করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে তেলঙ্গানায়, নামমাত্র কোভিড টেস্টের অভিযোগ, সঙ্কটে স্বাস্থ্য পরিষেবাও

কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৮ মার্চ থেকে ২৭ মে-র মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণে মোট ৬৩ জনের মৃত্যু হয় রাজ্যে। ২৭ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছয়। এই সময়ের মধ্যে করোনা পজিটিভ ১৩৭ জনের মৃত্যু হয় রাজ্যে।

১৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রের ঘোষণার দু’দিন আগেই রাজ্যে লকডাউন চালু করে দিয়েছিল তেলঙ্গানা সরকার। কিন্তু তাতেও রোখা যায়নি সংক্রমণ। অভিযোগ, কোভিড টেস্টিংয়ের সংখ্যা নামমাত্র, কিছু কিছু এলাকায় সংক্রমণ ছড়াবার হার অত্যধিক, স্বাস্থ্য পরিষেবাও সঙ্কটের মুখে। সব মিলিয়ে কে চন্দ্রশেখর রাও সরকারের করোনা রোধে ‘সর্বজন হিতম’ কর্মসূচী খুব একটা সফল হয়নি।

মহারাষ্ট্র, দিল্লি, গুজরাটের চেয়ে তেলঙ্গানায় সংক্রামিতের সংখ্যা কম। কেন্দ্রের হিসেবে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ১১১। তবে সংক্রমণের ক্রমশই বাড়ছে। চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে হায়দরাবাদের করোনা পরিস্থিতি। সেখানকার হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলিতে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে সংক্রমণ।

হায়দরাবাদের রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এ যাবৎ সরকারি হাসপাতালগুলির ৭৯ জন ডাক্তারের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ। তাঁদের সংস্পর্শে আসা নার্স, প্যারাডেমিক্যাল স্টাফ ও ইন্টার্নদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিজাম ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এনআইএমএস)-এর২৬ জন ডাক্তার করোনা পজিটিভ। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে নার্সদের মধ্যেও। অন্যদিকে, ওসমানিয়া মেডিক্যাল কলেজের ৪৯ জন ডাক্তার, গান্ধী মেডিক্যাল কলেজের ৪ জন ডাক্তার করোনা আক্রান্ত। হাসপাতালগুলিতে পিপিই ও অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) ও তেলঙ্গানা হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কোভিড টেস্টের জন্য বেসরকারি ল্যাবরেটরিগুলোকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, এমন অভিযোগ আগেও উঠেছিল কেসিআর সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ এমনও যে, ভিন্ রাজ্য থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের সঠিকভাবে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়নি। ঘর ফিরতি শ্রমিকদের থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে কোনও কোনও এলাকায়।

মার্চের শেষে প্রথম করোনা সংক্রামিতের খোঁজ মেলে তেলঙ্গানায়। ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ৭৪ বছরের এক বৃদ্ধের। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৮ মার্চ থেকে ২৭ মে-র মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণে মোট ৬৩ জনের মৃত্যু হয় রাজ্যে। ২৭ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছয়। এই সময়ের মধ্যে করোনা পজিটিভ ১৩৭ জনের মৃত্যু হয় রাজ্যে। ওই সময়ের মধ্যে রাজ্যে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ২,০৯৮ থেকে বেড়ে হয় ৩,৬৫০। এর তিন দিনের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে চার হাজারের গণ্ডি পার হয়।

সূত্রের খবর, গতকালের হিসেবে রাজ্যে এখন ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর হার ৩.৭৯% যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। যেখানে মহারাষ্ট্রে মৃত্যুহার ৩.৬৬%। প্রতিবেশী রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে সে তুলনায় মৃত্যুহার অনেক কম ১.৪৯% এবং কর্নাটকে ১.১৪%।

যদিও সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও রাজ্যে সুস্থও হয়ে উঠছেন অনেকে। রাজ্যে এখন করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ২১৩৮, সেখানে সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১৮১৭ জন। ২৭ মে অবধি রাজ্যে কোভিড টেস্ট হয়েছিল ২৯ হাজার, ৮ জুনের মধ্যে সেই সংখ্যাই ৩৫ হাজারে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে কোভিড পজিটিভিটি রেটও বেড়েছে বলে সূত্রের খবর। যতগুলো কোভিড টেস্ট হচ্ছে তার অনুপাতে যতজন রোগীর শরীরে ভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়ছে সেই হিসেব বার করা হয় কোভিড পজিটিভিটি রেট দিয়ে। তেলঙ্গানায় এই হার ৬.৬%, জাতীয় গড়ের থেকে যা বেশি। এই হিসেব থেকেই স্পষ্ট, সংক্রমণ ছড়াবার হার ক্রমশই বাড়ছে তেলঙ্গানায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More