বুধবার, মার্চ ২০

‘কাশ্মীর তো ট্রেলর, ভারতের ভিতরে ঢুকে মারব’, হুঁশিয়ারি জইশ প্রধানের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে হামলার পরেই তার দায় স্বীকার করেছিল জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদ। তবে শুধু কাশ্মীর নয়, ভারতের ভিতরে ঢুকে আরও বড় জঙ্গি হানার পরিকল্পনা করছে জইশ। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জইশ প্রধান তথা মাসুদ আজহারের ভাই মৌলানা রৌফ আসঘর।

সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে একটি ভিডিও ফুটেজ এসে পৌঁছেছে। এই ভিডিও ফুটেজটি পাকিস্তানের করাচিতে এক মিছিলের। ৫ ফেব্রুয়ারি ‘কাশ্মীর দিবস’ পালন করে জইশ। এই দিন করাচিতে মিছিল করে তারা। মিছিলের পরেই এই হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায় আসঘরকে।

মিছিলের শেষে আসঘর বলেন, “গত বছর কাশ্মীর দিবসে আমার দু’দিকে অনেক লোক ছিল। আজ তারা নেই। সবাই ভারতে ঢুকে পড়েছে। আগামী বছর কাশ্মীর দিবসের আগে ভারতে রক্তের হোলি খেলা হবে।” গুজরাতের দাঙ্গা ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রসঙ্গ তুলে এনে হুঁশিয়ারি দেন আসঘর। এই জঙ্গি নেতা বলেন, এই সব ঘটনার বদলা নেওয়া হবে।

আসঘর এই বক্তৃতায় নিজের দুই ভাগ্নে মুফতি আদিল রশিদ ও উসমানের নাম তুলে আনেন। দু’জনেই ২০১৭ ও ২০১৮ সালে কাশ্মীরে সেনার গুলিতে নিহত হয়েছিল। তিনি বলেন, “গাজি রশিদ সহ সাত জইশ কমান্ডার ভারতে ঢুকে পড়েছে। তাদের বলা হয়েছে, শুধু কাশ্মীর নয়, ভারতের ভিতরে ঢুকে রক্তপাত করতে। তারই প্রস্তুতি চলছে।” সেনা সূত্রে খবর, আসঘরের হুমকির ন’দিন পরেই পুলওয়ামার সিআরপিএফ কনভয়ে হামলা হয়। এই হামলার নেপথ্যে এই কমান্ডার গাজি রশিদেরই মাথা ছিল। সে এখনও কাশ্মীরেই লুকিয়ে রয়েছে বলে খবর।

ইন্টেলিজেন্সের তরফে পরীক্ষা করে জানানো হয়েছে, এই ভিডিও সত্যি। সেনা সূত্রে খবর, করাচি জইশের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। এখান থেকেই তারা সব অপারেট করে। তবে এই জঙ্গি কার্যকলাপে কীভাবে কাশ্মীরের যুবকদের ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটা খতিয়ে দেখছে ইন্টেলিজেন্স। জানা গিয়েছে, গত এক বছরে ১৯২ জন কাশ্মীরি যুবক জইশ-এর দলে নাম লিখিয়েছে। এই ঘটনা উদ্বেগের।

ইন্টেলিজেন্সের তরফে জানানো হয়েছে, পুলওয়ামাতে আত্মাঘাতী হামলা করা জঙ্গি আদিল আহমেদ দার আসলে জইশের গ্রেড-সি ক্যাটেগরির। এদেরকে নেওয়া হয় আত্মাঘাতী হামলার জন্যই। গ্রেড-সি ক্যাটেগরির এক জঙ্গি যেভাবে নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ভিতরে ঢুকে এই হামলা ঘটালো, তাতে জইশের প্রধান জঙ্গিরা কতটা বড় জঙ্গি হানা করতে পারে, তার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইন্টেলিজেন্স।

সেনার তরফে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন সূত্র কাজে লাগিয়ে তাঁরাও চেষ্টা করছেন, এই জঙ্গিদের খোঁজ পাওয়ার। সেইসঙ্গে কাশ্মীরের যুবকদের বোঝানো হচ্ছে, তারা যাতে জঙ্গিদের ফাঁদে পা না দেয়। জইশ-এর হুঁশিয়ারির জবাব ভারতীয় সেনা কীভাবে দেন, সে দিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

আরও পড়ুন

#Breaking : রাতভর জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই, ফের পুলওয়ামাতেই শহিদ মেজর-সহ ৪ জওয়ান, নিহত ১ সাধারণ মানুষ

Shares

Comments are closed.