জেএমবি-এ বড় মাথা গ্রেফতার চেন্নাই থেকে, ফের সাফল্য এসটিএফ-এর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের হাতে পাকড়াও হয়েছে এক জেএমবি (জামাত-উল-মুজাহিদিন, বাংলাদেশ) জঙ্গি। জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে চেন্নাই থেকে জেএমবি-র শীর্ষ নেতা আসাদুল্লা রাজা ওরফে রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। জানা গিয়েছে, বছর ৩৫-এর আসাদুল্লা বর্ধমানের ভাতারের বাসিন্দা। মাস তিনেক ধরে চেন্নাইতে একটা বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিল সে।

    জেএমবি-র অন্যতম মাথা সালাউদ্দিন সালেহাঁর সঙ্গী ছিল এই আসাদুল্লা। সূত্রের খবর, বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের সঙ্গেও জড়িত ছিল এই আসাদুল্লা রাজা। চেন্নাই থেকে আসাদুল্লাকে গ্রেফতারের পর, ওই ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে জাল পরিচয়পত্র এবং বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও। এসটিএফ সূত্রে খবর, নতুন করে সংগঠন সাজানোর কাজ করছিল এই আসাদুল্লা। আপাতত এই আসাদুল্লাকে কলকাতায় আনার জন্য চেন্নাই পুলিশের কাছে ট্রানজিট রিমান্ডের আনেদন জানাবে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স।

    কিছুদিন আগেই ভারতের জেএমবি প্রধান ইজাজ আহমেদকে গয়া থেকে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিনের অন্যতম মাথা ছিল এই ইজাজ। জঙ্গি সংগঠনের ভারতীয় শাখার প্রধান ছিল সে। দলের বাকিরা তাকে ‘আমির’ বা ‘প্রধান’ বলেই মানত। বোধগয়া বিস্ফোরণ, খাগড়াগড় বিস্ফোরণ সহ ভারতে জেএমবি-র একাধিক নাশকতামূলক কাজের ‘মাথা’ ছিল এই ইজাজ। অবশেষে আইবি ও গয়া পুলিশের সহযোগিতায় ইজাজকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। ইজাজ-এর আগে জামাত-উল-মুজাহিদিনের ভারতীয় শাখার প্রধান ছিল কওসর। কিন্তু কয়েক মাস আগেই গ্রেফতার হয়েছে খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডের মূলচক্রী কওসর। তারপরেই সংগঠনের প্রধানের দায়িত্ব পায় এই ইজাজ।

    এসটিএফ জানিয়েছে, ইজাজের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই চেন্নাই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আসাদুল্লাকে। ইজাজকে জেরা করেই জানা যায় যে চেন্নাইতে গা ঢাকা দিয়েছে আসাদুল্লা। তারপর অপারেশন চালিয়ে আসাদুল্লাকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ।

    এ দিকে জেএমবি জঙ্গি আসাদুল্লা গ্রেফতার হওয়ার দিনই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ ভারতে বড় রকমের সন্ত্রাসবাদী হামলা হতে পারে। সেনার তরফে এও জানানো হয়েছে, স্যার ক্রিকে কয়েকটি পরিত্যক্ত নৌকো পাওয়া গিয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, ওই নৌকো করে জঙ্গিরা এসেছে সমুদ্র পথে। সেনাবাহিনীর এই সতর্কবার্তার পরই কেরল পুলিশ গোটা রাজ্য জুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। সামনেই ওনাম উৎসব আসছে। তার আগে সমস্ত রেল স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড, সরকারি ভবন, স্কুল, কলেজ, বাজারের সামনে প্রহরা ও পুলিশি টহল বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    গুজরাত ও পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের মধ্যে সরু এক ফালি সামুদ্রিক অংশ হল স্যার ক্রিক। সাউদার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন- চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস কে সাইনি জানিয়েছেন, “দক্ষিণ ভারতে জঙ্গি হামলা হতে পারে বলে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। কিছু পরিত্যক্ত নৌকো পাওয়া গিয়েছে স্যার ক্রিকে। সেই কারণেই আগাম সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” মুম্বই সন্ত্রাসের ঘটনায় জঙ্গিরা সমুদ্র পথেই এসেছিল। ডিঙি নৌকো চেপে উপকূল রক্ষী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে ঢুকে পড়েছিল দেশের বাণিজ্য নগরীতে। সেই ধরনের হামলার আশঙ্কাই করছে সেনাবাহিনী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More