বুধবার, অক্টোবর ১৬

বানভাসি অসমে জাপানি এনসেফেলাইটিসের বলি ১০২, ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে বন্যা, অন্যদিকে জাপানি এনসেফেলাইটিস- জোড়া ফলায় বিদ্ধ অসম। বন্যার জলে ভেসে গেছে অসমের প্রায় ৩৩টি জেলা। এ দিকে সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় জাপানি এনসেফেলাইটিসের (জেই) সংক্রমণ  বাড়ছে হু হু করে। শনিবার পর্যন্ত সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র মিলিয়ে মোট ১০২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপ্যাল হীরণ্যকুমার গোস্বামী জানিয়েছেন আগামী তিন বছরের মধ্যে চলতি বছরে রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু হয়েছে এই সংক্রমণে।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, অসমের ১৫টি জেলায় মোট ৬৯ জনের রক্তে জেই-র জীবাণু মিলেছে। প্রতিষেধকের অভাবে সমস্যা পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অসম তথা উত্তর-পূর্বের ওষুধ সরবরাহকারীদের হাতে ওই ওষুধ না আসায় বিপত্তি বেড়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ফার্মাসিতে এনসেফেলাইটিসের প্রতিষেধকের অভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা ছড়িয়েছে।

অসম সরকারের স্বাস্থ্য দফতর, ‘ন্যাশনাল ভেক্টর বোর্ন ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’-এর অধীনে রাজ্যের ১৫টি জেলায় প্রতিষেধক দেওয়ার কাজ চলছে। কেন্দ্র স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে চারটি দলকে প্রতিষেধক সরবরাহ-সহ যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। সমীক্ষা বলছে, জাপানি এনসেফেলাইটিসের সংক্রমণে ২০১৬ সালে অসমে মৃত্যু হয়েছিল ৯২ জনের, ২০১৭-তে ৮৭ জনের, গত বছর ৯৪ জনের।

গত ২ জুলাই এই সংক্রমণে ২৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছিল। মাস শেষের আগেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াল ১০২ জনে।সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে ভর্তি রয়েছে চারশোরও বেশি মানুষ। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, সংক্রমণের প্রভাব অত্যন্ত বেশি লখিমপুর জেলায়। সংক্রমণ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে, কাচার, ডিব্রুগড়, হাইলাকান্দি, গোয়ালপাড়া, কামরূপ ও করিমগঞ্জেও।

বাংলার তুফানগঞ্জ, তুফানগঞ্জ ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা অসমের কাছে। সেখানকার বাসিন্দারা তো বটেই, নানা কাজে জেলার প্রচুর মানুষ অসমে নিয়মিত যাতায়াত করেন। তাছাড়া অসমের নানা এলাকা থেকে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রোগীদের কোচবিহারে চিকিৎসার জন্য আসার নজিরও রয়েছে। তাই জাপানি এনসেফ্যালাইটিসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়তেই ওই দুটি ব্লকে নজরদারি বাড়াতে জোর দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

Comments are closed.