কেরলে কন্টেনমেন্ট জোনে স্বাস্থ্যকর্মীদের গাড়িতে হামলা, কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ বিজয়নের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্যান্য দিনের মতোই নিজের কাজে গিয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী এক মহিলা ডাক্তার। নিজের সঙ্গীদের নিয়ে গাড়িতে করে কেরলের তিরুঅনন্তপুরমের একটি কন্টেনমেন্ট জোনে থাকা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু এভাবে তাঁদের গাড়ি ঘিরে যে বিক্ষোভ হবে তা ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি ওই চিকিৎসক। এমনকি তাঁদের গাড়ির ভিতরে মুখ ঢুকিয়ে ইচ্ছে করে একজন কেশেছে বলেও অভিযোগ চিকিৎসকের। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

    ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার। ওই মহিলা ডাক্তার জানিয়েছেন, অন্যান্য দিনের মতো নিজেদের গাড়ি নিয়ে একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে যাচ্ছিলেন তাঁরা। সেখানে পিপিই কিট পরে নমুনা সংগ্রহ করার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেন্টারের সামনে গিয়ে তাঁরা দেখেন গেটে তালা দেওয়া।

    হঠাৎ করেই প্রায় ৫০ জন তাঁদের গাড়ি ঘিরে ধরে বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই সময় ওই এলাকায় কোনও বিক্ষোভের খবর তাঁদের কাছে ছিল না। গাড়িতে ডাক্তার ছাড়াও দুই নার্স ও একজন টেকনিশিয়ান ছিলেন। আচমকা এই বিক্ষোভে তাঁরা ভয় পেয়ে যান।
    ডাক্তার জানিয়েছেন, “গাড়ির চারদিকে সবাই ঘিরে ধরে চিৎকার করছিল। আমাদের গালাগাল করছিল। আমি ড্রাইভারকে বলি কোনওমতেই গাড়ির কাঁচ না নামাতে। কাঁচে ধাক্কা মারছিল সবাই। গাড়ি সরানো যাচ্ছিল না। ড্রাইভারের পাশে জানলার কাঁচে বেশি ধাক্কা মারছিল লোকে। তাই ড্রাইভার তাঁদের আবেদন করার জন্য কাঁচ নামান। সঙ্গে সঙ্গে একজন ভেতরে মুখ ঢুকিয়ে কেশে দেয়। সে বলতে থাকে আমাদের করোনা হলে তোমাদেরও হওয়া উচিত। আমরা এই ঘটনায় অবাক হয়ে যাই।”

    এই বছরই নিজের মেডিক্যাল ডিগ্রি পেয়েছেন ওই ডাক্তার। ১০ দিন আগেই তিনি কাজ শুরু করেছেন। তিনি আরও জানান, “অতিমারীর জন্য গ্রামীণ এলাকায় আমাদের কাজ ছিল। এই ঘটনায় গাড়িতে থাকা এক নার্স কাঁদতে শুরু করেন। এই প্রথম ওদের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। তাই আমার সঙ্গে ওদের বিশেষ পরিচয় ছিল না। কিন্তু আমি জানতাম ওই নার্সের এক বছরে এক সন্তান আছে। কোনও রকমে ওই এলাকা থেকে আমরা বেরিয়ে আসি। কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে পৌঁছেই আমি কর্তৃপক্ষকে খবর দিই।”

    এই ঘটনার পর ড্রাইভার ও বাকি চারজনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সাতদিন পরে তাঁদের টেস্ট করা হবে। রিপোর্ট নেগেটিভ হলে ফের কাজ শুরু করবেন তাঁরা।

    কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা ও জেলাশাসক নভজ্যোৎ খোসা ওই মহিলা ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে প্রশাসন তাঁদের পাশে রয়েছে। কোয়ারেন্টাইন পর্ব শেষ হলেই তাঁদের ফের কাজে যোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    এই ঘটনার নিন্দে করেছেন শৈলজা। তিনি বলেন, “আমরা কন্টেনমেন্ট এলাকায় প্রচুর পরীক্ষা করছি। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলস পরিশ্রম করছেন। তাঁদের সাহায্য করার বদলে তাঁদের উপর হামলা করা হচ্ছে। যদি তাঁরা আক্রান্ত হন, মানুষের চিকিৎসা কে করবে? মানুষ বিক্ষোভ দেখাতেই পারেন। কিন্তু এভাবে মাস্ক না পরে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিংয়ের তোয়াক্কা না করে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলা করতে পারেন না। সরকার মানুষের চাহিদা পূরণ করার জন্য সব করছে। বিনামূল্যে রেশন, বাচ্চাদের খাবার সব দেওয়া হচ্ছে। তারপরেও কিছু নেতা মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বিক্ষোভে নামাচ্ছে।”

    ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও। তিনি বলেন, “কিছু মানুষ রাজনৈতিক স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। কেরলের মানুষ সব বুঝতে পারেন। তাঁরা প্রশাসনের পাশে রয়েছেন। যারা এই ধরনের উস্কানিমূলক কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More