শুক্রবার, অক্টোবর ১৮

বিজ্ঞানে ব্যর্থতা বলে কিছু নেই, সব কিছুই সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়, বলেছিলেন কালাম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রুদ্ধশ্বাস ১৫ মিনিট শুরু হতেই হাততালি দিয়ে উঠলেন ইসরোর মিশন কন্ট্রোল রুমে থাকা বিজ্ঞানীরা। সময় যত কমতে থাকলে, দূরত্ব যত কমতে থাকল, তত চিন্তার ভাঁজ ফুটে উঠছিল মুখগুলোতে। অবশ্য সেই সঙ্গে ছিল চাপা উত্তেজনাও। হঠাৎ সব চুপচাপ। টিভির পর্দায় চোখ রাখা মানুষরাও বুঝতে পারছেন না কী হলো। কিছুক্ষণ পর ইসরোর অধিকর্তা কে শিবন ঘোষণা করলেন, চাঁদ থেকে ২.১ কিলোমিটার উচ্চতায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে ল্যান্ডারের সঙ্গে। তাহলে? ব্যর্থ হয়ে গেল অভিযান? ব্যর্থ হয়ে গেল কোটি কোটি ভারতবাসীর স্বপ্ন?

“নাহ! বিজ্ঞানে তো ব্যর্থতা বলে কিছু হয় না। সব কিছু থেকেই বিজ্ঞানীরা শেখেন। এমনটাই শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ‘মিসাইলম্যান’ ড. এপিজে আব্দুল কালাম। তাঁর শিক্ষায় শিক্ষিত ইসরোর বিজ্ঞানীরা তাই হয়তো সাময়িকভাবে হতাশ হয়ে পড়তে পারেন, কিন্তু কোনও মতেই তাঁদের মধ্যে সেই হতাশা দাগ কাটবে না। ফের নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবেন তাঁরা।” এই কথাগুলো দৃপ্ত ভঙ্গিতে বলে চলেছিলেন আব্দুল কালামের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা কে সৃজন।

ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে সবথেকে উজ্জ্বল দিনের সাক্ষী ছিলেন সৃজন। একটি সর্বভারতীয় চ্যানেলের প্যানেলে বসেছিলেন তিনি। অরবিটার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর কীভাবে ল্যান্ডার চাঁদের মাটি ছোঁবে তার বিবরণ দিচ্ছিলেন সুন্দরভাবে। জলের মতো ভাষায় বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, কীভাবে কাজ করবে এই ল্যান্ডার ও রোভার। কিন্তু হঠাৎ করেই যখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, তখন সবার মুখ থমথমে হয়ে গেলেও সৃজনের কোনও হেলদোল হয়নি। তারপরেই কালামের শেখানো দর্শনের কথা তুলে ধরেন তিনি।

সৃজন বলেন, “কালাম আমাদের সবসময় শিক্ষা দিয়েছেন সামনের দিকে এগিয়ে চলার। তাঁর অভিধানে ব্যর্থতা বলে কোনও শব্দ ছিল না। ভারতের মহাকাশ গবেষণার প্রতিটি ধাপে কালামের অবদান রয়েছে। কিন্তু এর আগে যখনই কোনই মিশন আমাদের ব্যর্থ হয়েছে, তিনি বলেছেন, এটা ব্যর্থতা নয়। সফলতার দিকে যাওয়ার আর একটা সিঁড়ি। এ ভাবেই একটা করে সিঁড়ি চড়ে সফল হবে আমরা। এই বিষয়ে টমাস আলভা এডিসনের কথা বলতেন কালাম। এডিসন হাজার বারের চেষ্টায় বাল্ব আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁকে কেউ বলেছিলেন, তাহলে তো আপনি আগের এতবার ব্যর্থ হয়েছেন। এডিসন উত্তর দিয়েছিলেন আগের ৯ হাজার ৯৯৯ বার আমাকে একটু একটু করে সাফল্যের কাছে নিয়ে গিয়েছে। তাই হাজার বারে আমি সফল হয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “৪৮ দিন ধরে চার লক্ষ কিলোমিটার যাত্রা করেছে ৯৭৮ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি আমাদের চন্দ্রযান ২। শুধুমাত্র শেষের ২.১ কিলোমিটারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। তাই বলা যায় এই অভিযান ৯৩ থেকে ৯৫ শতাংশ সফল। এই সাফল্য ও এই অভিযান থেকে পাওয়া প্রচুর পরিমাণ তথ্য আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ আরও দৃঢ় করবে। কালামের স্বপ্ন সফল হবেই।”

সৃজনের এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাও। সেই প্যানেলে থাকা নাসার এক বিজ্ঞানীর দাবি, এখনও পর্যন্ত যত তথ্য সংগ্রহ করেছে ইসরো, তা মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিক খুলে দিতে পারে। নাসার তরফ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে ইসরোকে।

Comments are closed.