রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুন, মাথা কেটে কিশোরীর নগ্ন দেহ আস্তাকুঁড়ে ফেলে গেল তারই দুই দাদা ও কাকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রামের বাইরে নিরিবিলি জায়গায় আস্তাকুঁড়ের মধ্যে কিশোরীর রক্তাক্ত নগ্ন দেহ পড়ে থাকতে দেখে চমকে উঠেছিলেন পুলিশ কর্তারা। শরীরের সঙ্গে মাথাটাই নেই। সেটা কেটে ফেলে রাখা হয়েছে কিছুটা দূরে। কিশোরীর সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত। দেহে পচন শুরু হয়ে গেছে।

ঘটনাস্থল মধ্যপ্রদেশের সাগর। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরীর বয়স বছর বারো। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট খুন করার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। শরীরে পাশবিক নির্যাতনের চিহ্ন স্পষ্ট। শ্বাসরোধ করে খুন করে তার সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত করা হয়। তার পর মাথা কেটে ফেলে দিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাইরে একটি আস্তাকুঁড়ের মধ্যে।

সাগর থানার পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক অমিত সাংঘি জানিয়েছেন, পারিবারিক বিদ্বেষের জেরেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে কিশোরীরই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের দিকে। ধর্ষণ ও খুনের পিছনে মেয়েটির দাদা ও কাকার হাত রয়েছে বলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কিশোরীর বাবা। গত ১৩ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিল মেয়েটি। তার বাবা জানিয়েছেন, স্কুলে গিয়ে আর ফিরে আসেনি সে। তারপরই থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেন তিনি।

তদন্তকারীদের কথায়, কিশোরীর কাকা থাকেন তার বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই। দীর্ঘদিন ধরেই দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ চলছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, জমির মালিকানা নিয়ে এই ঝামেলার সূত্রপাত। কিশোরীর কাকা ও দুই দাদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক অমিত সাংঘির কথায়, তিনজনকেই জেরা করা চলছে। তাদের কথাবার্তাও অসংলগ্ন। কিশোরীর কাকার দাবি এই ঘটনায় নাকি যোগ রয়েছে ছোটে পাটিল নামে গ্রামেরই এক ব্যক্তির। পরে আবার সেই বয়ান বদলে দেন তিনি। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে কিশোরীর রক্তমাখা জামাকাপড় ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। মনে করা হচ্ছে এই অস্ত্র দিয়েই খুন করা হয় মেয়েটিকে। তিন জনকে জেরা করে যতটুকু জানা গেছে, তাতে পুলিশের ধারণা মেয়েটি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে অপহরণ করে তারই এক দাদা। পরে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তিনজনে মিলে তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। তার পর শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করে, মাথা কেটে ফেলে দিয়ে আসে গ্রামের বাইরে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, খুন-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Comments are closed.