চারমাসে ল্যাব বেড়েছে ৫২ থেকে ১৩০০, বায়োসেফটি লেভেলের ল্যাবেও হবে কোভিড টেস্ট, জানাল আইসিএমআর

আইসিএমআর জানিয়েছে, ৯১১টি সরকারি ল্যাব ও ৪২৮টি বেসরকারি ল্যাবে এখন করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। ৩১ জুলাই অবধি ১ কোটি ৯৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি কোভিড টেস্ট হয়েছে দেশজুড়ে। শুধুমাত্র ৩১ জুলাই করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার, এখনও অবধি যা সর্বাধিক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ তখন মহামারীর আকার নিচ্ছে। আমেরিকা, ইতালি, চিনে মৃত্যুমিছিল শুরু হয়ে গেছে। ভারতে তখনও করোনা সংক্রমণ মহামারীর পর্যায়ে পৌঁছয়নি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএণআর) জানাচ্ছে, মার্চের একেবারে গোড়ায় সার্স-কভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষা করার মতো ল্যাবের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫২টি। ছোঁয়াচে ভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষা করার মতো পরিকাঠামোও ছিল না। কিন্তু গত চারমাসে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। এই ক’টা মাসেই কোভিড টেস্ট করার ল্যাবের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশে এখন কোভিড ল্যাবের সংখ্যা ১৩৩৯।

    আইসিএমআর জানিয়েছে, ৯১১টি সরকারি ল্যাব ও ৪২৮টি বেসরকারি ল্যাবে এখন করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। ৩১ জুলাই অবধি ১ কোটি ৯৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি কোভিড টেস্ট হয়েছে দেশজুড়ে। শুধুমাত্র ৩১ জুলাই করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার, এখনও অবধি যা সর্বাধিক।

    বায়োসেফটি লেভেলের ল্যাবরেটরিও তৈরি হচ্ছে দেশে, এমনটাই জানিয়েছে আইসিএমআর। কোভিড টেস্টের জন্য বায়োসেফটি লেভেল-২ (BSL-2)ধাঁচের ল্যাব তৈরি হচ্ছে দেশের কয়েকটি জায়গায়। মাইক্রোবস বা প্যাথোজেন নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালানোর জন্য সুরক্ষার বিধি মেনেই উন্নত পরিকাঠামো ও প্রযুক্তির ল্যাবরেটরি তৈরি হয় যাকে বায়োসেফটি লেভেলের ল্যাবরেটরি বলা হয়। এই ল্যাবরেটরি চার পর্যায়ের হয়। বায়েসেফটি লেভেল-৪ হল সবচেয়ে উন্নত যেখানে সার্স-কভ-২। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মতো সংক্রামক প্যাথোজেন, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণা করা হয়। এই ল্যাবরেটরি এমনভাবে বানানো হয় যাতে ভাইরাল স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে। বায়োসেফটি লেভেল-২ ল্যাবরেটরিতে এইচআইভি-র মতো ভাইরাস নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এবার সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন পরীক্ষার জন্য এমন ল্যাবরেটরি তৈরি করবে আইসিএমআর।

    বায়োসেফটি লেভেলের ল্যাবোরেটরি ছাড়াও সিবিএনএএটি ও ট্রুন্যাট টেস্টের জন্যও নতুন ল্যাবরেটরি তৈরি হয়েছে গত চারমাসে। আইসিএমআরের শীর্ষ বিজ্ঞানী নিবেদিতা গুপ্ত জানিয়েছেন, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশে যেখানে ল্যাবের সংখ্যা কম ছিল, সেখানেও এখন জেলায় জেলায় করোনা পরীক্ষা করার মতো ল্যাবরেটরি তৈরি হয়েছে। তাতে আধুনিক পরিকাঠামোও আছে। দেশের ৬৮৪টি ল্যাবরেটরিতে রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্ট করা হচ্ছে, ট্রু্ন্যাট টেস্ট হচ্ছে ৫৫১টি ল্যাবরেটরিতে। সিবিএনএএটি টেস্ট চলছে মোট ১০৪টি ল্যাবরেটরিতে।

