করোনার রিইনফেকশন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, গবেষণা চালাচ্ছে আইসিএমআর, বললেন হর্ষবর্ধন

রবিবার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হর্ষবর্ধন বলেছেন, করোনার পুনঃসংক্রমণের ঘটনা শুধু ভারতে নয় সারা বিশ্বেই ঘটছে। রিইনফেকশন কেন হচ্ছে, ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন ফিরে আসছে কিনা সেইসব বিষয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রায় ৬০ লাখ ছুঁতে চলেছে ভারতে। সংক্রমণ বৃদ্ধির হার গত কয়েকদিনে বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রক হাত গুটিয়ে বসে নেই। প্রতিটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষত করোনার রিইনফেকশন বা পুনঃসংক্রমণের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন।

রবিবার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হর্ষবর্ধন বলেছেন, করোনার পুনঃসংক্রমণের ঘটনা শুধু ভারতে নয় সারা বিশ্বেই ঘটছে। রিইনফেকশন কেন হচ্ছে, ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন ফিরে আসছে কিনা সেইসব বিষয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, এখনও অবধি পুনঃসংক্রমণের কোনও মারাত্মক প্রভাব সামনে আসেনি। তবে রিইনফেকশনের প্রতিটি ঘটনা খুঁটিয়ে দেখছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

চলতি মাসের মাঝামাঝি অসমের প্রায় হাফ ডজন ডাক্তারের শরীরে করোনার পুণঃসংক্রমণ ধরা পড়ে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)জানায়, অসম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৬ জন ডাক্তার দ্বিতীয়বার কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন। একই ঘটনা ঘটেছে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজেও। এই প্রসঙ্গে রাজ্যে স্বাস্থ্যসচিব সমীর সিনহা বলেন, পুনঃসংক্রমণ হয়েছে কিনা সেটা রক্তের নমুনা পরীক্ষার পরেই বোঝা যাবে। ভাইরাল স্ট্রেনের জিনোম বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে প্রথমবারের থেকে আলাদা অন্য কোনও ভাইরাল স্ট্রেন ঢুকেছে কিনা শরীরে। ডাক্তারদের রক্তে অ্যান্টিবডি কী পরিমাণে আছে সেটাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

হর্ষবর্ধন বলেছেন, প্রথমবার করোনা আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠার পরে কেন দ্বিতীয়বার ভাইরাস সংক্রমণ হচ্ছে সে বিষয়ে গবেষণা চালাচ্ছে আইসিএমআরের এক্সপার্ট প্যানেল। এখনও অবধি যদিও ভারতে করোনার রিইনফেকশনের সংখ্যা কম, তবুও এই ব্যাপারটা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পুনঃসংক্রমণ ঠেকাতে কী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে সে ব্যাপারেও আলোচনা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি গুজরাতেও করোনার পুনঃসংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তিনজন কমবয়সী ডাক্তার ও একজন ৬০ বছরের প্রৌঢ়ার শরীরে দ্বিতীয়বার ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে। ডাক্তাররা বলছেন, ওই চারজন তিনমাসের মধ্যেই পুনঃসংক্রামিত হয়েছেন।  আর আশ্চর্যের ব্যাপার হল একজনের শরীরেও ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়নি।

এর আগে বেঙ্গালুরুতে  ২৭ বছরের এক তরুণীর শরীরে করোনাভাইরাসের রিইনফেকশন ধরা পড়েছিল।  কোভিড পরীক্ষা করে ডাক্তাররা বলেছিলেন, দ্বিতীয়বার নতুন কোনও ভাইরাল স্ট্রেন সক্রিয় তাঁর শরীরে। তেলঙ্গানার দুই স্বাস্থ্যকর্মীর সেরে ওঠার পরেও দ্বিতীয়বার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, রিইনফেকশন তখনই হবে যখন পরপর ভিন্ন ভাইরাল স্ট্রেন শরীরে ঢুকে সংক্রমণ ছড়াবে। আর সেটা তখনই সম্ভব হবে যখন রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে তেমনটাই হচ্ছে। করোনা সারালেও অ্যান্টিবডি রোগীর শরীরে বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না। ভাইরাসের প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি থাকছে মাত্র তিন মাস। তার পরেই এক ধাক্কায় অ্যান্টিবডির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সার্স ভাইরাসের সংক্রমণের সময় দেখা গিয়েছিল রোগীদের শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছিল তার স্থায়িত্ব ছিল ২-৩ বছর, মার্স ভাইরাসের সময় কম করেও ৩১ মাস। কিন্তু করোনা সংক্রমণে এই অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব খুবই কম। তাছাড়া জিনের গঠন বদলে মানুষের শরীরে ঢোকা ও টিকে থাকার কৌশল শিখে ফেলেছে এই ভাইরাস। তাই একবার সংক্রমণের পরেও রোগীর ফের সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More