আইইডি, ডিটোনেটর থেকে সুইসাইড ভেস্ট, বড় নাশকতার সব সরঞ্জাম উদ্ধার দিল্লিতে ধৃত আইসিস জঙ্গির বাড়ি থেকে

১৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোগা-পাতলা চেহারা। কেউ দেখলে ভাবতেই পারবে না, এই চেহারার পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক আইসিস জঙ্গি। আবার যে সে জঙ্গি নয়, রাজধানীতে বড় নাশকতার জন্য নিজেকে পুরোপুরি তৈরি করা এক জঙ্গি। কিন্তু নাশকতার আগেই দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেলের হাতে গ্রেফতার হয়েছে আইসিস জঙ্গি আবু ইউসুফ খান। উত্তরপ্রদেশে তার বাড়িতে হানা দিয়ে হতবাক পুলিশ। সেইসঙ্গে বলরামপুর থেকে আবুকে সাহায্য করার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। 

জানা গিয়েছে, রীতিমতো বোমা তৈরির কারখানা বানিয়ে ফেলেছিল আবু। কী পাওয়া যায়নি তার বাড়িতে। তার, বারুদ, ডিটোনেটর, আইইডি, সুইসাইড ভেস্ট, আইসিস জঙ্গি গোষ্ঠীর পতাকা, সবকিছুই উদ্ধার হয়েছে তার বাড়ি থেকে। এই সবই প্রমাণ করে, বড় নাশকতার জন্য তৈরি হয়েছিল আবু। দরকার পড়লে আত্মঘাতী হামলাও ঘটাত সে। কিন্তু নিজের উদ্দেশ্যকে কাজে পরিণত করার আগেই দিল্লি পুলিশ ধরে ফেলে তাকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, আবুকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের অনুমান, লোন উল্ফ কায়দায় হামলার ছক ছিল আবুর। যাতে কারও সন্দেহ না হয়, তাই একাই হামলা চালাতে চেয়েছিল সে। একাধিক ব্যক্তি ও স্থানকে নিজের নিশানা করেছিল সে। কিন্তু এই কাজে আরও অনেকের সাহায্য পেয়েছে আবু। যাদের কাছে বোমা বানানোর সরঞ্জাম থেকে শুরু করে বাইক, সব কিছু পেয়েছে সে। আবুকে জেরা করে তাদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্তও।

শুক্রবার গভীর রাতে দিল্লির ধৌলা কুঁয়া এলাকায় পুলিশের বিশেষ দলের সঙ্গে এনকাউন্টার হয় আবুর। শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয় তাকে। তার কাছ থেকে দুটি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি উদ্ধার হয়। তার পরেই জানা যায় সে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। তার বাড়িতে হানা দিয়ে এই সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল যে শুক্রবার রাতে ধৌলা কুঁয়া ও করোল বাগের মধ্যে আইসিস সদস্যের কিছু গতিবিধি রয়েছে। সেইমতো তৈরি ছিল পুলিশ। তারা আগে থেকেই সেখানে জাল বিছিয়ে রাখে। সেই জালে পা দেয় আবু। তারপরেই শুরু হয় এনকাউন্টার। সেনাবাহিনীর স্কুলের সামনে এই গুলির লড়াই চলে। মোট ৫ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য পুলিশের জালে ধরা পড়ে সে।

সম্প্রতি আইসিস জঙ্গি দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বেঙ্গালুরুর এক মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারকে গ্রেফতার করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ। ২৮ বছরের আব্দুর রহমান বেঙ্গালুরুর এমএস রামাইয়া মেডিক্যাল কলেজে কাজ করত। আইসিসের শাখা সংগঠন ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স বা আইএসকেপি জঙ্গিদলের সঙ্গে তার যোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে। একটি মেডিক্যাল অ্যাপলিকেশন তৈরি করছিল রহমান, যাতে আহত আইসিস সদস্যদের সহজে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়। তার সঙ্গে কিছু অস্ত্র তৈরি করার ব্যপারেও যুক্ত ছিল রহমান।

চলতি বছর মার্চ মাসে দিল্লির জামিয়া নগরের ওকলা বিহার থেকে জাহানজাইব সামি ওয়ানি ও হিনা বশির বেগ নামের এক কাশ্মীরি দম্পতিকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল। জেরায় ওই কাশ্মীরি দম্পতি জানায় তারা আইসিসের শাখা সংগঠন আইএসকেপির সদস্য। ভারতে নাশকতার ছক ছিল তাদের। আইসিসের আবু ধাবি মডিউলের এক সদস্য আবদুল্লাহ বাসিথের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। আবদুল্লাহ বাসিথকেও গ্রেফতার করে এনআইএ। এই ঘটনাগুলো থেকেই পরিষ্কার ভারতে সক্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে আইসিস। তাই এভাবে বারবার নাশকতার চেষ্টা করছে তারা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More