শনিবার, ডিসেম্বর ১৪
TheWall
TheWall

গুজরাতে কংগ্রেস-বিজেপি ৫০-৫০, রাহুলকে ‘ধোঁকা’ দিয়ে হারলেন অল্পেশ ঠাকুর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল গান্ধীকে ‘ধোঁকা’ দিয়ে গুজরাতের এই ওবিসি নেতা লোকসভা ভোটের পরপরই যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। যা দেখে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে অনেকেই বিস্ময়ের সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছিলেন, বাবা এমনও হতে পারে? এতো রাজনৈতিক ধোঁকাদারি। নাম অল্পেশ ঠাকুর।

এক সময়ের ঘোর মোদী-বিরোধী এই নেতা ১৭ সালে গুজরাত ভোটের সময়ে রাহুলের হাত ধরেছিলেন অল্পেশ। গুজরাতের রাধানপুর থেকে কংগ্রেসের বিধায়কও হয়েছিলেন। এবার সেই রাধানপুরের মাটিতেই কংগ্রেসের কাছে হারতে হল নব্য বিজেপি নেতা অল্পেশকে।

গুজরাতের ছ’টি বিধানসভার উপনির্বাচন হয়েছিল ২১ তারিখ। বৃহস্পতিবার ফল বেরোরতে দেখা যায়, বিজেপি-কংগ্রেস ৫০-৫০। অর্থাৎ বিজেপি জিতেছে তিনটিতে। আর কংগ্রেসও তিনটিতে। যে গুজরাতে এই পাঁচমাস আগের লোকসভা ভোটে ২৬টি আসনের মধ্যে ২৬টিই জিতেছিল বিজেপি, সেখানে উপনির্বাচনের এই ফলাফলকে গেরুয়া শিবিরের কাছে ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে। তাঁদের মতে, উপনির্বাচনের ট্রেন্ড হচ্ছে, রাজ্যে যাঁরা সরকার চালায় তাঁরাই জেতে। ৯৫ সাল থেকে টানা যে রাজ্যে বিজেপির সরকার চলছে, সেখানে কংগ্রেসের এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ বইকি।

অল্পেশ ঠাকুর বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর কংগ্রেস সরাসরি বলতে শুরু করেছিল ও দলিতদের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। গত অক্টোবর মাসে আগুন জ্বলেছিল গুজরাতে। এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের ঘটনায় এক বিহারি শ্রমিকের নাম জড়ায়। তারপরই উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা গুজরাত। ঠাকুর সেনার তাণ্ডবে গুজরাত ছেড়ে যেতে বাধ্য হন ভিন রাজ্য থেকে গুজরাতে কাজ করতে যাওয়া হাজার হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার। ওই আন্দোলনের মাথা ছিলেন অল্পেশ। তারপর বিহার কংগ্রেসের নেতারাও তোপ দেগেছিলেন অল্পেশের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাতে আমল না দিয়ে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের ঘরের মাঠে বিজেপির উপরে চাপ বাড়াতে অল্পেশের উপরে ভরসা করেছিলেন তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

কিন্তু এ দিনের ফলাফল দেখে অনেকেই বলছেন, অল্পেশের আমও গেল, ছালাও গেল। আর বৃহৎ ছবিটা হল, গুজরাতের রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেস নতুন করে যেন অক্সিজেন পেল। কারণ, কেন্দ্র-রাজ্যে ক্ষমতায় থেকে তিনটি আসনে বিজেপির এই হার শুধু বিজয় রুপানির হার নয়। অমিত শাহেরও অস্বস্তির কারণ।

Comments are closed.