গুণ্ডা আইন পাশ করল গুজরাত, সমাজবিরোধীদের দমন করতে এ বার কড়া দাওয়াই

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, ‘গুণ্ডা’ হল এমন একজন ব্যক্তি যে নিজের ক্ষমতা বলে মানুষকে হুমকি দেয়, অত্যাচার করে। তা সে একা করতে পারে বা একটা দল পাকিয়ে করতে পারে।

৫৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুণ্ডা ও সমাজবিরোধীদের কঠোর হাতে দমন করতে বুধবার নতুন বিল পাশ হল গুজরাত বিধানসভায়। যে বিলে বলা হয়েছে, পুলিশ চাইলে গুণ্ডা, দুষ্কৃতীদের তিরিশ দিন পর্যন্ত হেফাজতে রাখতে পারে। অর্থাৎ আদালতে পেশ করার পর এক মাস পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখা যেতে পারে তাদের। শুধু তাই নয়, বর্তমানে এ ধরনের ঘটনায় ৬০ দিনের মধ্যে পুলিশকে চার্জশিট পেশ করতে হয়। প্রস্তাবিত আইনে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ৯০ দিন করা হয়েছে। তা ছাড়া গুণ্ডামি, মস্তানির জন্য সাত থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এই বিলে।

গুণ্ডা কারা? তার সংজ্ঞা কী?

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, ‘গুণ্ডা’ হল এমন একজন ব্যক্তি যে নিজের ক্ষমতা বলে মানুষকে হুমকি দেয়, অত্যাচার করে। তা সে একা করতে পারে বা একটা দল পাকিয়ে করতে পারে। আইনে এও বলা হয়েছে, যারা জনজীবনের শান্তি নষ্ট করতে অপরাধমূলক কাজ করে তারাই হল গুণ্ডা বা সমাজবিরোধী।

আইনে গুণ্ডা কার্যকলাপ বলতে মাদক পাচার, জবরদখল, তোলাবাজি, সম্পত্তির ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি, শিশু ও মহিলা পাচারের ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে। তা ছাড়া ‘লাভ জেহাদ’-কেও গুণ্ডা কার্যকলাপ বলা হয়েছে।

বিলটি আজ বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর তা রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হচ্ছে। রাজ্যপাল সই করলেই তা আইনে পরিণত হবে। এ মাসের গোড়ায় এই মর্মে গুজরাতে একটি অর্ডিন্যান্স তথা অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। সেই অধ্যাদেশ বদলে এবার বিল পাশ হল বিধানসভায়। গুজরাত বিধানসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সমস্যা নেই। তাই বিলে পাশে অসুবিধাও হয়নি। বিল পাশের পর গুজরাতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদীপ সিং জাদেজা বলেছেন, রাজ্যে শান্তি শৃঙ্খলা সুষ্ঠু ভাবে বজায় রাখতেই এই আইন জরুরি হয়ে পড়েছিল। তাই তা পাশ করাতে দেরি করল না সরকার।

তবে কংগ্রেস এই বিল নিয়ে আপত্তি করেছে। রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব ও মানবাধিকার কর্মীদের একাংশের এই বিল নিয়ে উদ্বেগ অমূলক নয়। তাঁদের আশঙ্কা আইনের অপব্যবহার হতে পারে। পুলিশ যাকে তাকে গ্রেফতার করে এই আইনে এক মাস হেফাজতে রেখে দিতে পারে। তা ছাড়া রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতেও এই আইনকে হাতিয়ার করা হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। বাংলায় যেমন, অধীর চৌধুরীরা বলেন, পুলিশ রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে এখানে নারকোটিক্স আইনের ধারা ব্যবহার করে। কারণ, তাতে জামিন মেলে না।

গুজরাতের বিরোধী দলনেতা পরেশ ধানানি এদিন বলেন, অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য ফৌজদারি আইন রয়েছে। নতুন আইনের প্রয়োজন ছিল না। রাজ্য সরকার অকর্মণ্য, তাই ব্যর্থতা ঢাকতে এ সব করছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More