গালওয়ানের বিতর্কিত এলাকায় মান্দারিনে চিনের প্রতীক ও ম্যাপ, আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা

ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ ও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ রেঞ্জের মধ্যবর্তী ওই রুক্ষ পাহাড়ি এলাকায় আগে এমন প্রতীক দেখা যায়নি। তাই মনে করা হচ্ছে, ওই এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বোঝাতে খুব সম্প্রতিই এই মানচিত্র ও প্রতীক বানিয়েছে চিনা সেনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: গালওয়ান নদী উপত্যকা, হট স্প্রিং এবং প্যাঙ্গং সো— চিন-ভারত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এই এলাকাগুলিতেই একটু একটু করে সমরসজ্জা বাড়িয়ে চলেছে চিন। উপগ্রহ চিত্র জানিয়েছে, ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৪২৩ মিটার এলাকা পর্যন্ত ঢুকে এসেছে চিনা ফৌজ। রীতিমতো ছাউনি তৈরি করে ঘাঁটি গেড়ে বসে গেছে। অন্যদিকে প্যাঙ্গং রেঞ্জের ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ ও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ এলাকার মাঝামাঝি চিনের মান্দারিন ভাষায় লেখা বিশেষ প্রতীক ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। ওই প্রতীকের সঙ্গেই আঁকা হয়েছে চিনের মানচিত্র। ফিঙ্গার ৪ ও ফিঙ্গার ৫ রেঞ্জের মধ্যবর্তী ওই রুক্ষ পাহাড়ি এলাকায় আগে এমন প্রতীক দেখা যায়নি। তাই মনে করা হচ্ছে, ওই এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বোঝাতে খুব সম্প্রতিই এই মানচিত্র ও প্রতীক বানিয়েছে চিনা সেনা।

    প্যাঙ্গং লেকের অববাহিকায় চিন ও ভারতীয় বাহিনীর অবস্থান

    এলএসি-তে চিনের যে রেড আর্মি টহল দেয় তারা বেশিরভাগই মান্দারিন ভাষায় কথা বলে। ভারতীয় বাহিনীও এই ভাষা শিখে রাখে। বিশেষত লাদাখ সেক্টরে যে ইন্দো-টিবেটান বর্ডার ফোর্স টহল দেয় তারা অধিকাংশই এই মান্দারিন ভাষা জানে। অন্যদিকে, চিনা ফৌজ আবার ভারতীয় ভাষাতেও দক্ষ। গত সপ্তাহে চিনা বাহিনীর কম্যান্ডার ওয়াং হাজিয়াংকে সীমান্ত বরাবর তিব্বত রিজিয়নে মান্দারিন ভাষায় ‘চিন’ শব্দটি লিখতে দেখা গিয়েছিল।

    আরও পড়ুন: লাদাখের কাছেই এয়ারবেস বানাচ্ছে চিন, উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেল, টারমাকে যুদ্ধ বিমান দাঁড়িয়ে

    প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা তথা এলএসি বরাবর এলাকাকে কয়েকটি রেঞ্জে ভাগ করা হয়—লাদাখ রেঞ্জ, প্যাঙ্গং রেঞ্জ, শিয়ক নদী উপত্যকা এবং দেপসাং সমতলভূমি। ১৬ থেকে ১৮ হাজার ফুট উচ্চতার প্যাঙ্গং লেক পর্যন্ত রেঞ্জকে ফিঙ্গার এলাকা বা ফিঙ্গার পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভারতীয় বাহিনী ফিঙ্গার পয়েন্ট ১ থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮ অবধি এলাকাকে নিজেদের অধিকারে দাবি করে টহল দেয়। অন্যদিকে, চিনা বাহিনী ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮ থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ পর্যন্ত এলাকায় টহল দেয়। এই দুই এলাকার কমন পয়েন্ট হল ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪। দুই দেশের মাঝে একটা সীমারেখা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।  ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ফিঙ্গার পয়েন্ট ৩ এলাকা বরাবর অ্যানি লা পাস অবধি নিজেদের রাস্তা তৈরি করে ভারতীয় সেনা। ফিঙ্গার পয়েন্ট ৩ এর কাছে নিজেদের পোস্টও তৈরি করে আইটিবি বাহিনী। চিনা ফৌজের বরাবরই নজর ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন ওই এলাকা। বিশেষত ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮ এর মধ্যবর্তী যে এলাকা অবধি ভারতীয় সেনারা টহলদারি করে, সেই এলাকাতেই এখন নিজেদের ঘাঁটি তৈরি করা শুরু করেছে চিনা বাহিনী।

