বুধবার, অক্টোবর ১৬

Breaking: কলকাতার ছেলে কমলনাথকেই মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী করলেন রাহুল 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোপালের তখতে বসার দৌড়ে তিনিই যে এগিয়ে রয়েছেন তার ইঙ্গিত প্রথম দিন থেকেই ছিল। কংগ্রেস নেতা, কর্মী, বিধায়কদের থেকে অডিও মেসেজের মাধ্যমে রাহুল গান্ধী গোপনে যে মতামত নিয়েছেন, তাতেও পাল্লা ভারী ছিল তাঁর দিকেই। অবশেষে সেই তিনি, একদা মধ্য কলকাতার ছেলে কমলনাথকেই মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য বেছে নিলেন রাহুল গান্ধী।

প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা মাধবরাও সিন্ধিয়ার ছেলে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াও ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার। বর্তমানে লোকসভায় কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক জ্যোতিরাদিত্য। কমলনাথকে রাহুল মুখ্যমন্ত্রী পদে মনোনীত করার পর মনে করা হচ্ছে, দলের কেন্দ্রীয় সংগঠনে এ বার গুরুত্ব বাড়ানো হবে মাধব রাও পুত্র-র। তাঁকে অচিরে মধ্যপ্রদেশের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিও করা হতে পারে। যাতে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকে।

মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া থেকে ৯ বারের সাংসদ কমলনাথ। ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধীর জমানা থেকে লোকসভার সদস্য। মাঝে ’৯৬ সালে লোকসভা ভোটে এক বার পরাস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু সে ছাড়া প্রতিটি লোকসভা ভোটেই জিতেছেন বিপুল ব্যবধানে। তা সে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের সরকার থাকুক বা না থাকুক। সে দিক থেকে বর্তমান লোকসভাতেও কমলনাথই প্রবীণতম।

এ হেন পোড় খাওয়া রাজনীতিক কমলনাথের জন্ম উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। তার পর দুন স্কুলে পড়াশোনা। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব তখন থেকেই। তবে বাবা মহেন্দ্রনাথের ব্যবসা ছিল কলকাতায়। পাতিপুকুরে ইএমসি কোম্পানি। বাড়ি মধ্য কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটে। তাই দুন স্কুলের পাঠ চুকতেই কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হন কমলনাথ। সেখান থেকে বাণিজ্যে স্নাতক হওয়ার পর ইএমসি-র কাজকর্ম তিনিই দেখতেন। সেই সঙ্গে পাকাপাকি কংগ্রেস রাজনীতিতেও নেমে পড়েন।

বাংলায় অবশ্য কোনওদিন রাজনীতি করেননি কমলনাথ। তবে ২০০১ সালে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের মহাজোট রচনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের তরফে তখন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কমলনাথ। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বকে না জানিয়েই সে বার জোট গঠনের জন্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি। যদিও সেই জোট সাফল্য পায়নি।

এখন প্রশ্ন, কেন কমলনাথকেই মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য বেছে নিলেন রাহুল? 

বস্তুত ২০০৩ সালে মধ্যপ্রদেশে দশ বছরের দিগ্বিজয় সিংহ সরকারের পতনের পর থেকে কংগ্রেস ক্ষমতার মুখ দেখেনি। সেই অবস্থায় মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের সংগঠন নিয়ে কম পরীক্ষা নিরীক্ষা করেননি রাহুল। এক সময় সুরেশ পাচৌরিকে প্রদেশ সভাপতি করেন রাহুল, পরে তাঁকে সরিয়ে একেবারেই অপরিণত অরুণ যাদবকে প্রদেশ সভাপতি করা হয়। কিন্তু বছর খানেক আগে এ বার আহমেদ পটেল, চিদম্বরমদের পরামর্শে কমলনাথকে সেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন রাহুল। এক প্রস্তাবেই রাজি হয়ে যান মনমোহন মন্ত্রিসভার বাণিজ্য মন্ত্রী। এমনিতে তাঁর মাথা ঠাণ্ডা, এবং নরমে গরমে কাজ করিয়ে নেওয়াতেও কমলনাথের জুরি নেই। কংগ্রেসের বর্ষীয়াণ নেতাদের অনেকের মতে, বিধানসভা ভোটে জিতলেও মধ্যপ্রদেশে সুশাসন কায়েম করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। উনিশের ভোটের আগে এই জনভিত্তি আরও মজবুত করতে হবে। কমলনাথের মতো এক জন প্রশাসক ছাড়া তা সম্ভব নয়। কেন্দ্রে নরসিংহ রাও জমানা থেকে তিনি মন্ত্রী। তুলনায় জ্যোতিরাদিত্যদের মেধা থাকলেও অভিজ্ঞতা কম। তা ছাড়া বড় কথা হল, মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের অধিকাংশ বিধায়কও মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কমলনাথের নামই প্রস্তাব করেছেন। তাই আর দেরি করেননি রাহুল মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য তাঁকেই বেছে নেন।

আরও পড়ুন- 

রাহুল-প্রিয়াঙ্কা যখন ছোট, সফদরজঙের বাড়িতে তাদের ম্যাজিক দেখাতেন অশোক গেহলট

Comments are closed.