মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

মোদীকে সবসময় ভিলেন বানিয়ে লাভ নেই: জয়রাম, অভিষেক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীর থেকে চিদম্বরম—প্রায় প্রতিটি ইস্যুতেই যখন কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত, তখন একেবারে অন্য সুর শোনা গেল বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশের গলায়। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে মনমোহন সিং সরকারের মন্ত্রী জয়রাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের শাসনের মডেল কোনও ভাবেই সম্পূর্ণ নেতিবাচক নয়।” এখানেই থামেননি জয়রাম। বলেছেন, “আমরা যদি তাঁকে স্বীকৃতি না দিতে পারি তাহলে তাঁকে খলনায়ক প্রতিপন্ন করার কৌশল খুব একটা কাজে আসবে না।” তাঁর মতে, যে কাজ নরেন্দ্র মোদী করেছেন পাঁচ বছরে, তাতে তাঁকে ‘খলনায়ক’ হিসেবে উপস্থাপিত করা একেবারেই ঠিক নয়।

এ নিয়ে ভোট শতাংশেরও হিসেব তুলে ধরেছেন প্রাক্তন গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী। তিনি ওই অনুষ্ঠানে বলেছেন, “আমাদের স্বীকৃতি দিতে হবে ২০১৪-১৯ পর্যন্ত তিনি যে কাজ করেছেন তাকে। যে কারণে ফের একবার ৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে কুর্সিতে বসেছেন মোদী।” যদিও এ বার ভোটে ৩৭.০৪ শতাংশ মানুষের সমর্থন পেয়েছে বিজেপি। এনডিএ-এর শরিক দলের ভোট যোগ করলে তা প্রায় ৪৫ শতাংশের কাছাকাছি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক কপিল সতীশ কমিরেড্ডির বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে জয়রাম এ-ও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যে সহজ সরল ভাষায় কথা বলেন, তা আমরা বুঝতে না পারলেও দেশের আমজনতা ভালই বুঝতে পারছেন।” এ ভাবে যে তাঁকে প্রতিহত করা যাবে না। জয়রামের কথায়, “মোদীকে সবসময় খলনায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলে ভুল হবে।”

ওই বক্তৃতার বেশিরভাগ সময় মোদী সরকারের ইতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “মোদী যে ধরনের প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেছেন এবং সেক্ষেত্রে সরকার যে অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলছে, তার সবটাকে নেতিবাচক বলা যাবে না। বরং এর একটা ইতিবাচক প্রভাব সমাজে পড়েছে। এক শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার মানও বেড়েছে বৈকি।

প্রধানমন্ত্রী উজ্বলা যোজনার ভূয়সী প্রশংসা শোনা যায় কর্ণাটক থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসের এই রাজ্যসভার সাংসদের গলায়। তাঁর কথায়, “এই প্রকল্প দেশের কোটি কোটি মহিলার সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগসূত্র তৈরি করে দিয়েছে।”

নরসিংহ রাও জমানা থেকে সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কাজ করছেন জয়রাম রমেশ। মনমোহন-সরকারে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে তিনি কার্যত মাঠে নেমে কাজ করেছেন। তা সে নির্মল গ্রাম যোজন হোক বা গ্রাম সড়ক যোজনা। জয়রাম যত বেশি না রাজনীতিক, তার তুলনায় অনেক বেশি সামাজিক আন্দোলন কর্মী। অনেকের মতে, মোদীর প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সে ভাবেই বিচার করেছেন জয়রাম। এবং বোঝাতে চেয়েছেন, ভাল কে ভাল বলাও শিখতে হবে। এবং সরকারের বিরোধিতা করতে হবে ইস্যু ভিত্তিতে।

জয়রামের এই মতকে জোরালো সমর্থন করেছেন কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তিনি বলেন, “মোদী শুধু দেশের প্রধানমন্ত্রী নন, একগুঁয়ে বিরোধিতা আখেরে তাঁর উপকারই করছে। কাজের ভিত্তিতে সরকারের মূল্যায়ন করতে হবে। ব্যক্তি মোদীর চরিত্রের ভিত্তিতে নয়। উজ্জ্বলা যোজনা অবশ্যই ভাল কাজ।”

Comments are closed.