    ন্যাশনাল সেন্টার অব ভাইরোলজি ও ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল জানিয়েছে, ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লুয়ের সময় ভাইরাল স্ট্রেন নিয়ে রিসার্চ করার জন্য দেশে মাত্র দুটি ল্যাব ছিল। এখন সেই ল্যাবরেটরির সংখ্যাই হাজারের বেশি। নতুন রকম টেস্টও করা হচ্ছে। রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টের থেকেও কোভিড সংক্রমণ নির্ভুলভাবে ধতে আইজিজি (IgG) এলাইজা টেস্ট (ELISA) কিটে বেশি ভরসা রেখেছে আইসিএমআর। ভারতে এই টেস্ট কিট বানানো শুরু করে দিয়েছে পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি। আরও একটি কোভিড টেস্টিং পদ্ধতিতে ইতিমধ্যেই সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সেটি হল ট্রুন্যাট টেস্টিং পদ্ধতি। গতানুগতিক আরটি-পিসিআরের থেকেও ট্রুন্যাট কোভিড টেস্টিং পদ্ধতিকে বেশি নির্ভরযোগ্য বলে দাবি করেছে আইসিএমআর। রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ-পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন তথা আরটি-পিসিআর টেস্ট পদ্ধতি অনেক সামেপক্ষয় এবং ব্যয়বহুল। সে ট্রুন্যাট টেস্টিং পদ্ধতিতে অনেক তাড়াতাড়ি কোভিড সংক্রমণ চিহ্নিত করা যায় বলে দাবি আইসিএমআরের। এটি হল টিবি টেস্ট-মেশিন বা ট্রুন্যাট বিটা-কভ (Truenat Beta CoV) , যা টিউবারকিউলোসিস বা যক্ষ্মা রোগের স্ক্রিনিং টেস্টের জন্য ব্যবহার করা হয়। এই টেস্ট মেশিনকে এবার কোভিড টেস্টিংয়ের মতো করে গড়ে তোলা হয়েছে। এই ট্রুন্যাট মেশিনে একসঙ্গে তিন-চার রকম রোগের টেস্ট সম্ভব। মেশিনে ৩২ টা স্যাম্পেল দিয়ে যদি রোগীর টেস্ট প্রোফাইলের ডেটা দিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে একই সঙ্গে কোভিড-১৯, এইচআইভি ও টিবি টেস্টের রিপোর্ট দিয়ে দেবে এই মেশিন। আইসিএমআরের অনুমোদনে উত্তরপ্রদেশের ৭৫টি জেলায় এখন ১১৭টি ট্রুন্যাট মেশিন বসেছে।

    করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে তিন  ‘টি’-এর কথা বলেছে আইসিএমআর। তিন ‘টি’ অর্থাৎ টেস্টিং (Testing),  ট্রেসিং (Tracing) এবং চিকিৎসা অর্থাৎ ট্রিটমেন্ট(Treatment) । আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেল ডক্টর বলরাম ভার্গব বলেছেন, কোভিড টেস্ট বাড়লে করোনা রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা যাবে আর কনট্যাক্ট ট্রেসিং বাড়ালে একজন আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসাদের চিহ্নিত করে আলাদা করে ফেলা যাবে। ডক্টর বলরামের কথায়, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির হার রুখতে এই কনট্যাক্ট ট্রেসিং সবচেয়ে বেশি জরুরি। সংক্রামিতদের কাছাকাছি আসা বা সংক্রমণ সন্দেহে থাকাদের চিহ্নিত করতে পারলেই কোভিড পজিটিভিটির হার কমবে। একজন রোগীর থেকে অনেকের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যাবে। ভাইরাসের সংক্রমণ একটা নির্দিষ্ট গণ্ডিতেই বেঁধে ফেলা যাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More