শনিবার, মার্চ ২৩

‘এ বার সময় হয়েছে না বলার’, বিশ্বকাপে পাক ম্যাচ বয়কটে সমর্থন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যাঁরা ম্যাচ বয়কটের দাবি জানাচ্ছেন, তাঁদের দাবি যথাযথ। এমনটাই বক্তব্য কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের। তাঁর দাবি, পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক এখন আর স্বাভাবিক নেই।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারের সময় তিনি বলেন, “ক্রিকেটীয় বিষয়ে মন্তব্য করা আমার উচিত নয়। কিন্তু আমার মনে হয়, যাঁরা এই দাবি জানাচ্ছেন, তাঁদের দাবির মধ্যে যুক্তি রয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক গানের কোম্পানি পাকিস্তানি গায়কদের সঙ্গে কাজ করবে না বলে জানিয়েছে। সিনেমার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই।”

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত খেলবে কিনা, তা নির্ভর করছে আইসিসি ও বিসিসিআই-এর উপর। তবে তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজে প্রাক্তন অধিনায়ক। কিন্তু এই জঙ্গিহানার ব্যাপারে একটা কথাও তিনি বলেননি। তাই এ বার সময় হয়েছে আমাদের না বলার।”

শুধুমাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদই নন, পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আর না রাখার দাবি জানিয়েছেন প্রাক্তন অফ স্পিনার হরভজন সিং ও ভারতের বর্তমান পেসার মহম্মদ শামি। একই দাবি জানানো হয়েছে মুম্বইয়ের ক্রিকেট ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার তরফেও। ব্রেবোর্ন, মোহালি, জয়পুর প্রভৃতি একাধিক স্টেডিয়াম থেকে পাক ক্রিকেটারদের ছবি ইতিমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। উল্টোদিকে পাকিস্তানও দাবি করেছে, পাক শুটারদের ভারতে খেলতে আসার জন্য ভিসার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এমনিতেই ২৬/১১ মুম্বই হামলার পর থেকেই দু’পক্ষের ক্রিকেট সম্পর্ক তলানিতে। একমাত্র আইসিসি টুর্নামেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দেশ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ। আইপিএল-এও পাক ক্রিকেটারদের নেওয়া হয় না। এর ফলে ইতিমধ্যেই দু’দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সম্পর্কের অনেকটাই অবনতি হয়েছে।

বোর্ডের এক শীর্ষকর্তাও জানিয়েছেন, যদি ভারত সরকার চায়, তাহলে বিশ্বকাপে পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট করতে তাঁরা তৈরি। তবে এই বিষয়ে এখনও আইসিসির কাছে কোনও আবেদন জানানো হয়নি। ২৭ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে আইসিসির বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলেই বোর্ড সূত্রে খবর।

এইরকম পরিস্থিতিতে আদৌ দু’দেশের মধ্যে খেলা হবে কিনা তা সময় বলে দেবে। তবে এ কথা বলা যায়, প্রত্যেকদিন ম্যাচ বয়কটের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। ক্রিকেটীয় স্পিরিট, না দেশের প্রতি আবেগ, শেষ পর্যন্ত কে জেতে, সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন

মোদীর অনুরোধ, সৌদির জেলে থাকা ৮৫০ ভারতীয়কে মুক্তির নির্দেশ যুবরাজের

 

Shares

Comments are closed.