নজরে লাল ফৌজ, ইজরায়েলি হেরন ড্রোনের প্রযুক্তিতে বদল আনছে ভারত, সীমান্তে নামতে পারে আক্রমণাত্মক রিপার ড্রোনও

প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, হেরন ড্রোনের আপগ্রেড করলে সেটি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনেও সাহায্য করবে। শীতের সময় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে খবরপ্রদানের কাজেও লাগানো যাবে এই ড্রোনকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা তথা এলএসিতে নজরদারি বাড়াতে ইজরায়েলি সশস্ত্র হেরন ড্রোন উড়িয়েছে ভারতীয় বাহিনী। অস্ত্র ভরে শত্রুঘাঁটিতে নিশানা করার প্রযুক্তি আছে এই ড্রোনের। পাশাপাশি নজরদারিও চালাতে পারে। এই ড্রোনের প্রযুক্তিতে আরও কিছুটা বদল ঘটাতে এবার আমেরিকার থেকে এমকিউ-৯বি স্কাই গার্ডিয়ান ড্রোনের প্রযুক্তি চাইবে ভারত।

প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, হেরন ড্রোনের আপগ্রেড করলে সেটি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনেও সাহায্য করবে। শীতের সময় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে খবরপ্রদানের কাজেও লাগানো যাবে এই ড্রোনকে। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও (ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন) ইতিমধ্যেই হেরন ড্রোনের উন্নত সংস্করণের কাজে নেমে পড়েছে। পাশাপাশি, সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বাহিনীর শক্তি বাড়াতে কম পাল্লার ট্র্যাকটিকাল ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমও তৈরি করছে ডিআরডিও।

ইজরায়েলি হেরন টিপি ড্রোন

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে দশটি সর্বাধুনিক হেরন টিপি ড্রোন ইজরায়েলের থেকে কেনে ভারত। এই ড্রোনের নির্মাতা সংস্থা ইজরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ। ২০০৫ সাল থেকেই ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে এই সশস্ত্র ড্রোন। চিন, পাকিস্তান-সহ ৭০টি দেশের হাতে রয়েছে এমন ড্রোন। ১৪ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ড্রোন হাই-উইং ক্যান্টিলিভার মোনোপ্লেনের ডিজাইনে তৈরি। এর দুটো ডানার বিস্তৃতি প্রায় ২৬ মিটারের কাছাকাছি। হাজার কিলোগ্রামের বেশি ওজন বইতে পারে এই ড্রোন। এতে রয়েছে ইলেকট্রো-অপটিক্যাল টার্গেট সিস্টেম। রাতের বেলাতেও কাজ করতে পারে এই ড্রোন। এর বিশেষ ক্যামেরা যে কোনও আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে যে কোনও সময় শত্রু ঘাঁটির ছবি তুলে আনতে পারে। এতে রয়েছে ইলেকট্রনিক সাপোর্ট মেসারস (ESM), ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইনটেলিজেন্স (ELINT) এবং সিন্থেটিক অ্যাপার্চার রাডার (SAR)। উন্নতি প্রযুক্তির এই সশস্ত্র ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়।

এমকিউ-৯ রিপার

লাদাখে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, শীতের আগে প্যাঙ্গং হ্রদের পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ বাড়াতে ফাইবার কেবিল বসাচ্ছে চিনের লাল ফৌজ। ভারতীয় সেনার অবস্থান কোথায় এবং সেনা বিন্যাসের বিস্তারিত তথ্য পৌঁছে দিতেই এই ব্যবস্থা করছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। পাশাপাশি, তিব্বত, ডোকলামে সামরিক পরিকাঠামো তৈরি করছে তারা। রাইফেল ডিভিশন মোতায়েন করা হচ্ছে, মিসাইল সিস্টেম বসানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সবদিক দিয়েই নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে রাখছে ভারত। প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, লাদাখ সংঘাতের আবহেই আমেরিকার থেকে মিসাইল ছোড়ার প্রযুক্তিযুক্ত এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন কিনতে পারে ভারত। আমেরিকার বায়ুসেনা এই ধরনের সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে যাকে প্রিডেটরও বলা হয়।  প্রিডেটর-বি ড্রোনকেই বলা হয় এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 Reaper) । চালকবিহীন এই ড্রোন তৈরি করেছে জেনারেল অ্যাটোমিক্স অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেম।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই প্রিডেটর-বি ড্রোনকে বলেন ঘাতক ড্রোন। উঁচু পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি চালানো এবং দুর্গম এলাকায় অতর্কিতে শত্রুঘাঁটির উপরে হামলা চালাতে এই ড্রোনের জুরি মেলা ভার। এর উন্নত রাডার ও সেন্সর সিস্টেম অনেক উঁচু থেকেই শত্রুঘাঁটি চিনে নিতে পারে। প্রতিপক্ষ টের পাওয়ার আগেই নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে। এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন আকারে বড়, ওজনেও ভারী। চালকহীন কমব্যাট এরিয়াল ভেহিকল। এতে রয়েছে ৭১২ কিলোওয়াটের টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন। নিজের ওজনের থেকে ১৫ গুণ বেশি ওজন বইতে পারে রিপার ড্রোন। গতি ঘণ্টায় ৪১০ কিলোমিটার। প্রায় ১৭৪৬ কিলোগ্রাম ওজনের পে-লোড বইতে পারে প্রিডেটর-বি। ভূমি থেকে ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় টানা ৩০ ঘণ্টা উড়তে পারে এই ঘাতক ড্রোন। ইলেকট্রো-অপটিকাল ও ইনফ্রারেড দুটি ভার্সনই আছে এই ড্রোনের, মাল্টি-মোড রাডার সিস্টেম, ইলেকট্রনিক সাপোর্ট মেজারস সিস্টেম রয়েছে। এই ড্রোন থেকে হেল-ফায়ার মিসাইল ছোড়া যায়। ৫০০ পাউন্ড ওজনের দুটি লেজার-গাইডেড বোমাও নিক্ষেপ করা যায় প্রিডেটর-বি থেকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More