শনিবার, আগস্ট ২৪

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সক্রিয় এক ডজন জঙ্গি শিবির, নাম লেখাচ্ছে প্রাক্তন জঙ্গিরাও, সতর্ক করল এনআইএ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই জঙ্গি নাশকতার আশঙ্কায় নিরাপত্তা দ্বিগুণ করা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ রেখায়। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক ডজনেরও বেশি জঙ্গি সংগঠন। পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদী দলে নাম লেখানোর হিড়িক পড়ে গেছে সেখানকার অধিকাংশ লোকজনের। ‘অধিকারের লড়াইয়ে’ ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছে বেশ কিছু প্রাক্তন জঙ্গিও।

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট জানিয়েছে, জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তইবা এবং তালিবানদের ১৫০ জন সক্রিয় সদস্যের অর্ধেক কোটলির কাছে ফাগুশ ও কুন্ড ক্যাম্পে জড়ো হয়েছে। বাকি শাভাই নাল্লা, আবদুল্লা বিন মাসুদ ক্যাম্পে নাশকতার ছক কষছে। জইশ মাথা মৌলানা মাসুদ আজহারের ভাই ইব্রাহিম আথারকে ইতিমধ্যেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে দেখা গেছে।

নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে তালিবানদের পুরনো একটি গোষ্ঠী। খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকায় তাদের ক্যাম্পও দেখা গেছে। পাশাপাশি জইশের নতুন শিবির হয়েছে জঙ্গল মান্ডি, শিনকিয়ারি, গারহি হাবিবুল্লাহ, ওঘি, ইলাকা-ই-ঘর, আন্ধের বেলা ইত্যাদি অঞ্চলে।

আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ফিনানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)-কে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের উপর সন্ত্রাস নিয়ে আগেই চাপ বাড়িয়েছিল ভারত। এফএটিএফ-র পক্ষ থেকে ইসলামাবাদকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছিল, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও জঙ্গিদের যাবতীয় অর্থিক মদত বন্ধ করতে হবে। না হলে ইসলামাবাদকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।এফএটিএফ সন্ত্রাসে অর্থের জোগান বন্ধ করতে দু’বার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। জানুয়ারি ও মে মাসে। ইসলামাবাদ ব্যর্থ হয়েছে দু’বারই। পাকিস্তান দাবি করেছে, লস্কর, জইশ, জামাত-উদ-দাওয়া ফলাহ-ই-ইনসানিয়ত ফাউন্ডেশনের ৭০০টির বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে আবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পুলওয়ামা কায়দায় ফের জঙ্গি হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। কাশ্মীরে ভারত সরকারের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে ইমরান বলেছেন, ‘‘ভারতের এই সিদ্ধান্ত আরও একটি পুলওয়ামার জন্ম দেবে।’’ সুনির্দিষ্ট কোনও হামলার খবর না থাকলেও আশঙ্কা অমুলক নয় বলেই মনে করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। জলপথে হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সে কারণেই সামগ্রিক সতর্কতার পাশাপাশি নৌবাহিনীকেও সাবধান করা হয়েছে।

Comments are closed.