শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

বস্তারের জঙ্গলে মাওবাদীদের গুলিতে জখম জওয়ানের মৃত্যু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তীশগড়ের বস্তারে মাওবাদীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে শনিবার জখম হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন সেনা জওয়ান। রবিবার মৃত্যু হল একজনের। নিহত হওয়ানের নাম রাজু নেতাম। বস্তারের জেলা রিজার্ভ ফোর্সে পোস্টিং ছিল এই ডিসট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি)-এ। আরএক জওয়ানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায়, তাঁকে রায়পুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সকালে অবুঝমাড়ের জঙ্গলে মাওবাদী দমন অভিযানে নেমেছিল সেনা-পুলিশের যৌথ দল। নারায়ণপুর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার ভিতরে এই জঙ্গলে মাওবাদীদের ক্যাম্পে হামলা চালানোর জন্য অনেকদিন ধরেই আঁটঘাট বাঁধছিল সেনা ও পুলিশের ডিসট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড। গোপন সূত্রে খবর ছিল, এই শিবিরে একজোট হয়ে নতুন করে নাশকতার ছক কষছে মাওবাদীরা।

নারায়ণপুরের অবুঝমাড় জঙ্গল মহারাষ্ট্র ও ছত্তীসগড়ের মধ্যে পড়ে। প্রায় ৬০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে ঘন, দুর্ভেদ্য পাহাড় ঘেরা এই অরণ্য মাওবাদীদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। ২০১৭ সালে সরকারের তরফ থেকে এই জঙ্গল সার্ভের জন্য লোকজন পাঠানো হয়। কিন্তু, মাওবাদীরা আইইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাঁদের মধ্যে অনেককেই মেরে ফেলে। তার পর থেকে এই জঙ্গল ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে।

গত ডিসেম্বরে ছত্তীশগড়ের বিধানসভা ভোটের সময়েও বেশ কয়েকবার মাওবাদীরা হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু বাহিনীর তৎপরতায় বড় কোনও নাশকতা করতে পারেনি তারা। গত দু’মাসে সাতবার হামলা ঠেকিয়েছে সেনা ও ছতীশগড় পুলিশের যৌথবাহিনী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময়ে গত বছর রাজনাথ সিং একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “কেন্দ্রের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে নকশালমুক্ত ভারত গড়া।” তাঁর দাবি, এই কাজে অনেকটা এগিয়েছে সরকার। এ বছরের শুরুতে নবান্নে এ নিয়ে বৈঠকও হয়। বিহার, ঝাড়খণ্ডের মতো মাও অধ্যুষিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বস্তারের ডিজিপি ডিএম আওয়াস্তী জানিয়েছেন, সেনাদল দেখেই মাওবাদীরা তাদের গোপন আস্তানা থেকে গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় সেনা ও ডিআরজিও। গুলির লড়াইয়ে নিকেশ হয় পাঁচ মাওবাদী। জখম হন দুই জওয়ানও। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডিজিপি জানিয়েছেন, পাঁচ মাওবাদীর দেহ ও ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর পরিমাণে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, কার্বাইন উদ্ধার হয়েছে।

Comments are closed.