সেজেগুজে ভোটের লাইনে বর, পিছনে বরযাত্রীও

ভোট দিয়েই ওই যুবক উঠে পড়েন ফুল দিয়ে সাজানো একটি দুধসাদা গাড়িতে। গাড়ি রওনা দেয় চণ্ডীগড়ের উদ্দেশে। তারপর একে একে বরযাত্রীরাও ভোট দিয়ে উঠে পড়েন বাসে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ে করছেন বলে তো আর গণতান্ত্রিক অধিকার ছাড়া যায় না!

    তাই ছাদনাতলায় বসার জন্য রওনা দেওয়ার আগে সেজেগুজে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লেন বর। তাঁর পিছনে ভোটের লাইনে দাঁড়াল বরযাত্রীও।

    শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির গ্রেটার কৈলাস বিধানসভা কেন্দ্রে। স্থানীয় এক যুবকের আজকেই বিয়ে। তিনি যাবেন চণ্ডীগড়। হাতে সময় নিয়েই সমস্ত পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। তাই সেজেগুজে বুথে চলে আসেন ওই যুবক। পরনে শেরওয়ানি, মাথায় পাগরি। তাঁকে দেখেই লাইনে দাঁড়ানো অন্য ভোটাররা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তারপর দেখা যায় তিনি একা নন। তাঁর আত্মীয়স্বজনও চলে আসেন লাইনে। প্রায় ৪০ জন বরযাত্রী দাঁড়িয়ে পড়েন ভোট দিতে।

    ওই যুবক সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁদের রওনা হওয়ার কথা বেলা সওয়া ১২টা নাগাদ। তাই হাতে একঘণ্টা সময় নিয়ে ভোটের লাইনে চলে আসেন। যতই হোক, ভোটাধিকার তো আর ছাড়া যায় না। ভোট দিয়েই ওই যুবক উঠে পড়েন ফুল দিয়ে সাজানো একটি দুধসাদা গাড়িতে। গাড়ি রওনা দেয় চণ্ডীগড়ের উদ্দেশে। তারপর একে একে বরযাত্রীরাও ভোট দিয়ে উঠে পড়েন বাসে।

    দিল্লির ভোট নিয়ে এবার টানটান উত্তেজনা। বেলা ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে  ১৫ শতাংশের কিছু বেশি। কেন্দ্র শাসিত দিল্লির মোট আসন ৭০টি। গতবার অরবিন্দ কেজরিওয়াল তথা আপের সামনে দাঁড়াতে পারেনি কোনও দলই। কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছিল কংগ্রেস, বিজেপি। একাই ৬৭টি আসন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছিলেন কেজরি। কিন্তু এবার?

    ভোটের পূর্বাভাষ দিতে গিয়ে বেশ কয়েকটি সংস্থার সমীক্ষা ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। তাতে প্রায় সব সংস্থাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিচ্ছে আপকে। ম্যাজিক ফিগার ৩৬-এর বেশি আসন পাবে বলেই অনুমান করেছে তারা। যদিও এই সবকটি সমীক্ষাই শেষ হয়েছে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে। ফলে তারপর থেকে অনেক জল গড়িয়েছে। শাহিনবাগ, জামিয়ার সামনে গুলি চালানো থেকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে সরাসরি আতঙ্কবাদী বলে দেওয়ার মতো উগ্র মেরুকরণ ঘটেছে দিল্লিতে।

    লোকসভা ভোটে ৩০০-র বেশি আসন নিয়ে সরকারে এলেও রাজ্যগুলির ভোটে বিশেষ সুবিধে পায়নি বিজেপি। হরিয়ানায় টায়েটুয়ে সরকার গড়েছে গেরুয়াশিবির। মহারাষ্ট্রের মসনদ হাতছাড়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের জোট শরিক শিবসেনা বেরিয়ে গিয়ে কংগ্রেস-এনসিপির সঙ্গে সরকার গড়েছে। হাতছাড়া হয়েছে ঝাড়খণ্ডের মসনদও। ফলে ক্রমশ রাজ্যগুলি থেকে ফিকে হতে শুরু করেছে গেরুয়া রঙ। তাই যেখানে বসে মোদী-শাহ দেশ চালান সেখানেও যদি বিজেপিকে হারতে হয় তাহলে তা ধাক্কা বইকি। তাই কোমর বেঁধে নেমে প্রচার করেছেন তাবড় নেতারা। এখন দেখার ১১ তারিখ ইভিএম থেকে কী ফল বেরোয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More