    আরও পড়ুন: গালওয়ান উপত্যকায় সারি সারি কালো ত্রিপল, ছাউনি তৈরি করে ফেলেছে চিনা সেনা, ধরা পড়ল উপগ্রহ চিত্রে

    ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৬ রেঞ্জের মধ্যবর্তী এলাকায় চিনা বাহিনীর অস্থায়ী তাঁবু, চিনা সেনার গতিবিধি ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে

    উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে, ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ ও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ এলাকার মাঝামাঝি প্রায় ৮১ মিটার দীর্ঘ ও ২৫ মিটার প্রশস্ত এলাকায় চিনের সেনার তৎপরতা বেড়েছে। সেখানে কংক্রিটের বাঙ্কার তৈরি করে ফেলেছে তারা। প্ল্যানেট ল্যাবের উপগ্রহ চিত্র আরও দেখিয়েছে, ওই এলাকা জুড়ে শতাধিক বুলডোজার, ট্রাক ও যুদ্ধাস্ত্র জমা করা শুরু করেছে চিনা ফৌজ। অন্তত ১৮৬ টি অস্থায়ী ছাউনি, তাঁবু বানানোর কাজ চলছে। এলএসি-র যে পেট্রোলিং পয়েন্ট পিপি-১৪-এ চিন ও ভারতীয় সেনার সংঘর্ষ হয়েছিল, ওই এলাকায় ইতিমধ্যেই সারি সারি কালো ত্রিপল দেখা গেছে উপগ্রহ চিত্রে। মনে করা হচ্ছে কম করেও ১৬টি ছাউনি বানিয়ে ফেলেছে চিনা সেনা।

    আরও পড়ুন: গালওয়ানে ভারতের সীমানা পেরিয়ে ৪২৩ মিটার ঢুকে এসেছে চিন, দেখা গেল উপগ্রহ চিত্রে

    ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ এর কাছে কংক্রিটের কালভার্ট তৈরি হয়েছে। এই কাঠামো বিস্তৃত হয়েছে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ অবধি।

    সেনা সূত্রে খবর, দৌলত বেগ ওল্ডিতে বায়ুসেনা ঘাঁটির দক্ষিণে দেপসাং উপত্যকায় এলএসি পেরিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার ঢুকে এসে চিনা সেনা ‘ওয়াই-জংশন’-এ ডেরা বেঁধেছে। ফলে ভারতীয় বাহিনীর পেট্রোলিং পয়েণ্ট ১০ এবং পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৩-তে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। ওই ‘ওয়াই-জংশন’ থেকেই পেট্রোলিং পয়েন্ট ১০, ১১এ, ১২ ও ১৩ –তে যাওয়ার রাস্তা রয়েছে। চিনা সেনা ওই এলাকা দখল করে বসে গেছে।

    উপগ্রহ চিত্র আরও দেখিয়েছে, ফিঙ্গার ৪ ও ফিঙ্গার ৫ এলাকায় নদীর গতিপথে কংক্রিটের কাঠামো তৈরি হয়েছে। যার উপর দিয়েই সামরিক সরঞ্জাম বয়ে নিয়ে যাচ্ছে চিনা সেনা। দারবুক-দৌলত বেগ ওল্ডি সড়কের ৬ কিলোমিটার দূরে গত ১৫ জুন পিপি-১৪ পেট্রোলিং পয়েন্টের যেখানে দুই দেশের সেনার মুখোমুখি সংঘাত বেঁধেছিল ওই এলাকায় থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটারের মধ্যে চিনা সেনার অবস্থান ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। এর আগে ওই সমস্ত এলাকা ছিল শুনশান। সামরিক পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে গত ২২ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে, উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে এমনটাই।  অন্যদিকে প্যাঙ্গং লেকের মাত্র ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে বিমানঘাঁটি গড়ে তুলেছে চিন। মনে করা হচ্ছে, টারম্যাকে সম্ভবত জে-১১ বা জে-১৬ যুদ্ধ বিমানও রয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More