মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

বুলন্দশহরে পুলিশ খুন: জামিনের পর নায়কের সংবর্ধনা অভিযুক্তদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর ডিসেম্বর মাসে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে গোহত্যার বিরুদ্ধে উগ্র হিন্দু সংগঠনের আন্দোলনের মাঝে পড়ে খুন হয়েছিলেন ইন্সপেক্টর সুবোধ কুমার। তারপরেই পুলিশ গ্রেফতার করে ছ’জনকে। তাঁদের মধ্যে একজন বিজেপির যুব মোর্চার প্রধানও ছিলেন। সেই ছ’জনকেই জামিনে মুক্তি দিল আদালত। জামিন পাওয়ার পর ফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানানো হলো তাঁদের।

শনিবার উত্তরপ্রদেশ হাইকোর্ট জামিনে মুক্তি দেয় যুব মোর্চার ওই নেতা শিখর আগরওয়াল, ডানপন্থী সংগঠনের আরও দুই কর্মী হেমু ও উপেন্দ্র রাঘব এবং জিতু ফৌজি, সৌরভ ও রোহিত রাঘব নামের মোট ছ’জনকে। তারপরেই তাঁদের বিরুদ্ধে ৩ হাজার ৪০০ পাতার কেস হিস্ট্রি ও ১০৩ পাতার চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হলেও তাঁদের জামিন দেয় আদালত।

গত বছর ডিসেম্বর মাসে বুলন্দশহরের বাইরে একটা মাঠের মধ্যে ২৫টি গরুর কঙ্কাল পড়ে আছে, এই অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু করে বিজেপির যুব মোর্চা ও আরও কিছু ডানপন্থী সংগঠন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে সেখানে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। কিন্তু তারপরেই সংগঠনের কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হয় পুলিশ।

এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ হয়। তাতে দেখা যায়, কর্তব্যরত পুলিশ ইন্সপেক্টর সুবোধ কুমার ও আরও কিছু পুলিশের পিছু নিয়েছে প্রায় ৪০০ উন্মত্ত লোক। তাঁদের মুখে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। তারপরেই দেখা যায় প্রাণ বাঁচাতে একটি মাঠে নেমে পড়েছেন সুবোধ। সেখানে এক ব্যক্তি তাঁর উপর কুঠার চালায়। তারপরে ওই নেতা শিখরকে হাতে বন্দুক নিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। সেখানে উত্তেজিত জনতার মুখে ‘গোলি মারো’ কথাও শোনা যায়।

এই ঘটনার পরেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুবোধ কুমারের দেহ উদ্ধার হয় তাঁর এসইউভি থেকে। তারপর চাপের মুখে পড়ে স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। গ্রেফতার করা হয় ছ’জনকে। সেই ছ’জনই জামিনে ছাড়া পেলেন শনিবার।

Comments are closed.