‘বেটি পড়াও’, হিসারের ঋষিতা হরিয়ানায় প্রথম, বোর্ডের পরীক্ষায় সে পেয়েছে ১০০ শতাংশ নম্বর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়েরা যে কোনও অংশেই ছেলেদের থেকে কম যায় না, বরং ছেলেদের টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তা আরও একবার প্রমাণিত হল। প্রমাণ করল হরিয়ানার হিসারের দশম শ্রেণির ছাত্রী ঋষিতা। বোর্ডের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে সে। শুধু তাই নয়, ১০০ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছে সে।

    হিসার জেলার নারনাউন্দের টেগর সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্রী ঋষিতা। গতকাল ফল প্রকাশের পরে দেখা গিয়েছে বেস্ট ফাইভে ১০০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে সে। ইংরেজি, অঙ্ক, বিজ্ঞান, সোশ্যাল সায়েন্স ও এমএইচভি, এই পাঁচটি বিষয়ে ১০০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে ঋষিতা।

    শুধুমাত্র ঋষিতা নয়, এবার বোর্ডের পরীক্ষায় যেন মেয়েদের জয়জয়কার। প্রথম তিনটি স্থান অধিকার করেছে মেয়েরা। আর এই তিনটি স্থানে রয়েছে মোট সাতজন মেয়ে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাঁচ’জন মেয়ে। তাদের মধ্যে তিনজন আবার ঋষিতারই স্কুলের। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে টেগর সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের উমা, স্নেহা ও কল্পনা। তিনজনেই পেয়েছে ৯৯.৮ শতাংশ নম্বর।

    এই তিনজন ছাড়া আরও দু’জন রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। তারা হল জিএনজেএন গোয়েঙ্কা গার্লস হাই স্কুলের নিকিতা মারুতি সাওয়ান্ত ও খান্দা খেরির ডিএন হাই স্কুলের অঙ্কিতা। তারা দু’জনেও ৯৯.৮ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। ৯৯.৬ শতাংশ নম্বর অএয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে নারনাউন্দের নবযুগ হাই স্কুলের ছাত্রী চাহক।

    এবছর হরিয়ানার বোর্ডের পরীক্ষায় মোট ৩,৩৭,৬৯১ জন পরীক্ষার্থী বসেছিল। তার মধ্যে পাশ করেছে ৬৪.৫৯ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী। পাশের হারেও ছেলেদের টেক্কা দিয়েছে মেয়েরা। ছেলেদের মধ্যে পাশের হার ৬০.২৭ শতাংশ। সেখানে মেয়েদের পাশের হার ৬৯.৮৬ শতাংশ।

    সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে, হরিয়ানাতে এভাবে মেয়েদের এগিয়ে আসা সত্যিই যথেষ্ট ইতিবাচক। কারণ, ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় হরিয়ানাতে মেয়েদের পরিস্থিতি অতটা ভাল নয়। ভারতের মধ্যে লিঙ্গবৈষম্য সবথেকে বেশি এই রাজ্যেই হয়। হরিয়ানাতে পুরুষের অনুপাতে মেয়ের সংখ্যা ৮৩১, যা ভারতে সবথেকে কম। এখনও অনেক জায়গায় কন্যা ভ্রূণ হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, জন্মের পরেও মেয়েদের স্বাধীনতা অনেক কম এই রাজ্যে। বিশেষ করে হরিয়ানার গ্রামীণ এলাকায় খাপ পঞ্চায়েতের দাপটে মহিলাদের সামাজিক মর্যাদা এখনও বিপন্ন। সন্তান জন্ম দেওয়ার ও পরিবার সামলানোর বাইরে তাঁদের কোনও অধিকার রয়েছে সেটা অনেকেই মানতে চান না।

    এই সামাজিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে মেয়েরা যে পড়াশোনা করছে, সেটাই অনেক অর্থবহ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর শুধু পড়াশোনা করা নয়, ছেলেদের প্রতি পদে টেক্কা দিচ্ছে তারা। পাশের হার থেকে শুরু করে প্রথম তিন স্থানাধিকারীদের তালিকা দেখলেই তা স্পষ্ট। সত্যিই বাকি মেয়েদের পথ দেখাচ্ছে ঋষিতা, অঙ্কিতা, কল্পনারা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More