শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮

মায়া-অখিলেশ জোটে নিলেন না, নাকি কৌশল করেই জোটে গেলেন না রাহুল?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুতে বিপুল মঞ্চের উপর সনিয়া-মায়াবতীর কপাল ঠোকাঠুকির ছবিটা মনে পড়ে! কর্নাটকে কংগ্রেস-জেডিএস সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সেই মঞ্চে পরস্পরকে আহ্লাদে জড়িয়ে ধরেছিলেন সনিয়া-মায়া। মঞ্চে ছিলেন মুলায়ম সিং-এর পুত্র অখিলেশ যাদবও।

সে দিন ওটাই ফোটো ফ্রেম ছিল। এবং সর্বভারতীয় রাজনীতির প্রায় সকলেই ধরে নিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশে এ বার মহাজোট হবে। সপা-বসপা-র সঙ্গে জোটে থাকবে কংগ্রেসও।

কিন্তু শনিবার সেই মায়াবতীই অখিলেশ যাদবকে পাশে নিয়ে লখনউতে সাংবাদিক বৈঠক থেকে জানিয়ে দিলেন, নাহ্, কংগ্রেসকে জোটে নেওয়ার প্রশ্নই নেই। সনিয়া ও রাহুলের জন্য শুধু অমেঠি ও রায়বরেলী আসন ছেড়ে দেওয়া হবে।

বেঙ্গালুরুর মঞ্চের সঙ্গে শনিবারের লখনউ-র সাংবাদিক বৈঠকের ছবিটাই যে মিল নেই তা দৃশ্যত পরিষ্কার। কিন্তু সত্যিই কি মায়া-অখিলেশের সঙ্গে বনিবনা হল না রাহুলের?কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে শুধু আঞ্চলিক দলের জোট হল? নাকি শনিবারের ছবিটা স্রেফ মায়া!

লখনউ ও দিল্লির রাজনৈতিক সূত্র বলছে, আসলে তাই। শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকে খণ্ডচিত্র দেখা গেল। ছবির বাকি অংশ থেকে গেল আড়ালে। সেটা কী?

তা হল, উত্তরপ্রদেশে বিজেপি-কে বেগ দিতে যে সমীকরণ রচনা করছেন বিরোধীরা, তাতে ভালোমতই সামিল রয়েছে কংগ্রেস। এবং প্রাক সিদ্ধান্ত মতোই সপা-বসপার সঙ্গে জোটে যাবে না কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর বাহিনী লড়বে পৃথক ভাবে।

বাস্তব হল, উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে কোনওদিনও বিশেষ ফল পায়নি সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টি। কারণ, তাঁরা তাঁদের ভোট কংগ্রেসের ঝুলিতে স্থানান্তরিত করতে পারলেও, কংগ্রেসের উচ্চবর্ণের ভোট কখনও সপা-বসপার দিকে যায়নি। দ্বিতীয়ত, কংগ্রেস যদি সপা-বসপার সঙ্গে জোট করে তা হলে আশঙ্কা রয়েছে যে উচ্চবর্ণের ভোট পুরোটাই চলে যাবে বিজেপি-র দিকে। সে ক্ষেত্রে লাভ হবে বিজেপি-রই। তাই ঠিক হয়েছে, মূলত জোটে থাকবে অখিলেশ, মায়াবতী এবং রাষ্ট্রীয় লোকদল। কংগ্রেস তাঁদের দলিত, ওবিসি এবং সংখ্যালঘু প্রার্থীদের বিরুদ্ধে উচ্চবর্ণের তাগড়া প্রার্থী দেবে। যাতে উচ্চবর্ণের ভোট কংগ্রেস ও বিজেপি-র মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। একই ভাবে প্রায় ১৮ টি আসনে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রার্থী দেবে সপা-বসপার জোট। আবার অমেঠি, রায়বরেলীতে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যেমন প্রার্থীই দেবেন না মায়াবতী-অখিলেশ, তেমনই সপা-বসপার প্রার্থীর বিরুদ্ধে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি আসনে কংগ্রেস প্রার্থী দেবে না।

এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, একা লড়ে অমেঠি, রায়বরেলীর বাইরে একটা আসনও জিততে পারবে কি কংগ্রেস? সপা-বসপা নয় দুর্বল প্রার্থী দেবে কোথাও কোথাও। কিন্তু বিজেপি-র সংগঠনের সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে তো রাহুলের দলের?  এর জবাবে অবশ্য কংগ্রেস নেতারা ২০০৯ সালের ভোট ফলাফলের দিকে আঙুল দেখাচ্ছেন। তখনও উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের সংগঠন তেমন মজবুত ছিল না। রাজ্যে তখন দোর্দণ্ডপ্রতাপ ক্ষমতা মায়াবতীর। কিন্তু লোকসভা ভোটে ২১টা আসন জিতে নিয়েছিল কংগ্রেস। বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ৯টি আসন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অখিলেশ-মায়া ও রাহুলের নতুন ফর্মুলা একেবারেই কাল্পনিক নয়, আকাশ কুসুমও নয়। ইতিমধ্যে কাইরানা ও গোরক্ষপুর লোকসভার উপ নির্বাচনে এর পাইলট প্রোজেক্ট হয়ে গিয়েছে। গোরক্ষপুর লোকসভার উপ নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী না দিলে সপা-বসপা জোটের প্রার্থী জিততে পারতেন না। কারণ, কংগ্রেস যতটা ভোট কেটেছে, ঠিক ততটা ব্যবধানেই বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়েছিল সপা-বসপার জোট। আবার কাইরানার উপ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী ছিলেন রাষ্ট্রীয় লোক দলের তাবাস্সুম হাসান। কংগ্রেস ওই ভোটে প্রার্থী দেয়নি।

তবে সন্দেহ নেই যে, তলায় তলায় এই সমঝোতার কথা ভোট প্রচারের সময় অনুচ্চারিতই থাকবে। ভোট প্রচারে সপা-বসপা এবং কংগ্রেসের আক্রমণের মূল লক্ষ্যই থাকবে বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু কখনও সখনও কংগ্রেসের সমালোচনা করবেন মায়া-অখিলেশ। কখনও বা তাঁদের সমালোচনা করবেন রাহুল।

শেষমেশ এর ফলাফল কী দাঁড়াবে, এই সমীকরণের মোকাবিলায় অমিত শাহরাই বা কী কৌশল নেবেন এখন সেটাই দেখার।

Shares

Comments are closed.