বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯

অনুপ্রবেশের সময় ভারতীয় জওয়ানদের হাতে নিকেশ পাক সেনা-জঙ্গিরা, ভিডিও প্রকাশ সেনাবাহিনীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : জম্মু কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়ার পর থেকে লাগাতার অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে পাক সেনা ও জঙ্গিরা। ভারতও তার জবাব দিচ্ছে। মাসখানেক আগেই কেরন সেক্টর দিয়ে ভারতের প্রবেশ করার চেষ্টা করেছিল পাক ব্যাট ( বর্ডার অ্যাকশন ফোর্স ) সেনা ও জঙ্গিরা। ভারতীয় জওয়ানদের হাতে নিকেশ হয় তারা। আগেই তাদের ছবি প্রকাশ করেছিল সেনাবাহিনী। এ বার প্রকাশ করা হলো ভিডিও।

সোমবার ওই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেছে সেনাবাহিনী। ড্রোনের সাহায্যে তোলা হয়েছে সেই ভিডিও। সেখানে পাকিস্তানের পতাকা হাতে সেনা ও জঙ্গিদের পিছু হটতে দেখা গিয়েছে। সেইসঙ্গে অনুপ্রবেশ করতে গিয়ে খতম হওয়া সেনা ও জঙ্গিদের দেহের ভিডিও তোলা হয়েছে। সেইসঙ্গে তারা যে অস্ত্র সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল, তাও ধরা পড়েছে এই ভিডিওতে।

অগস্টের প্রথম সপ্তাহে কেরন সেক্টর দিয়ে এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়। তখনই ভারতীয় সেনাদের গুলির ঝাপটায় নিকেশ হয় পাক বাহিনীর ৫-৭ জন। যাদের মধ্যে আবার চার জন জইশ-ই-মহম্মদের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গিয়েছে। সেনা-জঙ্গি জুটিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটের নাশকতার চেষ্টা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। পিছু হটা পাক বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে ভারতীয় জওয়ানরা বলেন, “আমাদের গুলিতে নিকেশ হয়েছে তোমাদের দলের ৫-৭ জন। সাদা পতাকা উড়িয়ে এসে দেহগুলো তোমরা নিয়ে যেতে পারো।” পাকিস্তানের তরফ থেকে যদিও এই ডাকে সাড়া দেওয়া হয়নি।

ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, গত ৩১ জুলাই থেকেই কেরন সেক্টরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানের ব্যাট বাহিনী। ওই দলে রয়েছে জইশ শিবিরের জঙ্গিরাও। নিহতদের কাছ থেকে স্নাইপার রাইফেল ও আইইডি বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। সেনা সূত্র জানাচ্ছে, নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই জইশ জঙ্গি। বাকিরা পাক সেনা। অনুপ্রবেশ রোখা গেলেও নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর এখনও আত্মগোপন রয়েছে একাধিক জইশ জঙ্গি। ফের নাশকতার চেষ্টা চালাতে পারে তারা।

ভারতীয় সেনা ও গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে,  কাশ্মীরে বড় রকমের নাশকতার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের মদতে পুষ্ট জঙ্গি সংগঠন। ১৫ জন জইশ জঙ্গির একটি দল খাইবার পাখতুনখোয়ার জামরুদে সেনা প্রশিক্ষণ নিয়ে জইশের নানা শিবিরে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাট বাহিনীর মদতে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের একটা বড় অংশ। যদিও পাকিস্তানের দাবি ছিল, নিয়ন্ত্রণরেখায় ‘ক্লাস্টার বোমা’ ব্যবহার করেছে ভারত। যাতে ক্ষতি হচ্ছে উপত্যকার বাসিন্দাদেরই। নিহতদের মধ্যে পাক সেনা নয় বরং রয়েছে স্থানীয়রাই।

Comments are closed.