২৮ হাজার কোভিড আক্রান্ত একদিনে, দেশে সুস্থতার হারও বেড়েছে ৬৩.০২%

দেশে এখন মোট কোভিড আক্রান্ত ৯ লাখ ছাড়িয়েছে। কোভিড অ্যাকটিভ কেস অর্থাৎ করোনাভাইরাস সক্রিয় ৩ লাখ ১১ হাজার মানুষের শরীরে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকালের থেকে আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য কমেছে। মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিনে দেখা গেল, দেশে একদিনে কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৪৯৮ জন। গতকাল, সোমবার এই সংখ্যাই ছিল ২৯ হাজার।

    দেশে এখন মোট কোভিড আক্রান্ত ৯ লাখ ছাড়িয়েছে। কোভিড অ্যাকটিভ কেস অর্থাৎ করোনাভাইরাস সক্রিয় ৩ লাখ ১১ হাজার মানুষের শরীরে। একদিনে মৃত্যু হয়েছে ৫৫৩ জনের। সেই সঙ্গে দেশে কোভিড সংক্রমণে মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৩ হাজার ৭২৭ জনে।

    রাজ্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্রের করোনা আক্রান্ত বেড়েই চলেছে। আজকের হিসেবে সংক্রামিতের সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজার ৯২৪। মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৪৮২ জনের। মহারাষ্ট্রে কোভিড সংক্রমণের বেশিরভাগই মুম্বইতে। সেখানে কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৮৫ হাজার ছুঁতে চলেছে। করোনা আক্রান্ত মহারাষ্ট্রে স্বস্তি দিচ্ছে ধারাভি ও ওরলি বস্তির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলছেন, হটস্পট থেকে ক্রমেই করোনা-মডেল হয়ে উঠছে ধারাভি। বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের (বিএমসি) রিপোর্ট বলছে এপ্রিলেই ধারাভিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড়শোর কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ধারাভিতে এখন কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির হার দিনে ১.৫৭%, যেখানে মুম্বইতে এই বৃদ্ধির হার ৩ শতাংশের কিছু বেশি। ডাবলিং রেট অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুন হওয়ার সময়ও বেড়েছে ধারাভিতে। সুস্থতার হার প্রায় ৫০%।

    আজকের হিসেবে রাজধানীতে কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৪০। তবে সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থও হয়েছেন প্রায় ৯১ হাজার রোগী। গুজরাট ও তামিলনাড়ুতেও কোভিড সংক্রমণ চিন্তার কারণ। গুজরাটে আক্রান্ত ৪২ হাজার ৭২২। তামিলনাড়ুতে ইতিমধ্যেই কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা দেড় লাখ ছুঁতে চলেছে। কেরলে এখনও অবধি সংক্রামিত ৮ হাজার ৩২২। করোনা কার্ভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক আগামী এক বছরের জন্য পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে কেরলের পিনারাই বিজয়ন সরকার।

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও সুস্থতার হারও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ৯৮৮ জন। দেশে মোট সুস্থ হয়ে ওঠাদের সংখ্যা ৫ লাখ ৭১ হাজার ৪৫৯।  স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য বলছে, ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে দেশে কোভিড রিকভারি রেট ৬৩.০২%।  ১২ জুলাই অবধি দেশে মোট কোভিড টেস্টিং হয়েছে ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৬ হাজার ২৫৬। ৮৫২টি সরকারি ও ৩৪৮টি বেসরকারি ল্যাবে চলছে করোনা পরীক্ষার কাজ।

    করোনায় ‘আর নম্বর’তথা ‘এফেকটিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর’ কমেছে। গত ২৬ জুন থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে এক ধাক্কায় আর নম্বর ১.১১ থেকে ১.১৯ পয়েন্টে উঠে এসেছিল।  চেন্নাইয়ের ইনস্টিটিউট অব ম্যাথেমেটিক্যাল সায়েন্সের গবেষকরা বলেছিলেন, সুস্থতার হার বাড়লেও করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার হার তথা ‘কোভিড ট্রান্সমিশন রেট’ মার্চের পরে সামান্য কমলেও দ্বিতীয় আনলক পর্যায়ে ফের এক লাফে বেড়ে গেছে। ইতিবাচক দিক হল গতকাল সোমবারের হিসেবে দেখা গেছে এই আর নম্বর আবারও কমে ১.১১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আর নম্বর কমলে দেশে অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যাও কমে যাবে। পাশাপাশি, একজন আক্রান্তের থেকে বেশিজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর হারও কমবে। ট্রান্সমিশন রেটও একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে চলে আসবে। যে মুহূর্তে দেশের কোভিড ট্রান্সমিশন রেট স্থিতিশীল হবে, আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিও কমতে থাকবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More