বৃহস্পতিবার, জুন ২০

দম ধরে থাকলেন অলোক বর্মা, দমকলে না গিয়ে পদত্যাগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার তাঁকে সিবিআই প্রধানের পদে বসিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার কাজে যোগও দিয়েছিলেন অলোক বর্মা। কিন্তু মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ফের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি তাঁকে সরিয়ে দেয় সিবিআই প্রধানের পদ থেকে। করা হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে দমকলের ডিরেক্টর জেনারেল। শুক্রবার সেই পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অলোক বর্মা।

কিন্তু কেন তিনি পদত্যাগ করলেন এই দায়িত্ব থেকে?

আরও পড়ুন Breaking: ঘুষ মামলা বাতিল করতে রাকেশ আস্থানার আর্জি খারিজ দিল্লি হাইকোর্টের, বাধা নেই গ্রেফতারিতেও

সংবাদমাধ্যমের সামনে অলোক বর্মা জানিয়েছেন, ‘উচ্চপর্যায়ের কমিটির সিদ্ধান্তে ন্যায়বিচার হয়নি। আমাকে যেনতেন প্রকারে পদ থেকে সরানোর জন্য সবকিছুকে উলটো পালটা করে দেওয়া হয়েছে।’ আর তাই তিনি তাঁর নতুন দায়িত্ব নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

অলোক বর্মা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সিবিআই প্রধানের দায়িত্ব সামলাবেন কিনা তা নিয়ে আলোচনার জন্য যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তার মাথায় ছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি ছাড়া ওই কমিটিতে ছিলেন কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং বিচারপতি এ কে সিক্রি। সুপ্রিম কোর্টের যে বেঞ্চ অলোক বর্মাকে সিবিআই ডিরেক্টর পদে ফিরিয়ে দিয়েছিল, তার সদস্য ছিলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তাই তিনি নিজে আর উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে থাকেননি। প্রতিনিধি রেখেছিলেন সিক্রিকে।

সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশনের অভিযোগের ভিত্তিতে কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, বর্মাকে সরিয়ে দেওয়া হবে। যদিও মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ভিজিলেন্স কমিশনের মূল অভিযোগগুলিই এখনও প্রমাণিত হয়নি। তিনি একটি ডিসেন্ট নোট দেন। তাতে বলা হয়েছে, বর্মার বিরুদ্ধে ঘুষ খাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তাঁরই ডেপুটি রাকেশ আস্থানা। তিনি বলেন, হায়দরাবাদের এক ব্যবসায়ীর থেকে বর্মা ২ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। কিন্তু এখনও সেই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। তাই এ বিষয়ে আরও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

গত বছর অক্টোবর মাস থেকে দুই আইপিএস অফিসারের ঝগড়ায় প্রায় গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল দেশের এক নম্বর তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের অন্দর মহলে। অক্টোবরের ২৩ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর দফতর সিদ্ধান্ত নেয় ছুটিতে পাঠানো হবে বিবদমান দুই কর্তাকেই। রাত প্রায় দু’টোর সময়ে সিবিআই প্রধানের দায়িত্ব নেন নাগেশ্বর রাও।

এই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। রাহুল গান্ধী সোজাসাপটা অভিযোগ করেন, রাফায়েল নিয়ে তদন্ত করতে চাইছিলেন বলেই অলোক বর্মাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যান অলোক বর্মাও। অবশেষে বুধবারেই অলোক বর্মাকে অপসারণ করার মধ্যরাতের সেই সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। বড়সড় ধাক্কা খায় মোদী সরকার।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Comments are closed.