ভারতে কোভিড চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপির ব্যবহার বন্ধ হতে পারে, জানাল আইসিএমআর

২৭৫

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ভারতে কোভিড চিকিৎসার জন্য যে ন্যাশনাল ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকল রয়েছে সেখান থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপিকে। কারণ এই থেরাপির পরেও আক্রান্তের শরীরে বিশেষ কিছু কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই থেরাপির মাধ্যমে করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের শরীরের প্লাজমা নিয়ে তা অসুস্থ রোগীদের শরীরে প্রয়োগ করা হয়। সুস্থ ব্যক্তির শরীরের প্লাজমা অসুস্থ ব্যক্তির শরীরে গিয়ে তাকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি যোগাবে এমনটাই মনে হয়েছিল। কিন্তু আদতে নাকি তা দেখা যাচ্ছে না।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেল ডক্টর বলরাম ভার্গভ জানিয়েছেন, “ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমরা জয়েন্ট মনিটরিং কমিটির সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছি। প্লাজমা থেরাপিকে ন্যাশনাল গাইডলাইন থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।”

করোনা আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্লাজমা থেরাপির প্রভাব কী ভাবে হচ্ছে তা নিয়ে গোটা ভারত জুড়ে তথ্য নিয়ে গবেষণা করেছে আইসিএমআর। ভারতে কোভিড আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য প্লাজমা থেরাপিকে চিকিৎসার পর্যায়ে রেখেছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কিন্তু বর্তমানে তার কার্যকারিতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

বলরাম ভার্গব জানিয়েছেন, “ভারতে ৩৯টি হাসপাতালে ৪৬৪ জন রোগী ও ৩৫০ জন ডাক্তারকে নিয়ে সবথেকে বড় প্লাজমা থেরাপি করে দেখা হয়েছে। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে এই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। আমরা খুব তাড়াতাড়ি তার একটা প্রুফ হাতে পাব। ১০ পাতার এই পেপারে কোভিড চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।”

এই গবেষণার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল এটা দেখা যে প্লাজমা থেরাপির পরে ভেন্টিলেশন থেকে কতজন রোগীকে বের করে আনা যাচ্ছে। তারপরে আরও যে বিচার্য বিষয়গুলি ছিল সেগুলি হল মৃত্যুহার, হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময়, আইসিইউতে থাকার সময় প্রভৃতি দেখা। এই সবের উপর বিচার করেই এই থেরাপির কার্যকারিতা বিচার করা হয়েছে।

ভার্গব জানিয়েছেন, “এই গবেষণায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মৃত্যহার কমানোর ক্ষেত্রে প্লাজমা থেরাপির কোনও ভূমিকা নেই। এমনকি মধ্যম উপসর্গ যুক্ত রোগীদের অবস্থা খারাপ হওয়ার থেকে আটকানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা নেই এই প্লাজমা থেরাপির।”

এমনকি করোনা চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বা রেমডেসিভিরের ব্যবহার আর করা হবে কিনা তা নিয়েও আলোচনা করছে কেন্দ্র, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। আইসিএমআরের ডিরেক্টর বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীনে যে ৩০টি দেশ ট্রায়াল চালাচ্ছে তার মধ্যে ভারতও রয়েছে। তাই তাদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন পরীক্ষার ফল জানাচ্ছে তারা। যে ওষুধ ব্যবহার করে কোনও ফল মিলছে না সেই ওষুধের ব্যবহার নিয়ে ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে আলোচনা করছি আমরা। তারপরেই এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারব আমরা।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More