বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

পাকিস্তানের উদ্দেশ্য বোঝা যাচ্ছে, ইসলামাবাদকে সিদ্ধান্ত বিবেচনার বার্তা নয়াদিল্লির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব কমানোর ব্যাপারে ইসলামাবাদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাক প্রশাসনকে তা ফের বিবেচনা করে দেখার বার্তা দিল নয়াদিল্লি। সাউথ ব্লকের স্পষ্ট বক্তব্য, ৩৭০ ধারা বিলোপ বা কাশ্মীরের পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা নিয়ে গোটা বিশ্বে সংকটের ছবি তুলে ধরে লাভ হবে না।

জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা তথা ৩৭০ ধারা বিলোপের পর পাকিস্তান তেলে বেগুনে চটে উঠেছে। এতটাই যে বুধবার দেশের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডেকে গোটা ঘটনাক্রম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামাবাদ। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বে ওই বৈঠকের পরই ইসলামাবাদ ঘোষণা করে যে, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ইসলামাবাদে স্থিত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অজয় বিসারিয়াকে তাই দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। নয়াদিল্লিতেও আপাতত তাদের কোনও দূত রাখবে না ইসলামাবাদ। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রদ করারও সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান।

কৌশলগত ভাবেই নয়াদিল্লি বুধবার এর কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়, “ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব কমাতে পাকিস্তান এক তরফা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেখেছি। এর উদ্দেশ্য পরিষ্কার। পাকিস্তান গোটা দুনিয়াকে দেখাতে চাইছে যে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক তীব্র সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এটা একেবারেই ভিত্তিহীন। সুতরাং তা না করে যেন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দেখে ইসলামাবাদ”।

নয়াদিল্লির এও বক্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীরকে নিয়ে ভারত সম্প্রতি যে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা একেবারেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ ব্যাপারে নাক গলানোর অধিকার কারও নেই। জম্মু কাশ্মীরের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতি, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা ও উপত্যকায় অর্থনৈতিক কার্যকলাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের যে তা পছন্দ হবে না সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। কারণ, পাকিস্তান বরাবরই চেয়েছে কাশ্মীর পিছিয়ে থাকুক। যাতে বিচ্ছিন্নতার ভাবাবেগে হাওয়া দিয়ে তারা জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটাতে পারে।

শুধু পাকিস্তান নয়, কূটনীতিকদের মতে এই বিবৃতির মাধ্যমে গোটা বিশ্বকেও বার্তা দিতে চেয়েছে নয়াদিল্লি। বোঝাতে চেয়েছে যে কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানকার মানুষের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পদক্ষেপ করার সার্বভৌম অধিকার ভারতের রয়েছে। এ ব্যাপারে বাইরের কারও কোনও বক্তব্য থাকতে পারে না।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল উদ্বেগ জানিয়েছিল রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার রক্ষা কমিটিও। কিন্তু আলাদা করে তাদের বক্তব্যের কোনও জবাবই দেয়নি নয়াদিল্লি। বরং নয়াদিল্লি বোঝাতে চেয়েছে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপুঞ্জেরও মাথা ঘামানোর কোনও দরকার নেই।

Comments are closed.