চিনের বেয়াদপি মানব না, যে কোনও আগ্রাসন রুখে দেওয়ার জন্য তৈরি বায়ুসেনা: এয়ার চিফ মার্শাল ভাদুরিয়া

গালওয়ানের সংঘর্ষের পরেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধবিমান নামিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এয়ার চিফ মার্শাল জানিয়েছেন, জুন মাসে হট স্প্রিংয়ের কাছে দুই দেশের বাহিনী মুখোমুখি সংঘাতে জড়ানোর পরেই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পাঠানো হয় বায়ুসেনাকে। আকাশযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে তার জন্য সবরকমভাবে তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

২৯

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা কমেনি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা তথা এলএসিতে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি না হলেও শান্তিও নেই। মুখোমুখি দুই দেশের বাহিনীই তাদের সামরিক শক্তি নিয়ে তৈরি। এমনটাই জানিয়েছেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আরকেএস ভাদুরিয়া। বায়ুসেনাপ্রধান জানিয়েছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী সবসময়েই পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তির পথে যেতে তৈরি, কিন্তু চিনা সেনার কোনও রকম আগ্রাসনও মেনে নেওয়া হবে না। লাল ফৌজ যদি সীমান্তের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করার চেষ্টা করে তাহলে তা রুখে দেওয়ার মতো প্রস্তুতি রয়েছে ভারতের।

গালওয়ানের সংঘর্ষের পরেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধবিমান নামিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এয়ার চিফ মার্শাল জানিয়েছেন, জুন মাসে হট স্প্রিংয়ের কাছে দুই দেশের বাহিনী মুখোমুখি সংঘাতে জড়ানোর পরেই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পাঠানো হয় বায়ুসেনাকে। আকাশযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে তার জন্য সবরকমভাবে তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ফরওয়ার্ড বায়ুসেনাঘাঁটিগুলিতেও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। কোনওভাবে চিনের ফাইটার জেট ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢুকে এলে যাতে কঠোর মোকাবিলা করা যায় তার জন্যই কমব্যাট ফাইটার জেটগুলিকে তৈরি থাকতে বলা হয়।

ভাদুরিয়া বলেছেন, সীমান্তের সুরক্ষা নিয়ে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী সব সময় প্রস্তুত ও সজাগ থাকে। সামরিক পর্যায়ের আলোচনায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরেও চিনা সেনার অন্যায় আগ্রাসন কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভারতের পথে পা বাড়ালে লাল সেনাকে যোগ্য জবাব দেওয়ার মতো প্রস্তুতি আছে বায়ুসেনা বাহিনীর।

ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনও টানাপড়েন চলছে। ভারতীয় সেনা খবর দিয়েছে, ফিঙ্গার পয়েন্ট ৩ এর কাছেই নতুন করে সেনা মোতায়েন করছে চিন। সেখানে তাদের সামরিক অস্ত্রশস্ত্রও জড়ো করছে। হাল্কা যুদ্ধট্যাঙ্ক বসাচ্ছে লাল সেনা। তাই চিনকে ঠেকাতে পার্বত্য বাহিনীর পাশাপাশি আকাশসীমাকেও সুরক্ষিত রাখছে ভারত। প্রয়োজনে আকাশ থেকে ভূমিতে টার্গেট করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতিও সেরে রাখছে বায়ুসেনা। লেহ-র কাছেই ভারতের বায়ুসেনা ঘাঁটি আছে। সেখান থেকে সুখোই-৩০এমকেআই, মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যেই উড়ে এসেছে প্যাঙ্গং রেঞ্জে। হ্রদ পেরিয়ে বিপরীতে চুসুল রেজিমেন্টে টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক ও টি-৭২ যুদ্ধট্যাঙ্ক তৈরি হয়েই আছে।  সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে শক্তিশালী অ্যাটাক হেলিকপ্টার অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই, সিএইচ-৪৭ এফ চিনুক মাল্টি-মিশন হেলিকপ্টার। এয়ার চিফ মার্শাল ভাদুরিয়া বলেছেন, ফ্রান্স থেকে কেনা পাঁচটি রাফাল ফাইটার জেটও মোতায়েন করা হবে লাদাখ সীমান্তে। পাহাড়ি এলাকায় নজরদারির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাফালের পাইলটরা।

পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর কমব্যাট এয়ার পেট্রলিং-এর জন্য নামানো হয়েছে চিনুক কার্গো হেলিকপ্টার, আ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার। রাতের বেলা পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সেই জন্য অ্যাপাচে ও চিনুক কপ্টারকে কাজে লাগানো হয়েছে। চুসুল এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে অ্যাপাচে, অন্যদিকে দৌলত বেগ ওল্ডিতে রাতের বেলা চক্কর কাটছে চিনুক। চিনুকের সঙ্গে চিনা সেনার গতিবিধির উপর নজর রাখছে অ্যাপাচে কপ্টার। এএইচ অ্যাপাচে-৬৪ কপ্টারকে বলা হয় বোয়িং অ্যাপাচে অ্যাটাক কপ্টার। যুদ্ধাস্ত্র বয়ে নিয়ে যেতে পারে আবার নিশানায় আঘাতও করতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More