শনিবার, অক্টোবর ১৯

ট্রাফিক আইন ভাঙলে মোটা ফাইন, রাস্তার গর্তে যে প্রাণ যায় যায়, তার বেলা? টুইটে প্রশ্ন তুললেন হর্ষ গোয়েঙ্কা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রাফিক আইন ভাঙলে এখন ঘোর বিপদ। মোটা অঙ্কের টাকা গলে যাবে পকেট থেকে। নতুন মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট কার্যকর হয়েছে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে। দেশজুড়ে চলছে ধরপাকড়। কিন্তু সে না হয় হল, শিল্পপতি হর্ষ গোয়েঙ্কা খানাখন্দ ভরা রাস্তায় টোটো উল্টে যাওয়ার ভিডিয়ো টুইট করে প্রশ্ন তুললেন, এর জন্য কার জরিমানা হবে?

যে ভিডিয়োটি টুইট করেছেন এই শিল্পপতি, তাতে দেখা যাচ্ছে একটি রাস্তার মাঝখানে বিরাট গর্ত। পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে  যাত্রীভরা টোটোটি চিৎপটাং। আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে সোজা করে টোটোটিকে। তারপর যাত্রীদের বার করা হয়। তাঁর প্রশ্ন, রাস্তার এমন অবস্থার জন্য এই যে ঘটনাটা ঘটল, এর জন্য কার জরিমানা হবে?

কোথাও অটোচালকের ফাইন যাচ্ছে ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা, কোথাও ট্রাক চালকের পকেট থেকে গিয়েছে ৫৯ হাজার। ট্রাফিক আইন কতটা কড়া, তা বোঝাতে সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি বলেছেন, তাঁকেও ফাইন দিতে হয়েছে। সেই চালান গিয়েছে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছেও। বোঝাতে চেয়েছেন, আইন এতটাই কড়া যে, ছাড় নেই মোদী মন্ত্রিসভার সদস্যেরও।

কিন্তু গোয়েঙ্কার টুইট দেখে সকলেই বলছেন, এটা সাধারণ মানুষের মনের কথা। সেটাকেই তুলে ধরেছেন এই শিল্পপতি। তাঁদের বক্তব্য, হেলমেট না পরে মোটর সাইকেল চালালে যেমন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা প্রবল, ঠিক তেমনই রাস্তার এমন হালের জন্য আকছার দুর্ঘটনা ঘটে। গোয়েঙ্কার টুইটে যে রাস্তা দেখা গিয়েছে, তা কোন রাজ্য বা কোন শহর তা স্পষ্ট নয়। তবে সারা দেশেই শহরে-মফস্বলে, গ্রামে-গঞ্জে এমন রাস্তা বহু রয়েছে। অনেকের মতে, এই শিল্পপতি আসলে বোঝাতে চেয়েছেন, শুধু ট্রাফিক আইনে কড়াকড়ি করলেই হবে না। দুর্ঘটনা রুখতে রাস্তার হাল ফেরানোটাও জরুরি।

আমজনতার অভিযোগ, দুটি কারণে রাস্তার এই করুণ দশা হয়। বৃষ্টি-বর্ষা বেশি হওয়াটা যেমন একটা প্রাকৃতিক কারণ, তেমনই সরকারি কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যায়। রাজ্য ভেদে, সরকার ভেদে ঠিকেদারের কাজে অনেক ক্ষেত্রেই যে গুরুতর ত্রুটি থেকে যায়, বিবিধ কারণে যে টাকা সরকার খরচ করে সেই অনুযায়ী কাজ হয় না। এবং কাজের সেই ত্রুটির জন্যই একটি বর্ষা গেল কী গেল না রাস্তা ভেঙেচুরে এই রকম বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হয়।

Comments are closed.