শনিবার, মার্চ ২৩

এমনই জোরালো বিস্ফোরণ, এক-একজন জওয়ানের দেহ ছিটকে পড়েছিল ৮০ মিটার দূরেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কনভয়কে বাঁ’দিক দিয়ে ওভারটেক করে এগিয়ে এসেছিল একটা সেডান। হঠাৎ করেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণ। কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রায় ৮০ মিটার দূরে ছিটকে পড়েছিল দেহ।

বৃহস্পতিবারের পুলওয়ামাতে হামলার পর ফরেন্সিক রিপোর্টে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের আত্মঘাতী হামলার পর পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছিল, একটা মহিন্দ্রা স্করপিও গাড়িতে করে প্রায় ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক নিয়ে সরাসরি কনভয়ে গিয়ে ধাক্কা মেরেছিল জইশের আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল আহমেদ দার। এই হামলার পর কনভয় ঘিরে ধরে গুলিও চালায় জঙ্গিরা। আর এই হামলাতেই অন্তত ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হন।

হামলার পরেই ফরেন্সিক দল এসে নমুনা সংগ্রহ করে দুর্ঘটনাস্থল থেকে। সব নমুনা পরীক্ষার পর নিজেদের রিপোর্ট জমা দিয়েছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। আর তাতেই উঠে এসেছে এই তথ্য। ৩৫০ কেজি নয়, বরং ৬০ কেজি বিস্ফোরক নিয়ে হামলা চালিয়েছিল আদিল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সম্ভবত আরডিএক্স ব্যবহার করা হয়েছিল বিস্ফোরক হিসেবে। এমনকী মহিন্দ্রা স্করপিও নয়, সেডান গাড়ি নিয়ে কনভয়ে ঢুকে পরে আদিল, এমনটাই বলা হয়েছে রিপোর্টে। জানানো হয়েছে, বাঁ দিক দিয়ে সিআরপিএফ কনভয়কে ওভারটেক করে আদিলের গাড়ি। তারপরেই একটি সিআরপিএফ ট্রাকের পাশে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায় আদিল।

ফরেন্সিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, কনভয়ের দেড়শো মিটার রেডিয়াসের মধ্যে এই বিস্ফোরণ হওয়ায় তার প্রভাব হয়েছে অনেক বেশি। জানা গিয়েছে, ভয়াবহতা বাড়াতে এবং অস্ত্র রাখতে বিস্ফোরকে ব্যবহার করা হয় “শেপড চার্জ”। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাসটি টুকরো হয়ে যায়, এবং কতগুলি ধাতব টুকরোয় পরিণত হয়। ঘটনাস্থলে ১০০ মিটার জুড়ে কেবলই জওয়ানদের ছিন্ন-ভিন্ন দেহ পড়ে ছিল। 

২২ বছর বয়সী আদিল ঘটনাস্থল থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যেই থাকত। এত কাছে থাকার পরেও কী ভাবে সে এত বিস্ফোরক মজুত করল, কী ভাবেই বা সুরক্ষব্যবস্থা ভেঙে কনভয়ের মধ্যে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ফরেন্সিকের রিপোর্টেও।

আরও পড়ুন

মেয়ের বিয়ের ভোজ বন্ধ! ১৬ লাখ টাকার পুরোটাই পুলওয়ামার শহিদ জওয়ানদের পরিবারকে দান কনের বাবার

Shares

Comments are closed.