করোনায় প্রথম মৃত্যু, দেশের এই একমাত্র রাজ্যে সংক্রমণের হারও সবচেয়ে কম

এতমাস অবধি করোনা সংক্রমণে একটিও মৃত্যু হয়নি এই রাজ্যে। অক্টোবরের শেষে এসে প্রথম মৃত্যু হল এক প্রৌঢ়ের, তাও কো-মর্বিডিটির কারণে।

২,৫১৯

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে কোভিড সংক্রমণ যখন চড়চড়িয়ে বাড়ছিল তখন এই রাজ্যকে করোনা মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। কারণ একমাত্র কোভিড রোগীর রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছিল। গত মাস থেকে ফের কয়েকজনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে তবে সেই সংখ্যা হাতে গোনা। সংক্রমণের কার্ভও একেবারেই কম। এতমাস অবধি করোনা সংক্রমণে একটিও মৃত্যু হয়নি এই রাজ্যে। অক্টোবরের শেষে এসে প্রথম মৃত্যু হল এক প্রৌঢ়ের, তাও কো-মর্বিডিটির কারণে।

উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির মধ্যে মিজোরামই আশার আলো দেখাচ্ছে দেশকে। জাতীয় গড়ের থেকে সংক্রমণের হার কম। হাসপাতাল-নার্সিংহোমে রোগীর ভিড় নেই। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, এত মাসের মধ্যে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে ৬২ বছরের সেই রোগীর শরীরে ভাইরাল লোড কম ছিল, বরং কো-মর্বিডিটির কারণেই মৃত্যু হয়েছে রোগীর। গত দশদিন ধরে জোরাম মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা চলছিল ওই রোগীর। তাঁর শরীরে নানা রোগ ছিল বলে দাবি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের।

মিজোরামে এখন অ্যাকটিভ কোভিড রোগীর সংখ্যা ৩৭৪। গতকাল অবধি করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬০৭ জন। নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৮০ জনের মধ্যে। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলছেন, আক্রান্তদের বেশিরভাগেরই সংক্রমণ মৃদু। ২ হাজার ৩৩৩ জন কোভিড জয় করেছেন। রাজ্যে করোনায় সুস্থতার হার ৮৫.৬৬ শতাংশ।

মিজোরামে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে মার্চে। একমাত্র করোনা রোগীর বয়স ছিল ৪৫ বছর। মিজোরামের একটি চার্চে কর্মরত ছিলেন তিনি। গত ১৬ মার্চ আমস্টারডাম থেকে ফেরার পরেই তাঁর মধ্যে একটু একটু করে করোনার উপসর্গ ফুটে ওঠে। গত ২৪ মার্চ তাঁকে জোরাম মেডিক্যাল কলেজে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ব্যক্তির স্ত্রী ও মেয়েকেও রাখা হয়েছিল কোয়ারেন্টাইনে। হাসপাতালে ওই ব্যক্তির করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তবে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের কোভিড টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় চারদিন পরেই তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর আর একটিও করোনা রোগীর হদিশ না মেলায় করোনা-মুক্ত রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয় মিজোরামকে। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, ইদানীং গত দু’মাসে রাজ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে ঠিকই তবে সংক্রমণের হার কম। আক্রান্তদের বেশিরভাগই সেরে উঠেছেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পু জোরামথাঙ্গা বলেছেন, মিজোরাম এমন একটি রাজ্য যেখানে নিয়মশৃঙ্খলার অমান্য করা হয় না। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের সবকটি চার্চ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং সরকারি আধিকারিকরা সম্মিলিতভাবে কাজ করেছেন। করোনা ঠেকাতে রাজ্যবাসীদের ভূমিকাও প্রশংসনীয়। প্রথম করোনা রোগীর খোঁজ পাওয়ার পরেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকাতে চটজলদি প্রোটোকল বানিয়ে ফেলা হয়। প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে এই কাজে হাত মেলায় বিভিন্ন এনজিও এবং চার্চও। লকডাউনের বিধি খুব কঠোরভাবে মেনে চলেছিলেন মিজোরামবাসী। জমায়েত, আড্ডা কোনও কিছুই হয়নি। পারস্পরিক দূরত্ব বিধি মানা হয়েছে দোকান-বাজারেও। তাই সংক্রমণের হার জাতীয় গড়ের থেকে অনেক কম।

মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, রাজ্যের সমস্ত হাসপাতাল ও কোভিড কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিকে প্রস্তুত রাখাই হয়েছে। পর্যবেক্ষণে থাকা রোগীদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখছেন ডাক্তাররা। প্রতি মুহূর্তের খবর পাঠানো হচ্ছে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কাছে। আশা করা যায় আগামী দিনে করোনা একেবারে নির্মূল করে ফেলবে মিজোরাম।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More