মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

পিংলিশের জইশ ঘাঁটিতে হত জঙ্গিদের মধ্যে ছিল পুলওয়ামা কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ইলেকট্রিশিয়ান মুদাসির! দাবি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামায় সিআরপিএফের কনভয়ে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার পর পরই তদন্তে নেমে পড়েছিল জম্মু কাশ্মীর পুলিশ, সেনা গোয়েন্দা এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর অফিসাররা। ওই টিমে নেওয়া হয়েছিল উপত্যকায় কর্তব্যরত কয়েক জন র’ অফিসারকেও। সূত্রের খবর, ঘটনার রাতেই প্রাথমিক তদন্তের পর গোয়েন্দাদের মূল সন্দেহ গিয়ে পড়ে জইশ ই মহম্মদের এক কম্যান্ডান্টের উপর। যার নাম আবদুল রশিদ গাজি, ওরফে কামরান। গোয়েন্দাদের একাংশের সন্দেহ ছিল, পুলওয়ামা কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিল এই কামরানই। তবে এ বার তদন্তে উঠে এল আরও এক জইশ জঙ্গির নাম। গোয়েন্দাদের দাবি, কামরান শুধু নয়, পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলার নকশা সাজিয়েছিল বছর তেইশের এই জঙ্গি। 

মুদাসির আহমেদ খান ওরফে মহম্মদ ভাট। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পিংলিশ গ্রামে সেনারা যখন জইশ ঘাঁটি ধ্বংস করে, তখন সেখানে ছিল এই মুদাসির। অপারেশন-পিংলিশে কামরান ও জইশ জঙ্গি হিলাল আহমেদের পাশাপাশি মুদাসিরেরও মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

কিন্তু কে এই মুদাসির?

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, মুদাসির ত্রালের মীর মহল্লার বাসিন্দা। জইশের শুধু সক্রিয় সদস্যই নয়, উপত্যকায় বিভিন্ন সময় নানা জঙ্গি নাশকতার মূল মাথাও ছিল সে। পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী এই মুদাসির পুলওয়ামার একটি কলেজ থেকে স্নাতক হয়। পরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (আইটিআই) থেকে ইলেকট্রিশিয়ান নিয়ে এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করে। জইশ শিবিরে যোগ দেয় ২০১৭ সালে। তদন্তকারীদের কথায়, সেই সময় উপত্যকায় জইশের অন্যতম মাথা ছিল নূর মহম্মদ তন্ত্রে ওরফে নূর ত্রালি। তাঁরই অধীনে প্রশিক্ষণ শুরু হয় মুদাসিরের। ওই বছরই নূরের মৃত্যু হলে, সেই জায়গায় পাকাপাকিভাবে বসে পড়ে মুদাসির।

২০১৮ সাল থেকে উপত্যকায় জইশ নাশকতার অন্যতম মাথা হয়ে দাঁড়ায় মুদাসির ওরফে মহম্মদ ভাট। গোয়েন্দারা মনে করছে, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে সুনজওয়ানের সেনা ঘাঁটিতে হামলার নেপথ্যে ছিল মুদাসিরই। সেই হামলায় ছ’জন সেনা জওয়ানের পাশাপাশি এক গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে হামলারও ছক কষে মুদাসির। সূত্র বলছে, ফিদায়েঁ জঙ্গি আদিল আহমেদ দারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত সে। পুলওয়ামা হামলার তিন মাস আগে থেকেই আদিলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল। সেই কাজে সক্রিয় ভূমিকা ছিল মুদাসিরের।

পুলওয়ামার ঘটনার পর থেকেই পুলওয়ামা, অবন্তীপোরা, ত্রাল এলাকা প্রায় সিল করে দিয়েছিল সেনা বাহিনী ও সিআরপিএফ। মূল কৌশল ছিল কোনও জঙ্গিই ওই চত্বর থেকে যেন বেরিয়ে যেতে না পারে। তার পর চিরুণি তল্লাশিতে নেমে পড়েছিলেন সেনা জওয়ানরা। ক্রমশ বৃত্তটা ছোট করে আনতে আনতেই তাঁরা খবর পান, পুলওয়ামাতেই গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে হামলার অন্যতম চক্রী কামরান। ফলে দেরি না করে পুলওয়ামা হামলার পর দিন রাত ঘনাতেই শুরু হয়ে যায় সেনা অপারেশন। কামরানই মূল মাস্টারমাইন্ড ছিল কিনা সে বিষয়ে গোয়েন্দাদের মধ্যে আগেই দ্বিমত ছিল। গোয়েন্দাদের একাংশের দাবি ছিল, কামরান হয়তো গোটা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু ঘাতক গাড়িটিতে আই ই ডি রাখার ব্যাপারে তার হয়তো ভূমিকা ছিল না। বর্তমানে তাঁরা মনে করছেন, গাড়িতে আই ই ডি রাখা, হামলার সময় ও পদ্ধতি ঠিক করা, সবটাই ছিল মুদাসিরের মস্তিষ্কপ্রসূত। মেঘের আড়ালে মেঘনাদের মতোই গা ঢাকা দিয়ে জইশের বেশিরভাগ অপারেশনে নেতৃত্ব দিত সে। তার সম্পর্কে সবিস্তারে জানার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানাচ্ছে গোয়েন্দা সূত্র।

 

Shares

Comments are closed.