পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে এ বার ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : জম্মু কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়া হয়েছে। এ বার সামনে লক্ষ্য পাক অধিকৃত কাশ্মীর, এমনটাই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তাঁর বক্তব্য, কাশ্মীরের লোকেরা এ বার প্রার্থনা করুন, অদূর ভবিষ্যতে যেন দুই কাশ্মীর এক হয়ে যায় এবং তা ভারতের মধ্যেই থাকে।

    জম্মুতে বিজেপি দফতরে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় যোগ দিতে গিয়ে এ কথা বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ভাগ্যবান যে আমাদের বেঁচে থাকতে এই ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটল। এটা আমাদের আগের তিন প্রজন্মের ত্যাগের ফলেই সম্ভব হয়েছে।”

    এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর এ বার পাক অধিকৃত কাশ্মীরের দিকে ভারতের নজর দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন জিতেন্দ্র। তিনি বলেন, “এ বার আমাদের লক্ষ্য পাক অধিকৃত কাশ্মীর। পাকিস্তানের বেআইনি কব্জা থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে স্বাধীন করে এনে তাকে ভারতের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ১৯৯৪ সালে সংসদে এই বিষয়ে যে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তাকেই করে দেখানোর সময় এসেছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখতে চাই, ভারতের মুসলিমরা কোনও বাধা ছাড়াই মুজফফরাবাদের দরগায় প্রার্থনা করতে যাচ্ছেন।”

    কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়ার আগে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে। এই বিষয়ে প্রতিবাদ করেছিল কংগ্রেস। কংগ্রেসের এই প্রতিবাদকে বাড়াবাড়ি বলেই উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, “সেখানে শান্তি বজায় রাখতে সেই সময় কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। কংগ্রেস তো নিজেরাও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা শেখ আবদুল্লাহকে গ্রেফতার করেছিল। এই ধরণের ঘটনা তো এর আগেও কাশ্মীরে ঘটেছে।”

    ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার ঘটনাও যে বিজেপি সরকারের এক অন্যতম সাফল্য, তা এ দিন পরিষ্কার করে বলেন জিতেন্দ্র। তিনি বলেন, “৩৭০ ধারা এক ঐতিহাসিক ভুল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই ধারা প্রচলন করাটাই অনৈতিক ছিল। এর ফলে এতদিন ধরে কাশ্মীরের মানুষকে এক মোহের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে উন্নয়ন হয়নি, জীবনযাত্রার মান বাড়েনি। অথচ এই ধারার ফলে দেশের বাকি জায়গার মানুষদের সঙ্গে কাশ্মীরিদের দূরত্ব বেড়েছে। তাই আমরা সবাইকে এক করে দিয়েছি।”

    এর ফলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলেও দাবি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, “অটলজি চেয়েছিলেন কাশ্মীরে ইনসানিয়ত ( মানবতা ), জামুরিয়ত ( গণতন্ত্র ) ও কাশ্মীরিয়ত প্রতিষ্ঠা হোক। স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়ার ফলে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। বাকি দুটো প্রতিষ্ঠা করার কাজ চলছে।”

    কাশ্মীরে এই ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশগ তৈরি করে রাখার জন্য নাম না করে ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপির মতো দলকে দায়ী করেছেন জিতেন্দ্র কুমার। তিনি বলেন, “উপত্যকায় এমন অনেক দল রয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থের জন্য কাশ্মীরে শান্তি চায় না। কিন্তু এ বার সময় হয়ে এসেছে তাদের আসল চেহারাটা সবার সামনে তুলে ধরার।”

    এর আগে রবিবার হরিয়ানাতে একটি জনসভায় যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “ইসলামাবাদের সঙ্গে যদি দিল্লিকে আলোচনাতে বসতে হয়, তাহলে সেটা হবে পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে নয়। ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা তখনই সম্ভব, যখন তারা সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করবে।” প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সুরই এ বার দেখা গেল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং-এর গলায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More