‘ভারতে ঢুকে মেরেছি’, পুলওয়ামা হামলা ইমরান সরকারের সাফল্য, দাবি পাক মন্ত্রীর

২,০৪৬

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় ৪০ জনের উপর জওয়ান শহিদ হন। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদ এই হামলার দায় নিলেও পাকিস্তানের তরফে বারবার দাবি করা হয়, এই হামলার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু এবার সংসদে দাঁড়িয়ে সবার সামনে এই হামলায় পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা স্বীকার করে নিলেন সেই দেশেরই মন্ত্রী। শুধু তাই নয়, এই হামলাকে ইমরান খান সরকারের সাফল্য হিসেবেই উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আমরা ভারতে ঢুকে মেরেছি। পুলওয়ামায় আমাদের সাফল্য, ইমরান খানের নেতৃত্বে দেশবাসীর সাফল্য। আমরা সবাই এই সাফল্যের অংশীদার।”

ফাওয়াদ চৌধুরী এই দাবি করেছেন পাকিস্তানের সংসদে হওয়া একটি বিতর্ককে কেন্দ্র করে। এই বিতর্কে পাকিস্তানের বিরোধী নেতা আয়াজ সাদিক দাবি করেন, কী পরিস্থিতিতে ভারতের উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ছাড়া হয়েছিল তা তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। তিনি বলেন, ভারত আক্রমণ করতে পারে শুনে সবচেয়ে ভয় পেয়েছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া। তাঁর পা কাঁপছিল। তিনিই পাকিস্তানের প্রশাসনের কর্তাদের কাছে আবেদন জানান, অভিনন্দনকে ছেড়ে দেওয়া হোক।

গতবছর পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানকে হত্যা করে জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদ। পরদিন পাকিস্তানে ঢুকে জইশের ঘাঁটিতে বোমা ফেলে আসে ভারতের বায়ুসেনা। তার পরের দিন পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমান ভারতে ঢুকে পড়লে তাকে তাড়া করেন উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন। পাকিস্তান তাঁর বিমানটিকে গুলি করে নামায়। অভিনন্দন পাকিস্তানি সেনার হাতে বন্দি হন। ২০১৯ সালের ১ মার্চ পাকিস্তান তাঁকে ছেড়ে দেয়। তিনি ওয়াগা-আত্তারি সীমান্ত দিয়ে বাড়ি ফেরেন।

পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) দলের নেতা আয়াজ সাদিক বলেন, অভিনন্দন বন্দি হওয়ার পরে সেদেশের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি আধা সেনার কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। কারণ তাঁদের কাছে খবর ছিল, ভারত যে কোনও সময় আক্রমণ করতে পারে। সেই বৈঠকে সেনাপ্রধানও উপস্থিত ছিলেন। ভারত আক্রমণ করতে পারে শুনে তাঁর পা কাঁপছিল।

আয়াজের কথায়, “সেই মিটিং-এর কথা আমার মনে আছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শাহ মাহমুদ কুরেশি। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মিটিং-এ আসতে অস্বীকার করেন। কিছুক্ষণ পরে সেই ঘরে এলেন জেনারেল বাজওয়া। তাঁর কপালে ছিল বিন্দু বিন্দু ঘাম। আমি পরিষ্কার দেখলাম, তাঁর পা কাঁপছে।”

এই মন্তব্যের পরেই ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে হামলা পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাফল্য। সেইসঙ্গে এই ঘটনাকে পাকিস্তানের জনসাধারণের সাফল্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত এই ঘটনার সঙ্গে পাক সরকারের কোনও যোগ নেই বলেই দাবি করে আসছিল পাকিস্তান। তার মধ্যেই পাক মন্ত্রীর এই দাবিতে শুরু হল বিতর্ক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More