বুধবার, অক্টোবর ১৬

যারা সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয়, তাদের দায় নিতেই হবে, ইমরানের সামনেই বার্তা মোদীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের ( এসসিও ) বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ও পাকিস্তানকে নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জানিয়ে দিলেন, যে সব দেশ সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয়, অর্থসাহায্য করে, তাদের সেই দায় নিতেই হবে।

এই বৈঠকে মোদী স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন, এসসিও-র প্রধান লক্ষ্য হলো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ের জন্য এসসিও-র সব সদস্য দেশকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মোদী। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সামনেই মোদী বলেন, সব দেশের উচিত নিজেদের সঙ্কীর্ণ মানসিকতা ত্যাগ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করা। এমনকী এই সন্ত্রাসবাদকে মোকাবিলা করার জন্য সাংহাই কো-অপারেটিভ অর্গানাইজেশনের রিজিওনাল অ্যান্টি-টেররিস্ট স্ট্রাকচার ( র‍্যাটস ) কে আরও বেশি শক্তিশালী করে তোলার আহ্বানও জানিয়েছেন মোদী।

বৃহস্পতিবার দু’দিন ব্যাপী বৈঠকে যোগ দিতে কিরঘিজস্তানের রাজধানীতে গিয়ে পৌঁছন মোদী। সে দিনই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে সন্ত্রাস মোকাবিলায় ইসলামাবাদের ভূমিকা নিয়ে পরিষ্কার দিল্লির মনোভাব ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদীকে উদ্ধৃত করে বিদেশ সচিব বিজয় গোখলে জানান, “পাকিস্তানের উচিত সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু এই মুহূর্তে সেরকম কিছু দেখা যাচ্ছে না। নয়াদিল্লির আশা, ইসলামাবাদ শীঘ্রই এই দিকে সদর্থক পদক্ষেপ করবে। জিনপিংকে এ কথা পরিষ্কারই বলেছেন মোদী।”

চিন পাকিস্তানের রণকৌশলের সঙ্গী। পাকিস্তানের পরিকাঠামোগত প্রকল্পে প্রচুর অর্থ সাহায্য করে চিন। জিনপিংয়ের সঙ্গে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানেরও বৈঠক হওয়ার কথা বিশকেকে। কদিন আগেই ইমরান ও তাঁর বিদেশ মন্ত্রী শাহ মেহেমুদ কুরেশি দ্বিপাক্ষিক কথাবার্তা ফের শুরু করার আবেদন জানিয়ে মোদী ও সদ্যনিযুক্ত বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে কাশ্মীর-সহ সমস্ত দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে কথা ফের শুরু করার জন্য আগ্রহ দেখানো হয়েছে পাকিস্তানের তরফে।

বিশকেকে এই শীর্ষ সম্মেলনে মোদী ও ইমরান দুজনেই উপস্থিত থাকলেও, একান্ত বৈঠকের কোনও সম্ভাবনা নেই। যদিও প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা ইমরান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথম তাঁর সঙ্গে মোদীর মুখোমুখি দেখা হচ্ছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হন। তার পর থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগের চেয়েও কঠোর মনোভাব নিয়েছে ভারত। সন্ত্রাস নির্মূল করতে আন্তর্জাতিক চাপও রয়েছে পাকিস্তানের উপর।

চিনের কাছ থেকেও কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান। জইশের প্রধান মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি বলার ক্ষেত্রে আপত্তি তুলে নেয় বেজিং।

Comments are closed.