লাদাখ থেকে পুরোপুরি সরেনি চিনা বাহিনী, ভারতের অভিযোগের মধ্যেই ফের সেনার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছে দু’দেশ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও চিন দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরের আলোচনায় ঠিক হয়েছিল পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনা সরিয়ে নেবে দু’দেশই। সেইমতো সেনা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু চিন এখনও পুরোপুরি সেনা সরায়নি বলে অভিযোগ করেছে ভারত। এই আবহে রবিবার ফের দু’দেশ এই নিয়ে আলোচনার জন্য সেনার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছে।

    সূত্রের খবর, আজ বেলা ১১টা নাগাদ কম্যান্ডার স্তরের বৈঠকে বসবে দু’দেশ। চিনের এলাকায় মল্ডোতে হবে এই বৈঠক। এই নিয়ে পাঁচবার সেনা স্তরে দু’দেশ বৈঠকে বসতে চলেছে। ১৫ জুন ভারত ও চিনা সেনাদের মধ্যে সংঘাতের পরেই প্রথমবার দু’দেশ সেনার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছিল। তারপর থেকে মোট চারবার বৈঠক হলেও কোনও স্থায়ী সমাধানসূত্র বের হয়নি।

    কয়েক দিন আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, চিনের তরফে সেনা প্রত্যাহারের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে পরিস্থিতির কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই। অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, “ভারত আশা করে চিনা প্রতিনিধিরা শীঘ্রই সীমান্ত অঞ্চলে সম্পূর্ণ ভাবে সেনা নিষ্ক্রিয় করবে এবং সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তরিক ভাবে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে।”

    গত সপ্তাহেই জানা গিয়েছিল, সেনা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করলেও, তা শেষ হওযার আগেই থামিয়ে দিয়েছে চিন। এখনও বড় সংখ্যক চিনা সেনা মোতায়েন ছিল এলাকায়। সংখ্যাটা ৪০ হাজারের কম নয় বলে সূত্রের খবর। অথচ তার আগেই লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে চিনা সেনার নিষ্ক্রিয়তা সম্পর্কে বলতে গিয়ে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন জানিয়েছিলেন, বেশিরভাগ অঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    জুলাই মাসের শুরুর দিকে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। এর পরেই দু’দেশের সেনাবাহিনী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গালওয়ান উপত্যকার ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৫ পর্যন্ত পিছু হটে যায় চিনা সেনা। কিন্তু ভারতের দাবি, এখনও এলএসি-র এপারেই দাঁড়িয়ে আছে চিনের বড় বাহিনী।

    শেষতম বৈঠকের পরে ভারত সেনা সরানোর ব্যাপারে কথা রাখলেও বেজিং কথার খেলাপ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিদেশমন্ত্রকের তরফে। ভারতের এই দাবি যথারীতি অস্বীকার করেছে বেজিং। চিনের বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, চুক্তিমতো অধিকাংশ জায়গা থেকেই সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কোনও ভাবেই স্ট্র্যাটেজি বদল করার কথা ভাবছে না চিন। লাদাখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই চায় চিন। তবে ভারতও নিজের দাবি থেকে সরে আসছে না। এখন দেখার এদিনের বৈঠকে কোনও সমাধানসূত্র বের হয় কিনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More