শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

বউ পাল্টাপাল্টি! বিকৃত যৌনতায় ক্লান্ত স্ত্রীয়ের অভিযোগে পাকড়াও স্বামী-সহ চার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বউ বদল! সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে যার পোশাকি নাম ‘ওয়াইফ সোয়াইপিং।’ অর্থাৎ সম্মতি সহকারে একে অন্যের সঙ্গী বদল। কিন্তু এই সম্মতি যদি জোরজবরদস্তিতে বদলে যায়, তাহলে সেটা ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনেরই সামিল হয়। যেমনটা হয়েছে কেরলের কায়ামকুলামে। প্রথম প্রথম বিষয়টা উপভোগ করলেও পরে স্বামীর মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচারে বিপর্যস্ত স্ত্রী দ্বারস্থ হন পুলিশের। তাঁর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর স্বামী-সহ চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছর মার্চে। নির্যাতিতার কথায়, তাঁর স্বামী কিরণের সঙ্গে শেয়ারচ্যাট নামে একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ হয় তিনজনের। কিছুদিনের মধ্যেই কুলশেখরাপুরমের বাসন্দা সিদি, কেরালাপুরমের উমেশ ও থিরুভাল্লার ব্লেসারিনের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে  কিরণের। এই চারজনই ঠিক করে ওয়াফিং সোয়াইপিং বা সঙ্গী বদলের খেলায় মেতে উঠবে।

কিরণের স্ত্রীয়ের কথায়, প্রথম প্রথম তাঁর বন্ধুদেরই শয্যাসঙ্গী হতে বলা হত তাঁকে। একবার, দু’বার সঙ্গী বদল করে যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে এই বিষয়টা ভয়ঙ্কর চেহারা নিতে থাকে। মহিলার অভিযোগ, নানা জায়গা থেকে লোকজন ধরে এনে তাঁদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে বলতেন কিরণ। আপত্তি করলে চলত মারধর। শেষে কোনওরকমে পালিয়ে এসে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পুলিশ সুপার আর বিনু জানিয়েছেন, ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতেই কিরণ-সহ তাঁর চার বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বউ বদল বা ওয়াফিং সোয়াইপিং বিষয়টা বিকৃত যৌনতার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সমীক্ষা বলছে, দেশের মেট্রো শহরগুলিতে বিশেষত নয়াদিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, কলকাতায় ওয়াফিং সোয়াইপিংয়ের নিদর্শন ভূরি ভূরি। ২০১৩ সালে নৌসেনাদের বউ বদলের একটি অভিযোগ সামনে আসে। এর আগে কলকাতার একটি বিখ্যাত স্বর্ণ বিপণির মালিক পরিবারের বধূ কড়েয়া থানায় ধর্ষণ, বিকৃত যৌন অত্যাচার এবং নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছিলেন। চেতলার বাসিন্দা ওই তরুণী তাঁর অভিযোগে জানিয়েছিলেন, পারিবারিক প্রথার নামে তাঁকে দীর্ঘ দিন ধরে ধর্ষণ করতেন তাঁর ভাশুর। এই বিকৃত যৌনতায় সঙ্গ দিতে তাঁর স্বামী তাঁকে বাধ্য করতেন।

Comments are closed.