বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

ইন্ডিগোর সংসারে এ বলছে ‘ওর বেশি ইগো,’ ও বলছে ‘এ বেশি মাতব্বর’

  • 27
  •  
  •  
    27
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তারা প্রথম। দ্বিতীয়ের থেকে অনেকটাই এগিয়ে থাকা প্রথম। এতদিন আকাশ দখলের লড়াইয়ে শুধু নয়, কম খরচের বিমান পরিষেবা সংস্থা হিসেবে অন্যতম নাম ছিল ইন্ডিগোর। যাত্রী পরিবহনের নিরিখে ইন্ডিগো দেশের বৃহত্তম বিমান পরিবহন সংস্থাও বটে। সেই ইন্ডিগোর অন্দরেই এ বার অশান্তি বাঁধল দুই কর্ণধার রাহুল ভাটিয়া ও রাকেশ গ্যাংওয়ালের মধ্যে। দীর্ঘদিনের বন্ধু, বিজনেস পার্টনার রাহুলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছেন রাকেশ গ্যাংওয়াল। সংস্থার পরিচালন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও তুলেছেন প্রশ্ন।

জেটের ভরাডুবির পর মুখে হাসি নেই ইন্ডিগোরও। একের পর এক দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এই বিমান পরিবহন সংস্থা। কখনও শেয়ার বাজারে ধস, কখনও জ্বালানি সংকটে লোকসান, আবার কখনও উড়ানে ঘাটতি। এরই মাঝে দুই কর্ণধারের ঝগড়াও প্রায় প্রকাশ্যে চলে এসেছে। রাকেশ গ্যাংওয়াল ও রাহুল ভাটিয়া, দু’জনেরই শেয়ার ৩৫ শতাংশের বেশি। যদিও অন্দরমহলের কোন্দল খুব সাবধানেই আড়াল করে চলেছে ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ, তবে সম্প্রতি ইন্ডিগোর অভিভাবক সংস্থা ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশনের শেয়ার ১৯ শতাংশ পড়ে যাওয়ার পরে, এই অশান্তি পুরোপুরিই সামনে চলে আসে। সংস্থার আইন কানুন ও অভ্যন্তরীণ পরিচালন ব্যবস্থা সম্পর্কে তদন্তের জন্য সিকিউরিটি‌জ় অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া(সেবি)-র দ্বারস্থ হন রাকেশ।

গত ৮ জুলাই সেবি-কে লেখা চিঠিতে রাকেশ জানান, জেটের মতোই মুখ থুবড়ে পড়তে চলেছে দেশের বৃহত্তম এই বিমান পরিবহন সংস্থা। তাঁর অভিযোগ, রাহুল ভাটিয়ার পরিচালন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নেই। শেয়ারহোল্ডারদের উপর তিনি নাকি মাত্রাতিরিক্ত কর্তৃত্ব ফলান। হালে ইন্ডিগোর কোর গ্রুপের শেয়ারের এই আকস্মিক পতনের পিছনেও রাহুল ও তাঁর নিয়ন্ত্রাধীন সংস্থার খামতিই রয়েছে।

ইন্টারগ্লোব এন্টারপ্রাইজের রাহুল ভাটিয়া এবং প্রবাসী ভারতীয় রাকেশ গ্যাংওয়ালের হাত ধরে ২০০৬ সাল থেকে পথ চলা শুরু হয় ইন্ডিগোর। সেই সময় ইন্টারগ্লোবের শেয়ার ছিল ৫১.১২% এবং রাকেশের ভার্জিনিয়ান সংস্থা কেইলাম ইনভেস্টমেন্টের শেয়ার ছিল ৪৭.৮৮%। মাত্র ১০০টি এয়ারবাস এ৩০০-২০০ নিয়ে ডানা মেলে ইন্ডিগো। ধীরে ধীরে কিংফিশার এয়ারলাইন্স, জেট এয়ারওয়েজ ও এয়ার ইন্ডিয়াকে পিছনে ফেলে তরতরিয়ে এগিয়ে যায় এই বিমান সংস্থা।

২০১১ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক উড়ানের ছাড়পত্র পায় ইন্ডিগো। তার পর থেকে কলেবরে অনেকটাই বেড়েছে এই বিমান পরিবহন সংস্থা। এই মুহূর্তে দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে মোট ৬৬টি গন্তব্যে ফি দিন ইন্ডিগোর বিমান চলে হাজারেরও।

ভারতে ইন্ডিগোই একমাত্র সংস্থা, যারা শুরু থেকে মুনাফা করে যাচ্ছে। তাদের আর্থিক মডেল অনুসরণ করে অন্য দেশের অনেক কম খরচের বিমান সংস্থা।  ভারতে ঘরোয়া উড়ানের বাজার দখলে শীর্ষেও রয়েছে ইন্ডিগো। চলতি বছর এপ্রিলের হিসেবে সেটা ৪৯.৯%। রাকেশ গ্যাংওয়ালের কথায়, ধস নামে এর পর থেকেই। ভিতরে ভিতরে অশান্তি দানা বেঁধেছিল কয়েক বছর আগে থেকেই। তারই প্রতিফলন দেখা গেছে ইদানীং কালে। রাকেশের অভিযোগ, হঠাৎ করে শুধু শেয়ার বাজারে পতনই নয়, যাত্রী পিছু গড় আয়ও কমে গেছে অনেকটাই। সংস্থার বর্তমান দশা দেখে তাঁর দাবি, ‘‘পানের দোকানও এর থেকে ভালো চলে।’’

বস্তুত রাকেশ গ্যাংওয়ালের সব অভিযোগই উড়িয়ে দিয়েছেন সহ-কর্ণধার রাহুল ভাটিয়া। তাঁর দাবি, এই যাবতীয় সংস্যার একমাত্র কারণ রাকেশের ‘ইগো’ এবং তাঁর অযৌক্তিক সব চাহিদা। যেটা মানতে রাজি ছিল না তাঁর সংস্থা আইজিই।

ইন্ডিগোর কর্তাদের ঝামেলার জের যে সংস্থার কাজকর্মের উপর পড়েনি সেটা বুধবার স্পষ্ট করেন সিইও রনজয় দত্ত। তিনি বলেন, ‘‘মাথাদের ভিতর কী চলছে সেটা আমাদের সমস্যা নয়। ইন্ডিগোর কাজে কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি। আগের মতোই সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।’’

বাজারে কোটি কোটি টাকার দেনা, কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ ইত্যাদি নানা কারণে ভরাডুবি হয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরিবহন সংস্থা জেট এয়ারওয়েজের। সংস্থা ছেড়ে একে একে বিদায় নিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা নরেশ গয়াল থেকে বাকি ডিরেক্টরেরাও। জেট ফের একবার ডানা মেলতে পারবে কি না সে সম্ভাবনাও আঁধারে। দ্বিতীয়ের পরে প্রথমও প্রায় সেই পথেই হাঁটতে চলেছে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

আরও পড়ুন:

‘পানের দোকানও এর থেকে ভালো চলে!’ পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, ইন্ডিগোর সংসারে অশান্তি

Comments are closed.