলে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। ততক্ষণে দুষ্কৃতীরা চম্পট দিয়েছিল। নির্যাতিতার অভিযোগ, পরে ফিরে এসে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। চুলের মুঠি ধরে বলে, “থানায় গেলেই আর একটা উন্নাওয়ের মতো ঘটনা ঘটে যাবে। রাস্তায় ধরে জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেব।”

    এবারও সেই লজ্জা উত্তরপ্রদেশেরই। কানপুরের বাসিন্দা ওই কিশোরী জানিয়েছে, আগেও তার উপর নির্যাতন চালিয়েছিল ওই দুষ্কৃতীরা। ভয়েতে পরিবারকে কিছু বলতে পারেনি সে। দিনকয়েক আগে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সে যখন বাড়ি ফিরছিল ফের তার রাস্তা আটকায় ওই যুবকরা। রাস্তার মাঝেই তার শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে। পরে তাকে টেনে হিঁচড়ে একটা বাড়ির মধ্যে ঢুকিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। কিশোরীর চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এলে পালিয়ে যায় তারা।

    আরও পড়ুন: উন্নাও: ‘বাঁচান, মরতে চাই না, দোষীদের ফাঁসিতে ঝুলতে দেখতে চাই,’ মৃত্যুর আগে বলেছিলেন নির্যাতিতা

    পুলিশ সুপার অপর্ণা গুপ্ত বলেছেন, ওই কিশোরী দীপক যাদৌ নামে এক অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছে। দীপকই নাকি তাকে হুমকি দেয়, পুলিশে অভিযোগ জানালে উন্নাওয়ের নির্যাতিতা তরুণীর মতোই দশা হবে তার। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হবে। কিশোরীর আরও অভিযোগ, শুধু তাকেই নয়, তার পরিবারকেও হুমকি দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। তার বাড়ির লোকজনকে মারধর করা হয়েছে বলেও পুলিশকে জানিয়েছে ওই কিশোরী।

    নির্যাতিতা কিশোরী সম্প্রতি একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সেই ভিডিও ভাইরালও হয়েছে নেট দুনিয়ায়। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কিশোরীর সমস্ত অভিযোগ শোনা হবে। কিশোরী ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    আরও পড়ুন: কলঙ্কিত গডম্যানরা: ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, এমনকি ভক্তদের যৌনদাসী করে রাখার অভিযোগ যাঁদের বিরুদ্ধে

    হায়দরাবাদের পরে উন্নাওয়ের তরুণীর নারকীয় হত্যাকাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছে দেশকে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার সময়েই উন্নাওয়ের সেই তরুণীর উপর চড়াও হয়েছিল পাঁচজন। তার মধ্যে দু’জন ছিল ধর্ষণে অভিযুক্ত। বেধড়ক মেরে দু’পা ভেঙে দিয়ে, গলায় ছুরির কোপ বসিয়ে, তরুণীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। জ্বলন্ত অবস্থাতেই বাঁচার জন্য প্রায় এক কিলোমিটার ছুটেছিলেন তরুণী। ৯০ শতাংশ দগ্ধ শরীর নিয়ে নির্যাতিতা তরুণীর জীবনের লড়াই থেমে গেছে গত শুক্রবারই। এই ঘটনায় দোষীদের কঠিন শাস্তির দাবি তুলে সরব হয়েছে গোটা দেশ। তারপর ফের কানপুরের এই ঘটনা সামনে এল। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More